নতুন আইন: ফাইন্যান্স কোম্পানির পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ সীমা নির্ধারণ: বিএসইসিকে অগ্রাধিকার

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন ১৯৯৩ বাতিল করে সময়পোযোগী করে তৈরি করতে নতুন ফাইন্যান্স কোম্পানি আইন ২০২০ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ২৬ জানুয়ারি অর্থ মন্ত্রনালয় থেকে নতুন এই আইনের খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত খসড়া আইন অনুযায়ী, ফাইন্যান্স কোম্পানির পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পরিচালনা পর্ষদ গঠন থেকে শুরু করে পুঁজিবাজার সংক্রান্ত যেকোন বিষয় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রনালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, ফাইন্যান্স কোম্পানির লাইসেন্স পেতে হলে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধিত হতে হবে। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক হতে এই আইনের অধীনে লাইসেন্স গ্রহণ করতে হবে। প্রকাশিত খসড়া আইনের উল্লেখযোগ্য দিক হলো: প্রত্যেক ফাইন্যান্স কোম্পানির পুঁজিবাজারে বিনিয়োগসীমা সমষ্টিগতভাবে তার পরিশোধিত মূলধন ও রিজার্ভের মোট পরিমাণের ২৫ শতাংশের অধিক হবে না। তবে শর্ত থাকে যে, আবেদন সাপেক্ষে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনক্রমে কোন ফাইন্যান্স কোম্পানির পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ সীমা অনধিক ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা যেতে পারে। কোন ফাইন্যান্স কোম্পানি সাবসিডিয়ারি ভিন্ন অন্য কোন কোম্পানিতে তার পরিশোধিত মূলধন ও রিজার্ভের শতকার ৫ ভাগের অধিক শেয়ার অর্জন বা ধারণ করতে পারবে না। তবে শর্ত থাকে যে, এই আইন কার্যকর হওয়ার ৫ বছরের মধ্যে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন সাপেক্ষে আরো ৩ বছরের মধ্যে প্রত্যেক ফাইন্যান্স কোম্পানি অন্য কোন কোম্পানিতে তার অর্জিত বা ধারণকৃত শেয়ার বর্ণিত সীমার মধ্যে নামিয়ে আনবে।

এদিকে খসড়া আইনে পরিচালনা পর্ষদ গঠনে বিএসইসিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, এ আইনে বা বিদ্যমান অন্য কোন আইনে অথবা ফাইন্যান্স কোম্পানির সংঘ-স্মারক বা সংঘ-বিধিতে যাই কিছু থাকুক না কেন, ন্যূনতম তিনজন স্বতন্ত্র পরিচালকসহ কোন ফাইন্যান্স কোম্পানির পরিচালক সংখ্যা ১৫ জনের অধিক হবে না। তবে শর্ত থাকে যে, এই ধারার বিধান তালিকাভুক্ত ফাইন্যান্স কোম্পানির স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের কর্তৃত্বকে ক্ষুণ্ন করবে না।

ফাইন্যান্স কোম্পানির পরিচালকদের মেয়াদ হবে ৩ বছর। কোন পরিচালক একাদিক্রমে তিন মেয়াদের অধিক উক্ত পদে থাকতে পারবেন না। মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ হতে তিন বছর পর তিন পুনরায় পরিচালক হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করবেন।

এদিকে ফাইন্যান্স কোম্পানির ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে খসড়া আইনে বলা হয়েছে, ফাইন্যান্স কোম্পানি কর্তৃক কোন একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপকে বা উক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাব আছে এমন কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপের অনুকূলে প্রদেয় ঋণ বা অন্যান্য আর্থিক সুবিধা তার পরিশোধিত মূলধন এবং রিজার্ভের ৩০ শতাংশের অধিক বা বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি সহকারে ১০০ শতাংশের অধিক হবে না।

উল্লেখিত বিষয় ছাড়াও ফাইন্যান্স কোম্পানি আইন,২০২০ এর খসড়া আইনে যুগপোযোগী বিভিন্ন নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতামত সাপেক্ষে আইনটি চূড়ান্তভাবে কার্যকর হবে এবং পুরনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন, ১৯৯৩ বাতিল করা হবে।

 

 

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top