পোর্টফোলিও সন্তান সমতুল্য: এতে জবরদস্তি হস্তক্ষেপ অপমানজনক

Editorialশেয়ার বাজারের যেসব বিনিয়োগকারী বিভিন্ন হাউজ বা মার্চেন্ট ব্যাংকের কাছ থেকে মার্জিন ঋণ নিয়ে এতদিন ব্যবসা করেছেন তারা এখন থেকে তাদের নিজস্ব ব্যাংক হিসাবের খাতায় আর কোম্পানির নগদ লভ্যাংশের টাকা পাবেননা। এই টাকা যোগ হবে সংশ্লিষ্ট হাউজে তার নামের হিসাবের খাতায়। পরে এই টাকা বিনিয়োগকারীর ঋণের টাকার সাথে সমন্বয় করে স্থিতি নির্ধারণ হবে। সম্প্রতি পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) তাদের ৫৪৩তম কমিশন সভায় মার্জিন ঋণধারী বিনিয়োগকারীদের জন্য এ সিদ্ধান্ত গ্রহন করে। এতে আপাত দৃষ্টিতে বিনিয়োগকারীরা কিছুটা নগদ প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত হবেন বলে মনে হলেও আমরা মনে করি প্রকৃত অর্থে এবং দীর্ঘ মেয়াদে বিনিয়োগকারীরাই লাভবান হবেন। কারন একজন বিনিয়োগকারী হাউজ থেকে ঋণ গ্রহনের সময় ঋণ সমন্বয়ের জন্য তার মহামূল্যবান শেয়ারগুলোকে বিক্রি করে দেয়ার যে এখতিয়ার (জ্ঞাতসারে কিংবা অজ্ঞাতসারে) হাউজ কর্তৃপক্ষকে দিয়েছেন সেই যন্ত্রনা কিংবা অপমানের চেয়ে সামান্য লভ্যাংশের টাকা দিয়ে যদি ঋণ সমন্বয়ের ব্যবস্থা নেয়া হয় সেটিকে আমরা কেনো ভালো বলবনা?
সুপ্রিয় বিনিয়োগকারীদের কাছে আমাদের বিনিত অনুরোধ, আপনারা দয়া করে সব সময় একটি বিষয়ের প্রতি বিশ্বাস রাখবেন যে আমাদের এই পত্রিকাটি শতভাগ বিনিয়োগকারী বান্ধব। আমরা কখনোই বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ লঙ্ঘন করে হাউজ মালিক কিংবা কোম্পানি কিংবা শেয়ার বাজারের অন্যান্য স্টেক হোল্ডারদের স্বার্থ বিবেচনায় নেইনা। তাদের খবরাখবর আমরা প্রকাশ করি ঠিকই কিন্তু তাও আমাদের প্রিয় বিনিয়োগকারীর স্বার্থে। আমরা যে আসলে নিরপেক্ষ নই অর্থাৎ বিনিয়োগকারীর পক্ষের একটি পত্রিকা সেটি এতদিন প্রকাশ করা প্রয়োজন বোধ করিনি। কিন্তু মার্জিন ঋণধারীদের জন্য ক্যাশ ডিভিডেন্ড নিয়ে বিএসইসির ঘোষণা আসার পরে এর প্রতি আমাদের সমর্থন নিয়ে বেশ কয়েকজন বিনিয়োগকারী নেতিবাচক মন্তব্য করায় কিছুটা বাধ্য হয়েই আমাদের এ অবস্থান প্রকাশ করতে হলো।
আমরা মনে করি হাউজ থেকে মার্জিন ঋণ নিয়ে ব্যবসা করলেও একজন বিনিয়োগকারীর আর দশজন মানুষের মতন সম্মানের সাথে মর্যাদার সাথে মাথা উচু করে বেঁচে থাকার অধিকার আছে। ঋণ নিয়ে ব্যবসা করা মানে ওই হাউজের কাছে তার মাথা বিক্রি করে দেয়া নয়। আমরা এটাও বিশ্বাস করি যে প্রতিটি বিনিয়োগকারীর নিজস্ব পোর্ট ফোলিও তার নিজের সন্তানের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। এই পোর্ট ফোলিওতে অন্য কেউ বল পূর্বক কিংবা জবরদস্তিমূলক প্রবেশ করে তা বিক্রি করে দেবে সেটা কিছুতেই সম্মানের বিষয় হতে পারেনা। বাস্তব দুনিয়ায় আমরা যখন আমাদের কোন সন্তানের অপরাধ পাই তখন তার বিচার আমরা নিজেদের হাতেই করতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করি কিছুতেই অন্যের হাতে তুলে দিতে চাইনা। এখানেও ঠিক তেমনি নিজের পোর্টফোলিওর শেয়ার অন্য কেউ জোর জবরদস্তি করে বিক্রি করে দেবে এটা কিছুতেই মেনে নেয়া যায়না। আর এই অপমানের হাত থেকে বিনিয়োগকারীদের বাঁচাতেই সম্ভবত বিএসএসি নগদ লভ্যাংশ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তটি নিয়েছে বলে আমরা বিশ্বাস করি। আমাদের এই বিশ্বাসের সাথে আজই সবাইকে একমত হতে হবে এমনটি কোন কথা নয়। কারন আজ না হোক কাল, কাল না হোক পরশু আর তা না হলে তার পরের দিন অদূর ভবিষ্যতে এর সুফল বিনিয়োগকারীরা যেদিন পাওয়া শুরু করবেন সেদিন অন্তত দয়া করে জানাবেন, শেয়ার বাজার নিউজ ডটকমের বিশ্বাস এবং ধারনা যথার্থই ছিল।

আপনার মন্তব্য

*

*

Top