পুঁজিবাজারকে বাংলাদেশ ব্যাংকের অক্সিজেন: প্রশংসনীয় বিএমবিএ

গেল বছরের সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে এডি রেশিও বাড়িয়ে পুঁজিবাজারকে টেনে তুলতে চেষ্টা করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু সেই চেষ্টায় কাজ না হয়ে বরং পুঁজিবাজারের মন্দাবস্থা আরো মন্দা হতে থাকে। নীতিনির্ধারণী মহলগুলোর নানা উদ্যোগেও যখন কাজ হচ্ছিল না তখনই মাঠে নামে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ)। সংগঠনটি পুঁজিবাজারকে গতিশীল করার জন্য ১০ হাজার কোটি টাকার ফান্ড চেয়ে সরকারের নানা মহলে ডোর টু ডোর স্বাক্ষাত করে। অত:পর পুঁজিবাজারকে টেনে তুলতে ফের অক্সিজেন প্রদান করে বাংলাদেশ ব্যাংক। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য প্রতিটি ব্যাংককে ২০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করার সুযোগ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। যদি নিজস্ব টাকা নাও থাকে তবুও ট্রেজারি বিল বা ট্রেজারি বন্ড রেপোর ৫% সুদের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ২০০ কোটি টাকা তহবিল সংগ্রহের সুযোগ রয়েছে। আরেকটি বড় সুযোগ হলো এই বিশেষ তহবিলের অর্থ পুঁজিবাজারে ব্যাংকগুলোর যে এক্সপোজার রয়েছে তার অন্তর্ভুক্ত হবে না। অর্থাৎ পুঁজিবাজারে ব্যাংকগুলোর এক্সপোজার হিসেবে যে বিনিয়োগ করার সুযোগ রয়েছে সেটিতো থাকবেই। পাশাপাশি আরো অতিরিক্ত ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করার সুযোগ পাবে ব্যাংকগুলো। এই সুবিধা ৫ বছর পর্যন্ত ব্যাংকগুলো ভোগ করতে পারবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এরকম সুযোগ প্রদানের পরদিন থেকেই পুঁজিবাজারের চিত্র পাল্টে গেছে।

ব্যাংকগুলোর ফান্ড গঠনের আগেই পুঁজিবাজারে ক্রয় প্রেসার শুরু হয়েছে। লেনদেন বাড়তে শুরু করেছে। সূচক ও বাজার মূলধনে রয়েছে ইতিবাচক প্রভাব। মুখের কথায় যে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে না বরং প্রয়োজন দৃশ্যত পদক্ষেপ সেটি এখন প্রমাণিত। এখন যদি কোন নেতিবাচক কথা কারো মুখ দিয়ে মিডিয়ার মাধ্যমে বের না হয় তাহলে এই বাজার অনেক দূর এগিয়ে যাবে। মানুষের কাছে টাকা নেই বলা হয়। কিন্তু কয়েকদিন মার্কেট গতিশীল থাকলে দেখা যায় টাকার ছড়াছড়ি পড়ে যায়। সেই টাকা তখন কোথা থেকে আসে সেটি বিবেচনা করা হয় না।

বাজার ভালো থাকলে সংশ্লিষ্ট সবাই ভালো থাকে। সিকিউরিটিজ হাউজ,মার্চেন্ট ব্যাংক সরগরম হলে নীতি নির্ধারণী মহলও টেনশন ফ্রি থাকে। শুধুমাত্র এই সেকেন্ডারি মার্কেট খারাপ হওয়ার কারণে প্রাইমারি মার্কেট পঙ্গু হয়ে পড়ে আছে। দীর্ঘদিন কোন আইপিও নেই। আইপিও’র কোম্পানি নিয়ে নানা সমালোচনার কারণে প্রাইমারি মার্কেটের দিকে এখন আর বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) আগের মতো আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। অথচ আইপিওতে যত কোম্পানি আসবে তত মার্কেটের গ্রোথ বৃদ্ধি পাবে। কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি ভালো থাকবে। মাথা ব্যাথার ওষুধ কখনো মাথা কেটে ফেলা হতে পারে না। প্রাইমারি মার্কেট ও সেকেন্ডারি মার্কেটের ব্যালেন্সড করতে পারলেই আসবে প্রকৃত সাফল্য।

মার্কেট ভালো থাকলেই পরামর্শকের অভাব হয় না। টকশো বক্তা আর আইটেমবাজদের রাস্তার ক্যানভ্যাসারিও তখন বেড়ে যায়। অ্যানালাইটিক্যাল রিপোর্ট পাবলিক মুড়ির মতো খায়। কিন্তু মার্কেট খারাপ থাকলে সবাই ঘুমিয়ে পড়ে। যেহেতু মার্কেটের ভালো ওপর সকলের স্বার্থ নিহিত, তাই মার্কেট ভালো করার জন্যই সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে। যার যার অবস্থান থেকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারলেই একটি গতিশীল মার্কেট তৈরি করা সম্ভব। হুজুগে বিনিয়োগকারীরা অলরেডি তাদের আইটেম সিলেক্ট করে ফেলেছে। কোন কোন শেয়ার গত ৩ বছর ডিভিডেন্ড দিয়েছে সেগুলোর তালিকা তৈরি করে টার্গেটে রেখেছে। তাদের ধারণা এগুলোর শেয়ারে যেহেতু ব্যাংকগুলো বিনিয়োগ করবে তাই এখন কিনে রাখলে সামনে বিপুল মুনাফা করা সম্ভব। কিন্তু বেশিরভাগ বিনিয়োগকারী ভুলে গেছে, বরশির আগায় আধার লাগিয়ে পানিতে ফেলা হয় মাছকে খাওয়ানোর জন্য নয়; ধরার জন্য। আউট অব দ্য বক্সে চিন্তা করে যে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেয় তাকেই স্মার্ট বিনিয়োগকারী বলা হয়।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

Top