ব্যাংকের নয়-ছয় ভীতি নয় বরং পুঁজিবাজারের গতি আনবে

আগামী এপ্রিল থেকে ব্যাংকে নয়-ছয় সুদহার কার্যকর হবে। ক্রেডিট কার্ড ছাড়া সব ঋণের সুদহার সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ জন্য ব্যাংকগুলো ইতিমধ্যে আমানতের সুদহার ৬ শতাংশে নামিয়ে এনেছে। ব্যাংকগুলোর এই নয়-ছয় সুদহার নিয়ে বেশ আলোচনা-সমালোচনা চলছে যার প্রভাব শেয়ারবাজারের ওপরও পড়ছে। ধারণা করা হচ্ছে ব্যাংকগুলোর নয়-ছয় কার্যকরে প্রতিষ্ঠানগুলোর আয় কমে যাবে। এতে শেয়ারবাজারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। কিন্তু একটু গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে ব্যাংকের নয়-ছয় এর ফলে ব্যাংকের আয়ে তেমন নেতিবাচক প্রভাব পড়ার কারণ নেই বরং পুঁজিবাজারের গতি আনয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ব্যাংকের নয়-ছয় ভীতির কোন কারণ নেই। এই নয়-ছয়ই পুঁজিবাজারের গতি ফেরাবে।

এখন ব্যাংকের এভারেজ ফান্ড কস্টিং হয় প্রায় ৬%। তখন সেই এভারেজ ফান্ড কস্টিং ৪%’ এর নিচে নেমে আসতে পারে। ৪% এর নিচে যখন কস্ট চলে আসবে আর ৯% এ যখন লেন্ডিং হবে তার সঙ্গে অন্যান্য ইনকাম থাকবে তখন দেখা যাবে ব্যাংকগুলোর স্প্রেড ৫% এর ওপরে থেকেই যাবে। বিদ্যমান ডিপোজিটের কারণে হয়তো সাময়িক প্রভাব পড়তে পারে কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে ব্যাংকগুলোর জন্য ভালোই হবে।

ব্যাংকের তথ্য থেকে দেখা যায় ৪০-৫০% ফান্ড মেয়াদী আমানত হয় যার ওপর ৬% সুদ প্রযোজ্য। কিন্তু একটি বড় অংশ চলতি হিসাবে থেকে যায় যার সুদ দেওয়া হয় না। ফলে গড় ফান্ড কস্ট কমে যায়।

একটা যায়গায় হয়তো ধাক্কা লাগতে পারে কিন্তু সেটাও খুব সামান্য। বিশেষ করে প্রথম প্রান্তিকে। সাধারণত আমাদের দেশের ডিপোজিটের মেয়াদ ৬ মাস থেকে ১ বছর হয়ে থাকে। এখন যে বিদ্যমান ডিপোজিট রয়েছে সেগুলোতো আর ভাঙ্গতে পারবে না। এগুলোর মেয়াদ উত্তীর্ণের সময় পর্যন্ত আগে পারসেন্টটা দেওয়া হতো সেটিই দিতে হবে। এখানে গিয়ে তাদের একটু ধাক্কা লাগতে পারে আর সেটা মাত্র একটা কোয়ার্টার। তারপরে আবার স্প্রেড আগের অবস্থাতেই চলে আসবে। তাই ব্যাংকগুলোর মুনাফা কমে যাওয়ার যে আতঙ্কে বিরাজ করছে সেটি হবে না।

এ ব্যাপারে ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ইস্টার্ণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী রেজা ইফতেখার সম্প্রতি জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ব্যাংক এরই মধ্যে নতুন সুদহারের প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, তাই সেটি বাস্তবায়ন করতেই হবে। সুদহার কমবে—এটা আগে থেকেই আমাদের জানা ছিল, তাই আমরা সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নিয়েছি। এ কারণে বলতে পারি, বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনো ব্যত্যয় হবে না। আগামী এপ্রিল থেকে সব ব্যাংকে ক্রেডিট কার্ড ছাড়া সব ঋণে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদ কার্যকর হবে। কম সুদে আমানত পাওয়া গেলে ৯ শতাংশ সুদে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে বড় কোনো সমস্যা হবে না। আমি মনে করি, জুলাইয়ের পর পরিস্থিতির উন্নতি হবে। কারণ আমাদের কিছু উচ্চ সুদের আমানত নেওয়া আছে। এসব আমানতের মেয়াদ না শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হবে। এখনই বলা যাবে না যে বছর শেষে মুনাফা কমে যাবে। যদি কম সুদে আমানত পাওয়া যায়, তবে ব্যাংকগুলোর মুনাফা খুব বেশি কমবে না। তার চেয়েও বড় কথা, ব্যাংকের নিজস্ব স্বার্থের চেয়ে জাতীয় স্বার্থকে সবার আগে বিবেচনা করতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

আরেকটি বিষয় হলো ব্যাংকের ডিপোজিট রেট কমে যাওয়ার ফলে স্বাভাবিকভাবেই বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ পুঁজিবাজারের দিকে থাকবে। কারণ আমানতকারীরা যেখানে বেশি মুনাফা পাবে সেখানেই বিনিয়োগ করবে। তাই যেসব আমানতকারীরা বেশি মুনাফার প্রত্যাশা করে তারা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করবেন। এতে বাজারে তারল্য বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি গতিশীল হবে। সরকারের এ উদ্যোগ প্রশংসার দাবি রাখে।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top