সেন্ট্রাল ফার্মা শেয়ারে কারসাজির অভিযোগ: তদন্তের দাবি

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ ও রসায়ন খাতের সেন্ট্রাল ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের শেয়ার নিয়ে কারসাজি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা এক শ্রেণীর চক্রের ফাঁদে পড়ে নিজেদের পুঁজি ঝুঁকির মধ্যে ফেলছেন। তাই কোম্পানিটির শেয়ার দরে কোন কারসাজি করা হয়েছে কিনা সে বিষয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগিরা।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, সেন্ট্রাল ফার্মার কিছু ওষুধের লাইসেন্স বাতিল ও ফ্যাক্টরী বন্ধকে কেন্দ্র করে এক শ্রেণীর বিনিয়োগকারী কোম্পানিটির শেয়ার নিয়ে কারসাজি শুরু করে। গেল তিন মাস ধরে ফ্যাক্টরী বন্ধ এবং ওষুধের লাইসেন্স বাতিলের খবর ছড়িয়ে কোম্পানিটির শেয়ার দর কমিয়ে বিপুল পরিমাণ শেয়ার হাতিয়ে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে বাজারে খবর ছড়ানো হয় যে কোম্পানির ওষুধের লাইসেন্স বাতিলের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হবে। কিন্তু নিউজ আসবে দর বাড়ানোর পরে। সেই খবর ছড়িয়ে কোম্পানিটির শেয়ার দর ৮.৫০ টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে অল্প কয়েক কার্যদিবসের মধ্যেই দ্বিগুণ হয়ে যায়। যদিও কোম্পানিটিকে শেয়ার দর বৃদ্ধির পেছনে কোন অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য রয়েছে কিনা সে বিষয়ে ডিএসই’র পক্ষ থেকে জানতে চাইলে সেন্ট্রাল ফার্মা কর্তৃপক্ষ জানায় যে, ২০১৯ সালের ৫ ডিসেম্বর থেকে কোম্পানির ফ্যাক্টরী বন্ধ। এছাড়া কোম্পানির কিছু ওষুধ উৎপাদনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। তাই কোম্পানির বর্তমান নাজুক পরিস্থিতি থাকার পরে কেন এর শেয়ার দর নিয়ে কারসাজি করা হচ্ছে সে বিষয়ে সেন্ট্রাল ফার্মা কিছুই জানে না। এ খবরটি কোম্পানিটি গত ৫ মার্চ জানিয়েছিল। এরপর করোনা আতঙ্কে পুরো পুঁজিবাজারের নাজুক পরিস্থিতিতে সেন্ট্রাল ফার্মার শেয়ার দরও কমে যায়। এরপর ফ্লো প্রাইস নির্ধারণে নতুন নির্দেশনা আসার পর কোম্পানিটির শেয়ার দর বাড়তে থাকে। আজ ২৩ মার্চ সেন্ট্রাল ফার্মা জানিয়েছে যে স্থগিতাদেশ পাওয়া ওষুধের লাইসেন্সের সিদ্ধান্তটি প্রত্যাহার করে নিয়েছে ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। এই খবর ছড়ানোর পরপরই কোম্পানিটির শেয়ার দর আজ বৃদ্ধি পায়। তবে এই দর বৃদ্ধি আঁইওয়াশ এবং কারসাজির অংশ। কারণ এই নিউজ ছড়িয়ে যারা কম দরে শেয়ার মজুত করেছিল তারা বিক্রি করে বের হয়ে যাবে। মধ্যখানে আটকা পড়ে যাবে অতি উৎসাহী কিছু বিনিয়োগকারীরা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজারে কিছু কোম্পানি নিয়ে কারসাজি চক্রের সদস্যরা সবসময়ই সক্রিয় থাকে। তারা কৌশলে নিজের স্বার্থ হাসিল করে অতি মুনাফালোভী বিনিয়োগকারীদের ক্ষতির মুখে ফেলে দেয়। এতে সামগ্রিক পুঁজিবাজার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই এ কোম্পানিটির বিষয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

One Comment;

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top