লেনদেন বন্ধ: অস্তিত্ব রক্ষার কঠিন চ্যালেঞ্জে পুঁজিবাজার


শেয়ারবাজার রিপোর্ট: কোভিড-১৯ এর কারণে সারাদেশের অর্থনীতি থুবরে পড়েছে। দেশের আপামর জন সাধারণ বর্তমানে করোনা নিয়ে যেমন আতঙ্কে রয়েছেন তেমনি আতঙ্কে রয়েছেন সামনের দিনগুলোর জীবনযাত্রা নিয়ে। দেশের অর্থনীতির অন্যতম অংশ পুঁজিবাজারের লেনদেন গত ২৯ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে। ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো এতোদিন লেনদেন থেকে দূরে রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। পুঁজিবাজারের ওপর যাদের আয় নির্ভর করে তারাও রয়েছেন বিপাকে। সিকিউরিটিজ হাউজ, মার্চেন্ট ব্যাংকসহ যারা বাজারের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত তারা পুঁজিবাজার থেকে ইনকাম করে হাউজ ভাড়া, কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা ইত্যাদি খরচ বহন করে। যদি লেনদেনই বন্ধ থাকে তাহলে এসব হাউজের সঙ্গে অন্যান্য বিনিয়োগকারী অস্বিত্ব হারানোসহ গোটা পুঁজিবাজারই শেষ হয়ে যাবে। অনেক বিনিয়োগকারী রয়েছেন যারা প্রতিমাসেই বাজার থেকে টাকা উত্তোলন করে সংসারের প্রয়োজন মিটিয়ে থাকেন। লাভ কিংবা লোকসান যাই হোক না কেন শেয়ার কেনা-বেচা করে জীবিকা নির্বাহ করেন এমন বিনিয়োগকারীর সংখ্যা কম নয়। অথচ চাইলে অনলাইনের মাধ্যমে এখন পুঁজিবাজারের লেনদেন চালু রাখা যেতে পারে। যদিও শুধুমাত্র করোনা আতঙ্ক নয় লেনদেন বন্ধ রাখা আরেকটি প্রধান কারণ হচ্ছে সূচকের ভয়াবহ পতন। কিন্তু লেনদেন বন্ধ রাখা কোন সমাধান নয়। সামাজিক ও শারিরিক দূরত্ব বজায় রাখতে সারাদেশে সরকারি ছুটি চলছে। কিন্তু লেনদেন চালুর সঙ্গে সামাজিক ও শারিরিক দূরত্বের সম্পর্ক খুবই ক্ষীণ। বিনিয়োগকারীরা অনলাইনে লেনদেন করবে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশিত নিয়ামানুযায়ী ব্যাংকে লেনদেন করবে। সীমিত আকারে ব্যাংক লেনদেন চালু রাখা গেলে পুঁজিবাজারের লেনদেনও চালু করা যাবে। আর যেহেতু ফ্লোর প্রাইস নির্ধারিত করা আছে তাই সূচকের এতো পতন হওয়ারও আশঙ্কা নেই। বাচুঁক বিনিয়োগকারী, বাচুঁক পুঁজিবাজার ও অর্থনীতি।

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top