সাধারন ছুটিতে শেয়ারবাজারে লেনদেনের সম্ভাবনা খুবই কম

শেয়ারবাজার রিপোর্ট : পরিচালনা পর্ষদে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে করোনাভাইরাসের সাধারণ ছুটির মধ্যে আগামী ১০ মে থেকে শেয়ারবাজারে লেনদেন চালু করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সম্মতি চেয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। তবে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির মধ্যে শেয়ারবাজারে লেনদেন চালু হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

সূত্রটি বলছে, শেয়ারবাজারে লেনদেন চালুর সম্মতি চেয়ে বিএসইসির চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন বরাবর ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কাজী সানাউল হক যে চিঠি দিয়েছেন, তাতে বেশ কিছু শর্ত রয়েছে। এমনও শর্ত রয়েছে যার জন্য কমিশন সভা করে অনুমোদন নেয়ার প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে বিএসইসির চার কমিশনারের মধ্যে তিনটি পদই খালি। ফলে চেয়ারম্যান ও একজন কমিশনার নিয়ে কমিশন সভা করা সম্ভব নয়। সুতরাং কমিশন সভা করে যে বিষয়ে অনুমোদন নেয়া দরকার তা এই মুহূর্তে সম্ভব হবে না।

তাই নীতিগত সিদ্ধান্ত নিলেও করোনাভাইরাসের ছুটির মধ্যে ১০ মে থেকে শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু করা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন ডিএসইর একাধিক পরিচালক।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের লাগাম টানতে গত ২৬ মার্চ থকে দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। সর্বশেষ গত ৪ মে প্রজ্ঞাপন জারি করে ছুটির মেয়াদ বাড়িয়ে ১৬ মে পর্যন্ত করা হয়েছে। সাধারণ ছুটি বাড়ানো হলেও ১০ মে থেকে সীমিত আকারে মার্কেট, শপিংমল খোলার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সরকারের সাধারণ ছুটির কারণে দীর্ঘ দিন শেয়ারবাজারে লেনদেন বন্ধ থাকায় ডিএসইর স্টেকহোল্ডারদের একটি অংশ থেকে লেনদেন চালুর দাবি ওঠে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩০ এপ্রিল অনলাইনে পর্ষদ সভা করে লেনদেন চালুর নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় ডিএসই

পর্ষদের ওই সিদ্ধান্তের পর গত ৩ মে শেয়ারবাজারে লেনদেন চালুর সম্মতি চেয়ে বিএসইসির চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেনের কাছে চিঠি দেন ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী সানাউল হক

এই চিঠিতে জানানো হয়, সীমাবদ্ধতার কারণে লেনদেন চালুর বিষয়ে এখনো স্টেকহোল্ডারদের লিখিত মতামত নিতে পারেনি ডিএসই। তবে তাদের সম্মতি নিয়েই লেনদেন চালু করা হবে। অন্যথায় লেনদেন চালু করা হবে না।

এ চিঠিতে লেনদেন চালুর ক্ষেত্রে শেয়ারবাজারকে অপরিহার্য সেবার (এসেনশিয়াল সার্ভিস) মধ্যে ঢোকানোর দাবি জানিয়ে কিছু নীতিমালা প্রণয়ন ও আইন-কানুন বিষয়ে অব্যাহতিও চাওয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, এই মুহূর্তে লেনদেন চালু হলেও উদ্যোক্তা/পরিচালকদের শেয়ার ট্রান্সফার, আইপিও, ব্রোকারেজ হাউজগুলো মনিটরিং ও কমপ্লায়েন্স, লাইসেন্স নবায়ন ইত্যাদি কাজ করা সম্ভব হবে না। এজন্য এগুলো থেকে অব্যাহতি চাওয়া হয় চিঠিতে।

চিঠিতে জানানো হয়েছে, কমিশনের সম্মতির পরে লেনদেন চালু করতে তিনদিন সময় দিতে হবে। কারণ ডিএসইরও লেনদেন চালু করার জন্য প্রস্তুতির বিষয় আছে।

আবার ব্যাংকিং লেনদেন কার্যক্রম স্বল্পতার কারণে শেয়ারবাজারে দুই ঘণ্টার বেশি লেনদেন করা সম্ভব হবে না বলেও জানানো হয়েছে কমিশনকে। এক্ষেত্রে অবশ্য চেক ক্লিয়ারিংয়ের জন্য ব্যাংকগুলোর সহযোগিতা চাওয়া হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে চিঠিতে।

এতে আরও বলা হয়েছে, লেনদেন চালু হলেও এই মুহূর্তে সব সেবা দেয়া সম্ভব হবে না। কমিশনকে নানা বিষয়ে লিখিত কাগজের মাধ্যমে জানানো হয়। যা এখন সম্ভব হবে না। মেইলে পাঠানো হবে। এছাড়া সব নিউজ সরবরাহ করা সম্ভব হবে না। কারণ অনেক নিউজের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির কাছ থেকে কিছু বিষয় জেনে প্রকাশ করা দরকার পড়ে। কিন্তু ওই কোম্পানি বন্ধ থাকলে, জবাব কে দেবে? ফলে নিউজ সরবরাহ করা যাবে না।

ডিএসইর দাবির পরিপ্রেক্ষেতে ১০ মে থেকে লেনদেন শুরুর বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সাইফুর রহমান বলেন, ১০ মে থেকে লেনদেন শুরু করা সম্ভব কি-না, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। কিছু বিষয় আছে যেগুলোর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। আবার ইমারজেন্সি সার্ভিসের মধ্যে ক্যাপিটাল মার্কেট নেই। সবকিছু আমরা খতিয়ে দেখছি।

কিছু বিষয় রয়েছে যেগুলো কমিশন সভায় সিদ্ধান্ত নিতে হবে, কিন্তু কোরাম সংকটে তো এখন বিএসইসির কমিশন সভা করা সম্ভব না, সে ক্ষেত্রে কী করা হবে? এমন প্রশ্ন করা হলে সাইফুর রহমান বলেন, ডিএসই যেসব শর্ত দিয়েছে তার মধ্যে কিছু আদেশ বা নির্দেশনা দেয়ার জন্য কমিশনের অনুমোদন লাগতে পারে। কিন্তু এই মুহূর্তে কমিশন সভা করা সম্ভব না। তবে লেনদেনের বিষয়ে এখনই কোনো কিছু চূড়ান্ত নয়। সার্বিক বিষয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ডিএসইর একাধিক পরিচালক জানান, বিএসইসির কাছে ডিএসই থেকে লেনদেন চালুর সম্মতি চাওয়া হলেও ১০ মে থেকে লেনদেন হবে বলে মনে হচ্ছে না। কারণ লেনদেন চালুর ক্ষেত্রে অনেক বিষয় জড়িত। যা এই মুহূর্তে কার্যকর করা সম্ভব না।

ডিএসইর পরিচালক শাকিল রিজভী বলেন, শেয়ারবাজারে লেনদেন চালুর নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিএসইসি অনুমোদন দিলে ১০ মে থেকে লেনদেন হবে। আর অনুমোদন না দিলে লেনদেন করা সম্ভব হবে না।

এর আগে গত ৩০ এপ্রিল লেনদেন চালুর নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়ার বিষয়ে ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন শেয়ারবাজারনিউজ ডটকমকে বলেছিলেন, লাখ লাখ মানুষের আয়ের প্রধান উৎস শেয়ারবাজার। করোনাভাইরাসের কারণে গত ২৬ মার্চ থেকে সরকারি সাধারণ ছুটির সঙ্গে সঙ্গে এই বাজারও বন্ধ রয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ব্রোকারেজ হাউজগুলো এবং ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা।

‘লেনদেন বন্ধ থাকায় এই প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো আয় নেই। কিন্তু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনাদি দিতে হবে। আর ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা আর্থিক সংকটে ভুগছেন। এছাড়া লেনদেন বন্ধ থাকার কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনাস্থা তৈরি হচ্ছে। তাই ডিএসই অনানুষ্ঠানিক পর্ষদ সভা করে ১০ মে থেকে লেনদেন চালুর নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

শেয়ারবাজারনিউজ/মা

আপনার মন্তব্য

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top