ব্যাংকের লভ্যাংশ ঘোষণার সীমা বেঁধে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর লভ্যাংশ ঘোষণার সর্বোচ্চ সীমা বেঁধে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিভিন্ন শর্তের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ লভ্যাংশের কয়েকটি ধাপ ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। কোনো ব্যাংক এই সীমার বেশি লভ্যাংশ দিতে পারবে না।

ইতোমধ্যে যেসব ব্যাংক লভ্যাংশ ঘোষণা করে ফেলেছে, সেগুলোর লভ্যাংশের হার যদি এই সীমার বেশি হয়ে থাকে তাহলে তা স্থগিত করে সংশোধন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুসারে, কোনো ব্যাংক ১৫ শতাংশের বেশি নগদ লভ্যাংশ দিতে পারবে না। আর নগদ ও বোনাস মিলিয়ে হতে পারবে সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ।

এছাড়া নগদ লভ্যাংশের ক্ষেত্রে ২০ সেপ্টেম্বরের আগে তা শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে বিতরণ করা যাবে।

আজ সোমবার (১১ মে) বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করেছে। সার্কুলারটি আজই দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

নানা শর্তের আড়ালে মূলত এবার লভ্যাংশ ঘোষণাকে নিরুৎসাহিত করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর তা এই সার্কুলারে বেশ স্পষ্ট করে স্বীকারও করা হয়েছে। সার্কুলারে বলা হয়েছে, (করোনা সংক্রমণে) সামগ্রিকভাবে ব্যাংকিং খাতে সৃষ্ট চাপ মোকাবেলা করে ব্যাংকগুলো যাতে বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতিতে যথার্থ অবদান রাখতে পারে সে লক্ষ্যে ব্যাংকগুলোর মুনাফা অবণ্টিত রেখে (কার্যত লভ্যাংশ না দিয়ে) মূলধন শক্তিশালী করার মাধ্যমে পর্যাপ্ত তারল্য বজায় রাখা একান্ত অপরিহার্য।

সার্কুলারে বর্ণিত লভ্যাংশ নীতিমালা অনুসারে নিচের ধাপে লভ্যাংশ (Dividend) ঘোষণা করা যাবে-

প্রভিশন সংরক্ষণসহ অন্যান্য ব্যয় মেটানোর বাংলাদেশ ব্যাংক হতে ইতোপূর্বে গৃহীত Deferral সুবিধার অধীন নয় এমন বা ২০১৯ সালের জন্য কোনো Deferral সুবিধা গ্রহণ ব্যতিরেকে যে সকল ব্যাংকের ২.৫% ক্যাপিটাল কনজারভেশন বাফারসহ ন্যুনতম ১২.৫০% বা তার বেশী মূলধন সংরক্ষণ করতে সক্ষম, সে সকল ব্যাংক তাদের সামর্থ্য অনুসারে সর্বোচ্চ ১৫% নগদসহ মোট ৩০ % ডিভিডেন্ড ঘোষণা করতে পারবে।

প্রভিশন সংরক্ষণসহ অন্যান্য ব্যয় মেটানোর বাংলাদেশ ব্যাংক হতে ইতোপূর্বে গৃহীত Deferral সুবিধার অধীন নয় এমন বা ২০১৯ সালের জন্য কোনো Deferral সুবিধা গ্রহণ ব্যতিরেকে যে সকল ব্যাংকের ক্যাপিটাল কনজারভেশন বাফারসহ ন্যুনতম ১১.২৫% হতে ১২.৫০% বা তার বেশী মূলধন সংরক্ষণ করতে সক্ষম, সে সকল ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমদনক্রমে তাদের সামর্থ্য অনুসারে সর্বোচ্চ ৭.৫% নগদসহ মোট ১৫ % ডিভিডেন্ড ঘোষণা করতে পারবে।

প্রভিশন সংরক্ষণসহ অন্যান্য ব্যয় মেটানোর বাংলাদেশ ব্যাংক হতে ইতোপূর্বে গৃহীত Deferral সুবিধার অধীন নয় এমন বা ২০১৯ সালের জন্য কোনো Deferral সুবিধা সম্পূর্ণরূপে সমন্বয় করা হলে যে সকল ব্যাংকের ক্যাপিটাল কনজারভেশন বাফারসহ ন্যুনতম ১১.২৫% বা তার বেশি থাকে  সে সকল ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমদনক্রমে তাদের সামর্থ্য অনুসারে সর্বোচ্চ ৫% নগদসহ মোট ১০ % ডিভিডেন্ড ঘোষণা করতে পারবে।

প্রভিশন সংরক্ষণসহ অন্যান্য ব্যয় মেটানোর বাংলাদেশ ব্যাংক হতে ইতোপূর্বে গৃহীত Deferral সুবিধার অধীন নয় এমন বা ২০১৯ সালের জন্য কোনো Deferral সুবিধা সম্পূর্ণরূপে সমন্বয় করা হলে যে সকল ব্যাংকের ক্যাপিটাল কনজারভেশন বাফারসহ ন্যুনতম ১১.২৫% এর কম কিন্তু ন্যুনতম সংরক্ষিত মূলধন ১০% হবে সে সকল ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমদনক্রমে সর্বোচ্চ ৫%  স্টক ডিভিডেন্ড ঘোষণা করতে পারবে।

শেয়ারবাজারনিউজ/মা

আপনার মন্তব্য

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top