পুঁজিবাজার এবং ঋণের সুদ বৈষম্য

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপন অনুসারে ব্যাংক গুলো সর্বোচ্চ ৯% সুদে ঋণ দিতে পারবে। আইন অনুসারে ক্রেডিট কার্ড ছাড়া সব ধরনের ঋণের জন্য এই সুদের হার প্রযোজ্য হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনার ফলে গত এপ্রিল থেকে ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি ভোক্তা ঋণ, এসএমই খাত, আবাসনসহ সব ধরনের ঋণের সুদ কমে এসেছে। শুধু তাই নয় এপ্রিলের আগে যারা ১৪% সুদে ঋণ নিয়েছিল, সেই পুরাতন ঋণের ক্ষেত্রেও নুতন সুদের হার অর্থাৎ ৯% সুদ ধার্য করে দেওয়া হয়েছে।

অথচ পুঁজিবাজারে ব্যাংকগুলোর সাবসিডিয়ারি কোম্পানি যেমন ব্রোকারেজ হাউজ এবং মার্চেন্ট ব্যাংক গুলো এখনও ১৬% হারে সুদ নিচ্ছে। ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, ব্রাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক সহ বেশির ভাগ ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান বর্তমানে ১৬% হারে সুদ নিচ্ছে। এই সুদ আবার ৩ মাস অন্তর অন্তর মূল ঋণের সাথে যোগ হয়। যার ফলে সুদের উপর সুদ চার্জ করা হয়। বছর শেষে হিসেব করলে এই সুদের হার গিয়ে দাঁড়ায় ২০%।

২০১০ সালের পর বেশিরভাগ বিনিয়োগকারী নিঃস্ব হয়েছিল এই উচ্চ সুদ দিতে গিয়ে। ২০১০ সালের ডিসেম্বর থেকে শেয়ারের দাম খুব দ্রুত কমে যেতে থাকে। যার দরুন বেশিরভাগ বিনিয়োগকারী তাদের হাতে থাকা শেয়ার গুলো বিক্রি করতে পারেনি। শেয়ার বিক্রি করতে না পারায় যারা ঋণ নিয়ে শেয়ার কিনেছিল তারাও সেই ঋণ সমন্বয় করতে পারেনি। পরবর্তীতে সেই ঋণ ৪ বছরের মধ্যে দ্বিগুণ আকার ধারন করে। যার ফলে বেশিরভাগ বিনিয়োগকারীদের পুঁজি ঋণাত্মক হয়ে যায়। এতে বিনিয়োগকারীরা যেমন নিঃস্ব হয়েছে, তেমনি ব্যাংক গুলোও ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২০২০ সালে এসেও শত শত একাউন্ট দেখানো যাবে যেগুলোতে কোটি কোটি টাকা ঋণাত্মক হয়ে আছে।

বর্তমান করোনাকালে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার তার ইতিহাসের সব থেকে খারাপ সময় অতিবাহিত করছে। গত ১০ বছরে বিশ্বের পুঁজিবাজার যেখানে সামনের দিকে গেছে সেখানে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার পেছনের দিকে গেছে। তাই এখন যখন পুরো বিশ্বের অবস্থা টালমাটাল এই পরিস্থতিতে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার কিছু একটা করে দেখাবে সেই আশা করা ঠিক হবেনা।

অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দাম মাসের ব্যবধানে ৪০% থেকে ৫০% কমে গেছে। বেশির ভাগ বিনিয়োগকারী যারা ঋণ নিয়ে শেয়ার কিনেছিল তারা সেই ঋণ সমন্বয় করতে পারেনি। বর্তমানে ব্যাংকের সর্বোচ্চ সুদের হার যেখানে ৯% বেঁধে দেয়া হয়েছে, সেখানে ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান যেমন ব্রোকারেজ হাউজ এবং মার্চেন্ট ব্যাংক গুলো অযৌক্তিক ভাবে বিনিয়োগকারীদের থেকে ২০% হারে সুদ নিচ্ছে। যা মেনে নেয়া যায়না।

বর্তমান এই সংকট মুহূর্তে বিনিয়োগকারীদের বাঁচিয়ে রাখতে হলে এই সুদ বৈষম্য দূর করতে হবে। অনতিবিলম্বে ব্রোকারেজ হাউজ এবং মার্চেন্ট ব্যাংক গুলোর সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনতে হবে। বিশেষ প্রণোদনার অন্তর্ভুক্ত করে আপদকালীন সংকট বিবেচনায় এই সুদের হার ৫% করা যেতে পারে। আমাদের মনে রাখতে হবে বিনিয়োগকারী বাঁচলে পুঁজিবাজার বাঁচবে।

 

লেখক: মাসুদ হাসান

শেয়ার বিনিয়োগকারী

উত্তরা, ঢাকা।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

Top