বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রির হিড়িক

কোভিড-১৯ এর কারণে দীর্ঘদিন পুঁজিবাজারের লেনদেন বন্ধ ছিল। অনেক বিনিয়োগকারী যাদের আয়ের অন্যতম উৎস পুঁজিবাজার তারা শেয়ার কেনা-বেচা না করতে পেরে জমানো অর্থ দিয়ে জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহ করেছে। কিন্তু দীর্ঘ দুই মাস আয় ছাড়া ব্যয় করার মাধ্যমে বেশিরভাগ বিনিয়োগকারী নগদ অর্থের সংকটে পড়ে গেছে। যে কারণে পুঁজিবাজারের লেনদেন চালু হওয়া মাত্রই কেনার চেয়ে বিক্রির পরিমাণ বেশি হয়েছে। করোনার বর্তমান ভয়াবহ পরিস্থিতিতে সামনে বাজার আবারো বন্ধ হতে পারে সেই আতঙ্কে অনেকে হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি করে বের হয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে একই কারণে শেয়ার কেনার প্রতিও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহে ভাটা পড়েছে। যদি ফ্লোর প্রাইস নির্ধারণ করা না থাকতো তাহলে হয়তো এ সপ্তাহেই পুঁজিবাজারের সূচক হাজার পয়েন্ট কমে যেতো।

বৃহস্পতিবার সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন হয়েছে মাত্র ৪২ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। সর্বশেষ কবে এতো কম পরিমাণ লেনদেন ডিএসইতে হয়েছে তার তথ্য পেতে অনেকটা বেগ পেতে হবে।

বিভিন্ন সিকিউরিটিজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে জানা গেছে, বেশিরভাগ হাউজের কর্মকর্তারা বাসা থেকেই কাজ করে যাচ্ছেন। হাউজে বিনিয়োগকারীদের আনা-গোনা একেবারে নেই বললেই চলে। মুঠোফোনে, অ্যাপসের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা লেনদেন করছেন। কিন্তু দেশের চলমান সংকট নিরসন না হওয়া পর্যন্ত পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতার কোন সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। ইতিমধ্যে অনেক হাউজের কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরি হারিয়েছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে চাকরি হারাবেন আরো অনেক কর্মকর্তা। যদি হাউজের ইনকাম না হয় তাহলে বেতনই বা দেবেন কোথা থেকে আর হাউজের ভাড়ার টাকাই বা যোগার হবে কোথা থেকে। নিজের পকেট থেকে আর কয়দিনই বা হাউজ মালিকরা চালিয়ে নেবেন।

এখন পরিস্থিতি এমন যে হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি করতে পারলেই যেন বিনিয়োগকারীরা বেঁচে যান। শুধুমাত্র করোনা পরিস্থিতির কারণে পুঁজিবাজারসহ দেশের গোটা অর্থনীতি হুমকির মধ্যে চলছে। সবচেয়ে বড় আতঙ্ক হচ্ছে দেশের শীর্ষ স্থানীয় ব্যবসায়ীরা করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর দিন গুনছেন। তাই করোনার ভয়াল থাবার মধ্যে কে কখন পড়ে যায় তা বলা যায় না। এসব আতঙ্ক আর হতাশা দিন দিন পুঁজিবাজারকে শেষ করে দিচ্ছে। তবে একদিন আবার সব ঠিক হবে সেই আশায় আমরা রয়েছি। আবারও হাউজগুলো সরগরম হবে, হাজার কোটির ওপরে লেনদেন হবে, শেয়ার নিয়ে রীতিমতো আলোচনা-টকশো হবে, বিশ্লেষণ হবে, সরকার এই পুঁজিবাজার থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ রাজস্ব আদায় করবে। করোনা চলে যাক, সবাই স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাক…..সেই প্রত্যাশায়।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top