সংকট কাটিয়ে গার্মেন্টস পরিস্থিতির উন্নতি হবে- বাণিজ্যমন্ত্রী

শেয়ারবাজার ডেস্ক: দেশীয় তৈরি পোশাক শিল্পে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক কাজ করে। বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড এক্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, চলমান করোনা পরিস্থিতিতে কোনো কারখানাই সামর্থ্যের শতভাগ ব্যবহার করতে পারছে না। ৩৫ শতাংশ সক্ষমতায় কারখানা সচল রেখেছে, এমন ঘটনাও আছে। বড় কারখানাগুলোও ৬০ শতাংশের বেশি সক্ষমতা ব্যবহার করতে পারছে না। পোশাক কারখানাগুলো গড়ে ৫৫ শতাংশ সক্ষমতা ব্যবহার করে কোনোরকমে উৎপাদন কার্যক্রম চালু রাখছে। জুলাইয়ের পরিস্থিতি এখনই অনুমান করা কঠিন। উদ্যোক্তারা আশঙ্কা করছেন, সামনের দিনগুলো পোশাক শিল্পের জন্য আরও চ্যালেঞ্জ হবে। এ পরিস্থিতিতে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

টিপু মুনশি বলেন, আমরা সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি কোনো সন্দেহ নেই। কোভিড-১৯ আমাদের নতুন করে সমস্যায় ফেলেছে। আমি সবসময় মনে করি কখনও কখনও সমস্যার মধ্যে সম্ভবনাও তৈরি হয়। আমার ধারণা আমাদের যে সমস্যা আছে এটাকে কাটিয়ে উঠবো। আমাদের সমস্যাকে চিহ্নিত করে প্রোঅ্যাকটিভ ভাবে কাজ করতে হবে। আমি আশাবাদী আমাদের অপরচুনিটি ফিরে আসবে। রেডিমেট গার্মেন্টসের অবস্থার উন্নতি হবে।

পোশাকশিল্পের অর্ডার বাতিল হওয়ায় দেশের অর্থনীতি ক্ষতির শিকার হচ্ছে। তবে এ পরিস্থিতি কেটে গিয়ে পোশাকশিল্প শীঘ্রই ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

তিনি বলেন, আমি মনে করি সমস্যার মধ্যে সম্ভবনাও থাকে। রেডিমেট গার্মেন্টস পরিস্থিতি উন্নতি হবে। তৈরি পোশাক শিল্পে আমরা বহুবার সমস্যার মুখোমুখি হয়েছি এবং আশ্চর্যজনকভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছি।

কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক টেকসই, পুনরুদ্ধার, অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ এবং এফডিআই বিষয়ে ওয়েবিনার করে এফবিসিসিআই। ওয়েবিনারে অংশ নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি টিপু মুনশি আরও বলেন, এবারও আমি বিশ্বাস করি আমাদের রেডিমেট গার্মেন্টস সেক্টর আবারও ঘুরে দাঁড়াবে। কারণ মানুষের প্রয়োজন কখনও কমবে না। এটা সাময়িক ব্যপার।

এসময় বাণিজ্যমন্ত্রী দেশের বড় ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আনার ক্ষেত্রে ভূমিকার রাখার কথা বলেন। তিনি বলেন, আপনাদের সঙ্গে বিদেশি অনেক প্রতিষ্ঠানের পরিচয় আছে। আশা করি, বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর ব্যাপারে আপনারা চেষ্টা করবেন

এফবিসিসিআই আয়োজিত এ ওয়েবিনারে সংগঠনটির সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিমের সঞ্চালনায় কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ, সংসদ সদস্য এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি সফিকুল ইসলাম মহিউদ্দিন, আবদুল মাতলুব আহমাদ, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন প্রমুখ অংশ নেন।

বক্তারা করোনায় আর্থিক ক্ষতি মোকাবিলায় বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি দেশীয় শ্রমিকদের দক্ষতা বাড়ানোর পরামর্শ দেন। দেশি প্রতিষ্ঠানকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়া, কৃষি খাতের ঋণ প্যাকেজের সুদহার আরও কমিয়ে আনারও দাবি জানান।

সূত্র- ডিবিসি নিউজ

আপনার মন্তব্য

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top