‘প্রস্তাবিত বাজেট সময়োপযোগী ও শেয়ারবাজার বান্ধব’

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) পরিস্থিতির মধ্যেই গত ১১ জুন বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য বাজেট পেশ করা হয়। এবারের বাজেটের শিরোনাম হচ্ছে ‘অর্থনৈতিক উত্তোরন ও ভবিষ্যৎ পথপরিক্রমা’ ও এবারের বাজেটের আকার হচ্ছে ৫ লক্ষ ৬৮ হাজার কোটি টাকা। এবারের বাজেটে উল্লেখযোগ্য কিছু প্রস্তাব হচ্ছে, অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ, অতালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রে কর ছাড় এবং করমুক্ত আয়সীমা তিন লক্ষ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোসহ বেশ কিছু বিষয়।

এদিকে এবারের বাজেটে শেয়ারবাজারের জন্য বেশ কিছু বিষয়ে প্রস্তাব করা হয়েছে। তারমধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য হল, অপ্রদর্শিত অর্থ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ, বন্ডে কর সমন্বয় এবং শেয়ার বাজারকে স্থিতিশীল ও গতিশীল রাখতে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী ৬ টি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

বাজেট নিয়ে শেয়ারবাজারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গরা বলছেন এবারের বাজেট হয়েছে সময়োপযোগী ও শেয়ারবাজার বান্ধব। বাজেটের বিষয়গুলি সঠিকভাবে পালন করা হলে বাজার স্থিতিশীল ও গতিশীল হবে এবং উন্নত হবে। বাজার আগের থেকে অনেক ভালো অবস্থানে পৌঁছাবে বলে মনে করেন তারা।

বাজেট নিয়ে ডিএসইর পরিচালক রকিবুর রহমান ভিডিও বার্তায় বলেছেন, জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী যে বাজেট প্রস্তাব করেন তা অত্যন্ত ব্যবসা ও পুঁজিবাজার বান্ধব বাজেট। এবারের বাজেটে পুঁজিবাজারে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। এর জন্য ১০ শতাংশ কর দিয়ে এবং কিছু ফরমালিটি পরিপালন করতে তিন বছরের জন্য পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করা যাবে। এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট যে, পুঁজিবাজারে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বা অন্য কোনো সংস্থা কোনো প্রশ্ন করতে পারেবে না। এটা একটা বড় ধরনের সুযোগ। অর্থাৎ অপ্রদর্শিত অর্থ সাদা হয়ে অর্থনীতির মূল ধারায় চলে আসবে। অর্থমন্ত্রীর এ সিদ্ধান্ত পুঁজিবাজারের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরো বলেন, এছাড়া বাজেটে বন্ড মার্কেটের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। আমরা আগে ইক্যুইটি মার্কেটেরও ওপর নির্ভর ছিলাম। কোনো বিকল্প বিনিয়োগের জায়গা না থাকায় ইক্যুইটি মার্কেটের উপর নির্ভর করতে হয়েছে। এবার বাজেটে বন্ড মার্কেটকে শক্তিশালী করার জন্য কিছু প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বিশেষ করে বন্ড মার্কেটকে স্ট্যাবিলাইজড করাতে অনেক বিষয় সহজীকরণ করা হয়েছে। এছাড়া উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে যেন বন্ড সহজেই লেনদেন করা যায় সে জন্যও ব্যবস্থা নেয় হয়েছে। এটা পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগকারীদের ইতিবাচক পদক্ষেপ।

এ বিষয়ে ডিএসইর অপর এক পরিচালক শাকিল রিজভি শেয়ারবাজার নিউজকে বলেন, ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট হয়েছে পুঁজিবাজার বান্ধব। অনেক দিন থেকেই এমন একটি বাজেটের প্রত্যাশা করছিলাম। পুঁজিবাজারের জন্য বাজেটের সবচেয়ে বড় চমক হচ্ছে বিনা প্রশ্নে পুঁজিবাজারে কালো টাকা বিনিয়োগ করার সুযোগ দেয়া। এই অর্থ পুঁজিবাজারে আসলে বাজার সচল হতে সহায়ক হবে। কিছু শর্ত সাপেক্ষে এই অর্থ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া হয়েছে। সবাই যদি এই নিয়ম মেনে পুঁজিবাজারে আসেন তা বাজার এবং অর্থনীতি উভয়ের জন্যই ভালো হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এবারের বাজেটে বন্ড লেনদেন মূল্যের উপর উৎসে কর কর্তনের পরিবর্তে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন কর্তৃক লেনদেনে নির্ধারিত কমিশনের উপর উৎসে কর কর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে ভালো উদ্যোগ। এতে বন্ড মার্কেট আর সচল হওয়ার সুযোগ থকবে। আর এই মার্কেট সচল হলে পুঁজিবাজারও গতিশিল হবে।

এছাড়া বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (বিএমবিএ) এর সভাপতি ছায়েদুর রহমান বলেন, করোনাভাইরাসে সৃষ্ট মহামারির মধ্যে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ায় পুঁজিবাজার গতিশীল হবে। এতে বিনিয়োগকারীসহ সবাই উপকৃত হবে। পুঁজিবাজারে ব্যাংক ও ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ বাড়ানো ও মার্চেন্ট ব্যাংকার ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা হলে তারল্য সংকট দূর হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এবং ডিএসই ব্রোকার’স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট শরীফ আনোয়ার হোসেইন শেয়ারবাজার নিউজকে বলেছেন, বাজেট শেয়ারবাজার বান্ধব হলেও আরও বেশি কিছু প্রত্যাশা করেছিলাম। তবে বাজেটে শেয়ারবাজারের জন্য যেসব বিষয়ে প্রস্তাব করা হয়েছে সেগুলো অবশ্যই প্রয়োজনীয়। এতে বাজারে তারল্য সংকট দূর হবে এবং বাজারের অবস্থা উন্নতির দিকে এগিয়ে যাবে।

তিনি আরো বলেন, আমি আরো বেশি কিছু প্রত্যাশা করেছিলাম। তবে যে বিষয়গুলো রয়েছে এগুলোও শেয়ার বাজারের উন্নতির জন্য ভূমিকা রাখবে। এবং এতে করে বাজার অনেকটা এগিয়ে যাবে ।

শেয়ারবাজার নিউজ/এন

আপনার মন্তব্য

Top