ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের এমডিসহ চারজন আটক

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: নানা অনিয়মের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং দুর্নীতিকারি ব্রোকারেজ হাউজ ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের লাপাত্তা হওয়া ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. শহীদ উল্লাহসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গতকাল রবিবার (৫ জুলাই) দিবাগত রাতে শহীদ উল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা যায়।

গ্রেপ্তারকৃত অন্য তিনজন হলেন:- মো. শহীদ উল্লাহর স্ত্রী নিপা সুলতানা, মো. খোরশেদ ও মো. জুয়েল।

আজ সোমবার বেলা ১২টার দিকে লক্ষ্মীপুর- নোয়াখালী সীমান্ত এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে ডিবির রমনা বিভাগ।

তথ‌্য নিশ্চিত করেছেন ডিবির রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) এইচ এম আজিমুল হক।

এ বিষয়ে পল্টন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) বলেন, ‘ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ নিয়ে তদন্ত অব্যাহত আছে। এর চেয়ে বেশি কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না।’

গত ২৫ জুন রমনা মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের বিও হিসাবধারী বিনিয়োগকারীরা

এর আগে গত ২৩ জুন বিনিয়োগকারীদের টাকা আত্মসাৎ করে গা ঢাকা দেয় শেয়ার ও ইউনিট বেচা-কেনার মধ্যস্থতাকারী ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের মালিকেরা। ওইদিন থেকে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ রয়েছে। তাকে খুঁজে না পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন ওই হাউজের মাধ্যমে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করা বিনিয়োগকারীরা।

এই ঘটনার পরপরই বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) তড়িৎ গতিতে পদক্ষেপ নেয়। তারা ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) ২ প্রতিনিধিসহ ৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। যে কমিটি বিনিয়োগকারীদের অর্থ লুপাটের পরিমাণসহ বিস্তারিত তুলে ধরবে। একইসঙ্গে বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রি করলেও তারা কেনো মুঠোফোনে ম্যাসেজ পায়নি, এজন্য সিডিবিএলের কোন ঘাটতি আছে কিনা, তা অনুসন্ধান করবে।

এছাড়া হাউজটির মালিকরা যেনো বিদেশে যেতে না পারে, সেলক্ষে ডিএসই থেকে পল্টন থানায় অভিযোগ করা হয়। একইসঙ্গে মালিকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার জন্য পদক্ষেপ নিতে বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুরোধ করে। এখন তাদের ১০টির বেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে।

ব্রোকারেজ হাউজটিতে ২১ হাজার বিনিয়োগকারীর ৮২ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট ফ্রিজ করা হলেও তাদের দেনা-পাওনার বিষয়টি এখনো পরিস্কার না। ৮২ কোটি টাকার বাহিরে ওই হাউজে বিনিয়োগকারীদের অজান্তে কত টাকার শেয়ার বিক্রি করা হয়েছে বা নগদ কতটাকা পাওনা রয়েছে, তা পরিস্কার না।

বন্ধ করার আগে ওই হাউজটি থেকে প্রায় ৭০ লাখ টাকার শেয়ার কেনা হয়। তবে এর বিনিময়ে ডিএসইকে দেওয়া চেক বাউন্স করে। ফলে হাউজটির সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে ডিএসই। তাদের কাউকে না পেয়ে কেনা শেয়ারগুলো সাময়িকভাবে ফ্রিজ করে রাখে। পরবর্তীতে ওই শেয়ারগুলো বিক্রি করে পাওনা পরিশোধ করে ডিএসই।

কিছু কিছু বিনিয়োগকারীকে ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ থেকে দেওয়া চেকও বাউন্স করেছে। হাউজ থেকে তাদেরকে চেক দেওয়া হয়েছে টাকা তোলার জন্য। কিন্তু ব্যাংকে গিয়ে তারা দেখে একাউন্টে কোন টাকা নেই। এ হাউজটির ৩টি শাখা রয়েছে- নারায়ণগঞ্জ, ঢাকার বারিধারা ও কুমিল্লায়। সবগুলো শাখাই বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।

শেয়ারবাজার নিউজ/ এন

আপনার মন্তব্য

One Comment;

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top