প্রকাশিত সংবাদের ব্যাখ্যা দিয়েছে কেয়া কসমেটিকস

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: গত ২৮ জুন বহুল প্রচারিত অনলাইন পত্রিকা শেয়ারবাজারনিউজ এ কেয়া কসমেটিকস্ সম্পর্কে প্রকাশিত সংবাদের সঠিক ব্যাখ্যা প্রদান করেছে কোম্পানি।

ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, কেয়া কসমেটিকস্ দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত সুনামের সাথে ব্যবসা চালিয়ে আসছে। কোম্পানির কারখানায় বর্তমানে প্রায় ১০,০০০ শ্রমিক কার্যে নিয়োজিত রয়েছে, তার মধ্যে প্রায় ১,০০০ (এক হাজার) প্রতিবন্ধী শ্রমিক রয়েছে। কেয়া কসমেটিকস্ স্থানীয় বিক্রয় ছাড়াও প্রতি মাসে প্রায় ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এর সমমূল্যের পণ্য রপ্তানী করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটি ইতিপূর্বে ৫ বার শ্রেষ্ঠ রপ্তানীকারক হিসাবে রপ্তানী ট্রফি পেয়েছে এবং বেশ কয়েকবার সিআইপি মনোনিত হয়েছে।

আমরা অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, কেয়া কসমেটিকস্ এর ৩০ জুন, ২০১৮ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে ১ হাজার কোটি টাকা লোকসানের তথ্য গোপন করে মুনাফা দেখানো হয়েছে বলে পত্রিকায় যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তা সর্ম্পূন্ন ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে কোম্পানি। ২০১৮ হিসাব বছর পযর্ন্ত জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর নির্ধারনী আদেশ প্রদান করেছেন, যার ভিত্তিতে আমাদের প্রতিষ্ঠান নিয়মিতভাবে আয়কর পরিশোধ আসছে।

এফআরসি কোম্পানির কাছে নিরীক্ষিত যে হিসাবগুলো চেয়েছিলেন তখন বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস আতংক ও ঝুকির কারণে প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটে এবং সরকার কর্তৃক সাধারণ ছুটির ঘোষণার কারনে অফিস কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যায়। যে কারনে এফআরসি এর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিরীক্ষিত রিপোর্টগুলো এফআরসিকে দেয়া সম্ভব হয়নি। তবে অফিসের কার্যক্রম স্বাভাবিক হলে কোম্পানি অবশ্যই এফআরসিকে নিরীক্ষিত হিসাবগুলো হস্তান্তর করবো।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আমাদের কোম্পানী লোকসানের তথ্য গোপন করে ইউরোপ ও আমেরিকায় কার্যক্রম থাকা কেয়ার দুটি কোম্পানির মাধ্যমে দেশের বাইরে অর্থ পাচার হয়েছে বলে সন্দেহ করছে এফআরসি। শুধুমাত্র সন্দেহের বশীভূত হয়ে এ ধরনের অসত্য সংবাদ পরিবেশন অত্যন্ত অনৈতিক এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিত। কোনরূপ ভিত্তিহীন বিষয়ে কারো সন্দেহ উদ্রেকের কথা উল্লেখ করে এ খরনের রির্পোট প্রত্রিকায় প্রকাশের ফলে কোম্পানী এবং শেয়ারহোল্ডরদের শত শত কোটি টাকা ক্ষতি হওয়ার যেমন আশংকা দেখা দিয়েছে, তেমনি প্রতিষ্ঠানের এতোদিনকার ব্যবসায়িক ভাবমূর্তির ক্ষুন্ন হয়েছে। সন্দেহমূলক রির্পোট প্রকাশের ফলে কোম্পানির প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত প্রায় ১০,০০০ (দশ হাজার) শ্রমিক যার মধ্যে প্রায় ১,০০০ (এক হাজার) প্রতিবন্ধী শ্রমিকও রয়েছে, তাদের কর্মসংস্থানের পথ বন্ধ হয়ে জীবন-জীবিকা ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার সম্ভাবন দেখা দিয়েছে। শতভাগ নিশ্চিত না হয়ে একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে শুধুমাত্র হন্দেহের বশবর্তী হয়ে এ ধরণের রিপোর্ট প্রকাশ যেমন অনৈতিক তেমনি এ ক্ষেত্রে দেশের বিদ্যমান আইনের লঙ্ঘন। সর্বোপরি কোম্পানির চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক পাঠান সাহেবের নামে ইউরোপ ও আমেরিকা তো দুরের কথা পৃথিবীর কোন দেশেই কোন অর্থ পাচারের অভিযোগ বা দুর্নাম নেই এবং কেউ প্রমাণও করতে পারবে না।

তিনি বাংলাদেশকে ভালবাসেন এবং ব্যবসার শুরু থেকে বাংলাদেশেই ব্যবসা করেন এবং পৃথিবীর কোন দেশে তার দ্বিতীয় কোন পাসপোর্ট নাই, তার পাসপোর্ট একটি আর তা বাংলাদেশী। সুতরাং তার মতো একজন সৎ এবং মহৎ মানুষের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত কোম্পানীর মাধ্যমে অর্থ পাচার হয়েছে বলে সন্দেহ করে পত্রিকায় রিপোর্ট প্রকাশ করে তার মানহানী করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হওয়ায় কোম্পানির গ্রুপের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী বৃন্দ এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

কোম্পানীর বার্ষিক সাধারন সভা সধারনত প্রতি বছরের ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হয়, সেই অনুসারে ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের বার্ষিক সাধারন সভা ২০১৮ সনের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে করার পরিকল্পনা কোম্পানির ছিল কিন্তু নির্বাচন কমিশনার কর্তৃক জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ প্রথমে ঘোষণা করেন ২৩শে ডিসেম্বর, ২০১৮ তখন কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ ২৯শে ডিসেম্বর, ২০১৮ তারিখে বার্ষিক সাধারণ সভা করার সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারন করেন কিন্তু নির্বাচন কমিশনার পুনরায় নির্বাচনের তারিখ সংশোধন করে ৩০শে ডিসেম্বর, ২০১৮ইং তারিখ নির্ধারন করেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে কোম্পানীর পরিচালনা পর্ষদ ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের বার্ষিক সাধারণ সভার তারিখ ২৬শে জানুয়ারী, ২০১৯ইং ঘোষণা করেন এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে উক্ত তারিখে ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের বার্ষিক সাধারণ সভা করার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন। কমিশনের অনুমতি না পেয়ে ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের ২২তম বার্ষিক সাধারণ সভার ঘোষিত তারিখ স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের ২২তম বার্ষিক সাধারণ সভা করার অনুমতি চেয়ে মহামান্য হাইকোর্টে আবেদন করা হয়। মহামান্য হাইকোর্ট এখন পর্যন্ত ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের ২২তম বার্ষিক সধারণ সভা করার অনুমতি প্রদান করেননি। যার ফলে উক্ত বার্ষিক সধারণ সভা এখন পর্যন্ত করা সম্ভব হয়নি। মহামান্য হাইকোর্ট থেকে ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের ২২তম বার্ষিক সধারণ সভা করার অনুমতি পাওয়ার পরে সভা অনুষ্ঠিত হবে।

মহামান্য হাইকোর্ট সভা করার অনুমতি দিলে ৩০শে জুন, ২০১৮ অর্থ বছরের নিরীক্ষিত হিসাব ২২তম বার্ষিক সধারণ সভায় শেয়ারহোল্ডাগনের সমর্থনে পাস হবে। ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের হিসাব পাস হওয়ার পরে ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের হিসাব প্রথম তিন প্রান্তিক অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন ও আলোচ্য নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং ২০১৯-২০ অর্থ বছরের হিসাব প্রথম তিন প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন গুলো প্রকাশ করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরে দাখিল করা হবে।

কেয়া কসমেটিকস দেশ, জাতি ও সমাজের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।

শেয়ারবাজার নিউজ/এন

আপনার মন্তব্য

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top