জেনে নিন ৩০ শতাংশ শেয়ারধারণে ব্যার্থ ৪৫ কোম্পানির তথ্য!

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) শেয়ার ধারণে বাধ্যবাধকতা মানছে না তালিকাভুক্ত ৪৫টি কোম্পানি। এসব কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার নেই। ফলে কোম্পানিগুলো সিকিউরিজি আইন লঙ্ঘন করেছে। আর এসব কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে বিএসইসি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া কোম্পানিগুলোকে সম্মিলিতভাবে (উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের) ৩০ শতাংশ (পরিশোধিত মূলধনের) শেয়ার ধারণের জন্য আগামী ৬০ দিনের (২ মাস) আল্টিমেটাম দিয়েছে বিএসইসি। এবং কোম্পানিগুলোকে চিঠি ইস্যুর ১৫ দিনের মধ্যে শেয়ার ধারণ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এর আগে ২০১০ সালে পুঁজিবাজার ধসের পর ২০১১ সালের ২২ নভেম্বর প্রথম তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের ন্যূনতম শেয়ারধারণ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে বিএসইসি। ওই নির্দেশনা অনুযায়ী, কোম্পানিগুলোর উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে সব সময় সংশ্লিষ্ট কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণ বাধ্যতামূলক করা হয়। পরবর্তী পরবর্তীতে ২০১৯ সালের ২১ মে বিএসইসি ২ সিসি এবং সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯ এর ক্ষমতাবলে আগের নির্দশনায় সংশোধন আনে।

সংশোধীত নির্দশনায় ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণে ব্যর্থ ওই কোম্পানিগুলোর উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের বিরুদ্ধে আরো কড়াকড়ি আরোপ করা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারলে ব্যর্থ কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকরা কোনো রকম শেয়ার বিক্রি, স্থানান্তর, হস্তান্তর, কোম্পানি একীভূতকরণ করতে পারবে না। ব্যর্থ কোম্পানি রাইট ওফার, আরপিও, বোনাস শেয়ার, কোম্পানি অ্যামালগামেশনসহ কোনো প্রকারে মূলধন উত্তোলন করতে পারবে না। যদি কোনো উদ্যোক্তা পরিচালক এককভাবে ২ শতাংশ শেয়ার ধরণে ব্যর্থ হয়; তাহলে তার পরিচালক পদ তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল হবে।

বাজার বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, স্বতন্ত্র পরিচালক বাদে সব উদ্যোক্তা ও পরিচালকের সম্মিলিতভাবে কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণে ব্যর্থ হয়েছে ১৫টি খাতের ৪৫টি কোম্পানি।

এর মধ্যে বস্ত্র খাতের কোম্পানিগুলোর মধ্যে তাল্লু স্পিনিং ২৯.০৪ শতাংশ, ম্যাকসনস স্পিনিং ২৯.৪৬ শতাংশ, মেট্রো স্পিনিং ২৬.২০ শতাংশ, সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইলস ২২.১৪ শতাংশ, ডেল্টা স্পিনার্স ১৮ শতাংশ, জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশন ১৩.৮২ শতাংশ, আল-হাজ টেক্সটাইল ১২.৭৮ শতাংশ, মিথুন নিটিং ১৭.২০ শতাংশ ও ফ্যামিলি টেক্সটাইল ৪.০২ শতাংশ।

প্রকৌশন খাতের কোম্পানিগুলোর মধ্যে আফতাব অটো ২৮.৪২ শতাংশ, বিডি থাই ২৮.৩৮ শতাংশ, কেঅ্যান্ডকিউ ২৭.৩২ শতাংশ, অলিম্পিক এক্সেসরিজ ২০.৬৮ শতাংশ, এ্যাপোলো ইস্পাত ২০.২৪ শতাংশ ও সুহৃদ ১২.০১ শতাংশ।

ওষুধ ও রাসায়ন খাতের কোম্পানিগুলোর মধ্যেইমাম বাটন ২৯.৩৩ শতাংশ, ফার্মা এইডস ২৪.২২ শতাংশ, সেন্ট্রাল ফার্মা ২৫.৮৯ শতাংশ, সালভো কেমিক্যাল ২২.১৪ শতাংশ, একটিভ ফাইন ১২.০৪ শতাংশ ও বেক্সিমকো ফার্মা ১৩.১৯ শতাংশ।

বিমা খাতের কোম্পানিগুলোর মধ্যে কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স ২৭.৮৬ শতাংশ, মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স ২৪.৭৩ শতাংশ, বিজিআইসি ১৯.৯১ শতাংশ ও পিপলস ইন্স্যুরেন্স ২৩.১৭ শতাংশ।

খাদ্য ও আনুসাঙ্গিক খাতের কোম্পানিগুলোর মধ্যে এমারেল্ড অয়েল ২৮.৪২ শতাংশ, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ ২৭.৭৭ শতাংশ, ফাইন ফুডস ৫.০৯ শতাংশ ও ফুয়াং ফুড ৮.৬২ শতাংশ।

ব্যাংক খাতের কোম্পানিগুলোর মধ্যে এবি ব্যাংক ২৯.২৫ শতাংশ, দি সিটি ব্যাংক ২৭.৯২ শতাংশ ও সাউথ ইস্ট ব্যাংক ২৫.১৩ শতাংশ।

আর্থিক খাতের কোম্পানিগুলোর মধ্যে বে লিজিং ২৯.৬৪ শতাংশ, পিপলস লিজিং ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসিস ২৩.২১ শতাংশ (অবসায়নাধীন) ও ফাস ফাইন্যান্স ১৩.০২ শতাংশ।

আইটি খাতের কোম্পানিগুলোর মধ্যে ইনফরমেশন সার্ভিস নেটওয়ার্ক ২১.৬২ শতাংশ, ইনটেক অনলাইন ৩.৯৭ শতাংশ ও অগ্নি সিস্টেমস ৯.৩৯ শতাংশ।

সিরামিকস খাতের কোম্পানিগুলোর মধ্যে স্ট্যান্ডার্ড সিরামিকস ২৮.৫০ শতাংশ ও ফুয়াং সিরামিকস ৫.৩৩ শতাংশ।

এছাড়া ১টি করে কোম্পানি থাকা খাতগুলোর মধ্যে ভ্রমন ও অবকাশ খাতের ইউনাইটেড এয়ার ৪.১৬ শতাংশ। বিবিধ খাতের বেক্সিমকো ২০.১৫ শতাংশ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বারাকা পাওয়ার ১৮.০১ শতাংশ, পাট খাতের নর্দান জুট ২১.৮৭ শতাংশ এবং ট্যানারি খাতের এ্যাপেক্স ফুটওয়্যার ২৫.৪৮ শতাংশ।

শেয়ারবাজার নিউজ/ আতাউর রহমান

আপনার মন্তব্য

Top