বোনিটো এক্সেসরিজের আইপিও বাতিল: আর্থিক প্রতিবেদন অতিমূল্যায়িতসহ একাধিক জালিয়াতি

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: শেয়ারবাজার থেকে অর্থ উত্তোলনের জন্য প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) বোনিটো এক্সেসরিজ এর আবেদন বাতিল করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন বিএসইসি। বিএসইসি তদন্তে আর্থিক প্রতিবেদন অতিমূল্যায়িত সহ একাধিক জালিয়াতি উঠে এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

এ বিষয়ে আজ সোমবার কোম্পানি ও ইস্যু ম্যানেজারকে চিঠি দিয়েছে বিএসইসি।

সূত্র মতে, কোম্পানি নিয়ম লঙ্ঘন করেছে এবং তার আর্থিক প্রতিবেদন অতিমূল্যায়িত করেছে, যাতে বিনিয়োগকারীরা তার শেয়ার কেনার ক্ষেত্রে আরও আগ্রহী হয়।

এদিকে আইপিওর অর্থ ব্যবহার করে যেখানে ভবন নির্মিত করবে সেই জায়গা কোম্পানিটি কিনেনি। বিএসইসি মনে করেন কোম্পানিটি আইপিওর অর্থ সংগ্রহের জন্য তার প্রতিবেদনে জালিয়াতি করেছে ।

কোম্পানি ২০১৫-১৬ থেকে ২০১৮-১৯ পর্যন্ত তার আর্থিক প্রতিবেদনে বিক্রয়কে বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে কোম্পানির ভবিষ্যতের লাভ কমে যাবে বলে জানিয়েছেন বিএসইসি।

২০১৬ সালের জুনে কোম্পানির শেয়ার মূলধন ছিল এক কোটি টাকা। এটি দ্রুত জনসাধারণের কাছে যাওয়ার জন্য অল্প সময়ের মধ্যেই এর শেয়ার মূলধন বাড়িয়ে ৪০ কোটি টাকা করেছে।

তবে কোম্পানিটি বেসরকারী অফারের আওতায় পুরো মূলধন ব্যবহার করেনি।

এর পরে, প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে কোম্পানিটি ৩০ কোটি টাকা সংগ্রহের জন্য কমিশনের কাছে আবেদন করেছিল। সেক্ষেত্রে কমিশনের কাছে প্রি-আইপিও সহযোগী কাগজপত্র জমা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

কোম্পানি দেখিয়েছে যে তাদের দীর্ঘমেয়াদী ব্যাংক ঋণ রয়েছে ২.২৬ কোটি টাকা এবং নগদ রয়েছে ১.৬৬ কোটি টাকা। কিন্তু কোম্পানি তিন কোটি টাকার ঋণ শোধ করার বিষয়ে আইপিও আবেদনে দেখিয়েছে।

বিএসইসি লক্ষ্য করেছে যে, কোম্পানি অপারেটিং খরচ কমিয়ে দিয়ে তার অপারেটিং আয়ের পরিমাণকে বাড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া প্রশাসনিক ব্যয় এবং বিতরণ ব্যয়ের সম্মিলিত পরিমাণ ছিল গত বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত ১.৭৮ কোটি টাকা। কিন্তু কোম্পানির আয় ছিল ৪৫.৬১ কোটি টাকা।

একই সময়ে, কোম্পানি তার সমস্ত পরিচালক এবং কর্মকর্তাদের ২.২১ কোটি টাকা পারিশ্রমিক প্রদান করেছিল।

কোম্পানির নিট আয়ের অনুপাত ১১.০৪ % দেখানো হয়েছে, যা টেক্সটাইল খাতের গড়ের চেয়ে বেশি।

বিএসইসি সূত্র মতে, কোম্পানি নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে সবগুলো বিষয়ে সঠিক তথ্য দিতে ব্যর্থ হয়েছে। কোম্পানিটি খুব শীঘ্রই তার মুনাফার উপর কোভিড -১৯ মহামারীর একটি উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে, যা শেয়ারহোল্ডারদেরও ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।

উল্লেখ্য, বোনিটো এক্সেসরিজ ইন্ডাস্ট্রিজ ১০০% রফতানিমুখী গার্মেন্টস আনুষাঙ্গিক প্রস্তুতকারক এবং রপ্তানিকারক।

কোম্পানির প্রধান কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে উৎপাদন, প্রসেসিং, প্রিন্টিং, কাটিং, সিলিং এবং সমস্ত ধরণের বোতাম, ইলাস্টিক, হ্যাঙ্গার, পলিব্যাগ, পিভিসি ব্যাগ, গাম টেপ, সেলাই থ্রেড, হ্যাং ট্যাগ, বার কোড, ব্যাক বোর্ড, পেপার বোর্ড , ফটো কার্ড, লেবেল ইত্যাদি।

কোম্পানি যন্ত্রপাতি ক্রয়, বিল্ডিং নির্মাণ ও ঋণ পরিশোধের জন্য ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতির মাধ্যমে শেয়ারবাজার থেকে ৩০ কোটি টাকা সংগ্রহ করতে চেয়েছিল।

বিএমএসএল ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, সিএপিএম অ্যাডভাইজরি লিমিটেড এবং ইবিএল ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড কোম্পানির ইস্যু ম্যানেজার।

শেয়ারবাজার নিউজ/আতাউর রহমান

আপনার মন্তব্য

Top