দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মূলধনী কোম্পানির তালিকায় ওয়ালটন

শেয়ারাবাজার রিপোর্ট: দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মূলধনী কোম্পানির তালিকায় অবস্থান করেছে প্রকৌশল খাতের কোম্পানি ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।  দেশের বৃহত্তম টেলিযোগাযোগ কোম্পানি গ্রামীণফোনের পরের স্থানটি দখলে নিয়েছে ওয়ালটন। গত ২৩ সেপ্টেম্বর শেয়ারবাজরে তালিকাভুক্ত হওয়ার  পর থেকে ওয়ালটনের শেয়ারের প্রতি অনেক আগ্রহ দেখিছে বিনিয়োগকারীরা। যার কারণে এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয় সবচেয়ে বেশি মূলধনী কোম্পানি হিসেবে অবস্থান করছে ওয়ালটন।

ঢাকা স্টক একচেঞ্জের (ডিএসই) সূত্রে অনুযায়ী, ওয়ালটনের বাজার মূলধন বর্তমানে বেড়ে অবস্থান করছে  ২২ হাজার ৯৩৪ কোটি টাকা। যা লেনদেন শুরু দিনে অবস্থান করেছিল ১১ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে বাজার মূলধনের বিবেচনায় নেতৃত্বের শীর্ষ তালিকায় থাকা বিট্রিশ আমেরিকান টোবাকো বাংলাদেশ, ইউনাইটেড পাওয়ার ও স্কয়ার ফার্মাসিটিক্যালের মত কোম্পানিকেও পিছনে ফেলে দিয়েছে ওয়ালটন।

বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ শেয়ারবাজার থেকে ১০০ কোটি টাকা উত্তোলন করেছে। এর মধ্যে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ৬০ কোটি ৯৬ লাখ ৫৭ হাজার ৮০৫ টাকা এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ৩৯ কোটি ৩ লাখ ৪২ হাজার ১৯৫ টাকা সংগ্রহ করেছে। সংগৃহীত টাকা থেকে ৬২ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যবসা সম্প্রসারন, ৩৩ কোটি টাকা ঋণ পরিশোধ ও ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা আইপিও পরিচালনা বাবদ ব্যয় করা হবে।

বৃহস্পতিবার কোম্পানির শেয়ারদর সর্বশেষ লেনদেন হয় ৮১৩ টাকা ৮০ পয়সায়। আর ৩৩৫ বারে মোট ৮ হাজার ৭২৩টি শেয়ার লেনদেন হয়।

এ বিষয়ে একাধিক বাজার সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিবর্গ বলেন,  অনেক দিন ধরে শেয়ারবাজারের প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে বা আইপিও’তে ভালো কোনো কোম্পানি আসেনি। বর্তমানে বাজারে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ কোম্পানির তালিকাভুক্ত হওয়া নতুন মাইফলক। বাংলাদেশি কোম্পানিগুলোর মধ্যে ওয়ালটন নিঃসন্দেহে খুবই ভালো একটি কোম্পানি। ওয়ালটনের তালিকাভুক্তি বাজারের উন্নয়ন ও বিনিয়োগকারীর আস্থা ফেরানোর ক্ষেত্রে খুবই ইতিবাচক। তারা আরও প্রত্যাশা করেছিলেন যে ওয়ালটন দেশের মূলধন বাজারে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক সংস্থাগুলির চেয়ে আরও ভাল করবে এবং এটি ইতিমধ্যে স্পষ্ট যে তার প্রত্যাশা বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। 

এ বিষয়ে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের কোম্পানি সচিব পার্থ প্রতিম দাশ বলেন, ওয়ালটন শেয়ারের জন্য বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘদিন ধরে আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছেন। আশা করছি পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের কাঙ্খিত প্রত্যাশা পূরণ করতে ওয়ালটন সব সময় সচেষ্ট থাকবে।

বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে টেলিকম খাতের কোম্পানি গ্রামীনফোন বর্তমানে বাজার মূলধনে দিক থেকে শীর্ষ স্থানে অবস্থান করছে। বর্তমানে কোম্পানির বাজার মূলধনের পরিমান বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৪ হাজার ৫৯৯ কোটি টাকায়।

বাজার মূলধনের তৃতীয় অবস্থানে আছে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো লিমিটেড। বর্তমানে কোম্পানির বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৩০৪ কোটি টাকা। চতুর্থ অবস্থানে আছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড। কোম্পানির বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ২২২ কোটি টাকা।

বিদ্যুৎ খাতের কোম্পানি ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্টিবিউশন কোম্পানি পঞ্চম স্থানে অবস্থান ধরে রেখেছে। কোম্পানির বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৭১৫ কোটি টাকা।

শেয়ারাবাজারনিউজ/এম.আর

আপনার মন্তব্য

Top