আজ: শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১ইং, ৫ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা রমজান, ১৪৪২ হিজরি

সর্বশেষ আপডেট:

০৩ জানুয়ারী ২০২১, রবিবার |

বিতর্কিত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সফি উল্লাহকে অবশেষে বদলি করা হয়েছে

শেয়ারবাজার ডেস্ক : বৃহস্পতিবার (৩ ডিসেম্বর) বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম।

তিনি জানিয়েছেন, এটি সমপদে নিয়মিত বদলি। পদোন্নতি বদলি নয়, উনি নিয়মিত পদায়নে সমপদে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে বদলি হয়েছেন।

মো. সফি উল্লাহ কিশোরগঞ্জের ভৈরবের অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা (ফরেস্ট রেঞ্জার) এএইচএম আসাদ উল্লাহ ও গৃহিনী সেলিনা বেগমের সন্তান। ২০১৯ সালের ৭ নভেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তিনি যোগদান করেন

জানা যায়, প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে পেটানোই শুধু নয়, দিরাই’র ইউএনও উপজেলায় যোগ দিয়েই একাধিক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছিলেন। প্রকাশ্য সমাবেশে জনপ্রতিনিধিদের সাথে বিতর্কসহ ক্ষমতার অপব্যবহার করেন।

এক পর্যায়ে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্দিষ্ট বিষয়ে লিখিত ব্যাখা চেয়ে চিঠি লিখেন। এতে বেকায়দায় পড়ে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।

সর্বশেষ শুক্রবার (২৭ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪ টায় দিরাইয়ে রাফসান একাডেমি ফুটবল টুর্নামেন্টের একটি ম্যাচ চলাকালীন প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের বেধড়ক পেটান ইউএনও শফি উল্লাহ।

এসময় ভিডিও ধারণ করতে গেলে এক দর্শককেও পেটান তিনি। পরে রাত ১০ টায় দিরাই থানায় বসে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলামের মধ্যস্থতায় নিষ্পত্তি হয়।

খেলোয়াড়দের পেটানার সংবাদটির সূত্রে পরদিন সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের নির্দেশে তদন্তে আসেন সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন। তদন্তে মারামারির সত্যতা পাওয়ার প্রতিবেদন দেওয়া হয়।

এর আগে উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্টের নাম নিজের ছেলে ‘রাফসান’র নাম অনুসারে নামকরণ করেন। শুধু তাই নয়, এলাকার নবীন-প্রবীণ খোলোয়াড়কে পাশ কাটিয়ে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনও করান নিজের ছেলেকে দিয়ে। তখন বিষয়টির বিতর্ক সৃষ্টি হয়।

গত ৭ অক্টোবর একটি সংবাদের প্রয়োজনীয় তথ্য নেওয়া শেষে কল কেটে দেওয়ার সময় ‘স্যার’ না ডেকে ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করায় ক্ষেপেছিলেন তিনি। এ নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

এছাড়াও বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এস.এম হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যে অভিযোগ দিয়ে তাকে অহেতুক হয়রানি করেন তিনি। গত দুই মাস আগে আড়িয়াল খাঁ নদীর খনন কাজের কোটি কোটি ঘনফুট বালু উত্তোলন করে তা নিজেই বিক্রি করে টাকা আত্মসাৎ করায় ব্যাপক সমালোচনা হয় তাকে নিয়ে। তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে তাকে মামলাসহ হয়রানির ভয় দেখানো ছিল প্রধান অস্ত্র। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সাংবাদিকদের তার রুমে প্রবেশাধিকার ছিল কড়াকড়ি অবস্থা। গত বছরের ডিসেম্বরে ভাঙ্গা বাজারের ৬৫ শতাংশ সরকারি জায়গা বরাদ্দর নামে কথিত দোকানদারদের কাছ কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য করেন তিনি।

এ নিয়ে এলাকাবাসী ও ভাঙ্গা বাজারের ব্যবসায়ীরা সড়ক অবরোধসহ মানববন্ধন করেন। সড়ক অবরোধ ও মানববন্ধনের কারণে জেলা প্রশাসক অতুল সরকার দোকান-ঘর বরাদ্দ বন্ধ করে উক্ত জায়গায় কাজ বন্ধের নির্দেশ দেন। এ বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমগুলো ফলাও করে সংবাদ প্রকাশ করে।

এছাড়াও তার সাথে অফিসের কোন কর্মকর্তার সাথে ভালো ব্যবহার না থাকায় সমন্বয় সভায় অনেকেই উপস্থিত হতো না। ফরিদপুর-৪ আসনের মাননীয় সাংসদ মজিবুর রহমান চৌধুরীর সাথেও তার ছিল বৈরী আচরণ। এই ইউএনও’র জন্য সাংসদকে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে অনেক বেগ পেতে হয়েছে।

ইউএনও’র বদলির সংবাদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফাইজুর রহমান বলেন, এই ইউএনও ভাঙ্গায় যোগদানের পর হতেই ভাঙ্গাবাসীকে জিম্মি করে অর্থ বাণিজ্যে লিপ্ত হয়েছে। তার পাপের ঘড়া পূর্ণ হওয়ায় জনতার আন্দোলনের মুখে তার পতন হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখন দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স সেখানে এই ইউএনও অনেক বেশি সাহস দেখিয়েছে।

এ ব্যাপারে ভাঙ্গা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী যুবলীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন বলেন, তার বদলির আদেশের খবরে ভাঙ্গায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। এখন আরেকটি দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) আল-আমিন মিয়ার বদলি হলে ভাঙ্গাবাসী মুক্ত হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন থাকবে এদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় কমিশনার দ্বারা তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া সময়ের দাবি।

শেয়ারবাজার নিউজ/মি

 

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published.