আজ: বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১ইং, ৮ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৪ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি

সর্বশেষ আপডেট:

০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২১, মঙ্গলবার |



kidarkar

বিমা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধেই ঘুষ দাবির অভিযোগ

শেয়ারবাজার ডেস্ক: বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান এম মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে ঘুষ চাওয়ার বিষয়টি চাউর হয়ে গেছে। তার বিরুদ্ধে একটি বিমা কোম্পানি দুদকে অভিযোগও করেছে। তার সঙ্গে কথোপকথনের একটি অডিওবার্তা ফাঁস হয়েছে।

সূত্র জানায়, সরকার বিমা খাতে শৃঙ্খলা আনতে ঐ কর্তৃপক্ষ গঠন করে। কিন্তু কর্তৃপক্ষের শীর্ষ পদধারীদের বিরুদ্ধে বরাবরই কেনাকাটাসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠে। বিগত চেয়ারম্যানরাও এই অভিযোগের বাইরে ছিলেন না। সর্বশেষ বেসরকারি খাত থেকে কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় মোশাররফ হোসেনকে। তিনিও বিতর্কে জড়িয়ে পড়লেন। টেলিফোন সংলাপে দেখা যায়,

অন্যদিকে আইডিআরএ সূত্রে জানা গিয়েছে, ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সঙ্গে আইডিআরএ চেয়ারম্যান ড. এম মোশাররফ হোসেনের দ্বন্দ্ব শুরু ২০১৯ সালের অক্টোবরে। ওই সময় ডেল্টা লাইফের ২০১৫-২০১৭ পর্যন্ত তিন বছরের আর্থিক প্রতিবেদন বিশেষ নিরীক্ষার জন্য হাওলাদার ইউনূস অ্যান্ড কোম্পানি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টসকে নিয়োগ দেয়া হয়। পাশাপাশি কোম্পানিটির আর্থিক অবস্থা তদন্তের জন্য ফেমস অ্যান্ড আর চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টসকেও নিয়োগ দেয় আইডিআরএ। দুই নিরীক্ষকের প্রতিবেদনে ডেল্টা লাইফের ৪৭টি অনিয়মের বিষয় উঠে আসে। এর মধ্যে গ্রাহকের পলিসির অর্থ পরিশোধ না করা, তহবিলের পরিমাণ বাড়িয়ে দেখানো, রাজস্ব ফাঁকি, ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে আদায় করা অর্থ কোম্পানির হিসাবে না দেখানো, ব্যাংক হিসাবে বড় ধরনের গরমিল এবং আর্থিক প্রতিবেদন তৈরির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক নিরীক্ষামান যথাযথভাবে অনুসরণ না করা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এছাড়া নিরীক্ষকের প্রতিবেদনে ১০টি বিষয়ে অধিকতর তদন্তের সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি সুনির্দিষ্টভাবে আরো ২৫টি অনিয়মও চিহ্নিত করেছেন নিরীক্ষক। এর পরিপ্রেক্ষিতে কোম্পানিটি গ্রাহকের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করছে বলে মনে করছে আইডিআরএ।

ঘুষ দাবি করে ডেল্টা লাইফের যুগ্ম নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুল আওয়ালের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপ করেন আইডিআরএ চেয়ারম্যান ড. মোশাররফ। যেখানে তিনি বলেন যে, টাকা না দিলে আইডিআরএ থেকে ৫০ থেকে ৭০ লাখ টাকা জরিমানা করা হবে। আর জরিমানা হলে তা কোম্পানির জন্য খারাপ হয়। এভিডেন্স হয়ে যায়। আর জরিমানা না দিতে চাইলে মামলা চালাতে আরো কয়েক লাখ টাকা খরচ হয়ে যাবে। এজন্য আগামী তিন বছর শান্তিতে যাতে কাজ করা যায় সেজন্য স্যারকে বুঝিয়ে বলেন। বিষয়টি আমাকে হেন্ডেল করতে দেন। আমি এখানে অনেকদিন আছি। ‘সো লং আই অ্যাম সিটিং অভার দেয়ার’। আইনের বাইরে যেয়ে আইডিআরএতে কেউ কোনো কাজ করতে পারবে না। সেটা যে যতই প্রেশারই করুক।

কথোপকথনে আইডিআরএ চেয়ারম্যান বলেন, প্রধানমন্ত্রী অফিসে পলিসি হোল্ডারদের হিসাব দেওয়ার কথা ছিল না। কিন্তু আপনারা দিয়েছেন। ঐখানে যোগাযোগ করলে এখানে কেন দিয়েছেন। সেখান থেকেই আমার কাছে তথ্য এসেছে। ঐখানে কে দিতে বলেছে। আইডিআরএ হলো আপনাদের বাপ-মা। অর্থমন্ত্রী স্যার আমার ওপর কথা বলবেন না। আর সিনিয়র সচিব স্যারও আমার ওপর কথা বলবেন না। অ্যান্ড দে হ্যাভ নোন-হোয়াট ইজ গোয়িং অন।

কোম্পানি থেকে এত টাকা ঘুষ দিলে তা হিসাবে মেলানো যাবে না বলে আওয়াল জানালে আইডিআরএ চেয়ারম্যান বলেন যে, ডেলটা থেকে না দিক স্যার যেখান থেকে পারে করুক। এছাড়া বিভিন্ন কাজে প্রধানমন্ত্রী অফিসের লোক যুক্ত আছেন বলেও জানান আইডিআরএ চেয়ারম্যান।

এদিকে এর আগেও আইনবহির্ভূতভাবে শেয়ার ব্যবসা, বেতনের ডাবল গাড়ি ভাতা নেওয়ার মতো কর্মকাণ্ড করেছেন আইডিআরএর প্রতিষ্ঠাকালীন চেয়ারম্যান এম শেফাক আহমেদ। তিনি আইডিআরের ক্ষমতা ইচ্ছামতো ব্যবহার করেছেন। এছাড়া আইডিআরের দ্বিতীয় চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান পাটোয়ারীর বিরুদ্ধেও ছিল নানা অভিযোগ। এখন বর্তমান চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ উঠায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে যে, যারা বিমা খাতের উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ করেন তারাই যদি এ ধরনের অপকর্ম করেন তাহলে কীভাবে এ খাতে শৃঙ্খলা ফিরবে। এমনিতেই বিমার প্রতি মানুষের আস্থা নেই। এমন পরিস্থিতিতে আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য করণীয় কী—সে বিষয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

শেয়ারবাজার নিউজ/মি

 

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.