আইপিওতে কোটা সুবিধা হারাচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্তরা

dse copyশেয়ারবাজার রিপোর্ট: পুঁজিবাজার ধ্বসে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়া সাধারন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) আর কোটা সুবিধা পাচ্ছেন না।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্দেশনা অনুযায়ি ৩০ জুন ২০১৫ অর্থাৎ চলতি মাসের পর থেকে এ সুবিধা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

প্রথমবারের মত এ সুবিধা দু বছরের জন্য ২০১২ সাল থেকে দেয়া হয়। এরপর ২০১৪ সালের জুনে এ কোটার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে সাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক উভয় বিনিয়োগকারীদের দাবির মুখে কোটার মেয়াদ এক বছর বাড়িয়ে ২০১৫ পর্যন্ত আনা হয়।  কিন্তু এবছর বিএসইসি’র পক্ষ থেকে নতুন করে এ সংক্রান্ত ঘোষণা এখনো পর্যন্ত না আসায় কোটা সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবার উপক্রম হয়েছে।

এদিকে পুঁজিবাজারের অব্যাহত মন্দায় লোকসান থেকে বের হতে পারছেন না ক্ষতিগ্রস্তরা। তাদের পোর্টফলিওর ইক্যুইটির মাইনাসের পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে। আইপিওর ক্ষতিগ্রস্তদের কোটায় শেয়ার বরাদ্দ পেলে সেই ক্ষতি কিছুটা কাটিয়ে উঠা যায়। তাই পুঁজিবাজার তথা বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে আইপিওতে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের নির্ধারিত ২০ শতাংশ কোটা বরাদ্দের সময় আরো বাড়ানো হোক-এমনটাই প্রত্যাশা করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

জানা যায়, পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকার ২০১১ সালের ২৩ নভেম্বর প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে। প্রণোদনা প্যাকেজে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে বিশেষ স্কিম দেয়ার জন্য ঐ বছরের ২৭ নভেম্বর ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফায়েকুজ্জামানের নেতৃত্বে ৬ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। গঠিত কমিটি ২০১২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বিনিয়োগকারীদের ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে বিভিন্ন সুপারিশসহ অর্থ মন্ত্রণালয়ে একটি প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ২০ শতাংশ কোটা বরাদ্দের কথা বলা হয়।

এরপর ঐ বছরের ৫ মার্চ অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে ২০ শতাংশ কোটায় আবেদন করার জন্য ১৮ মাস সময় বেঁধে দেয় (১ জুলাই ২০১২ থেকে ডিসেম্বর ২০১৩)। ৩০ এপ্রিল বিশেষ স্কিম কমিটি ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রণয়ন করে বিএসইসির কাছে জমা দেয়। এর মধ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সদস্যভুক্ত ২০৪টি ব্রোকারেজ হাউসের ৭ লাখ ৩৯ হাজার ৮৮৩ জন, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সদস্যভুক্ত ১০৩টি ব্রোকারেজ হাউসের ১ লাখ ৫৪ হাজার ২৭৭ জন এবং ২৫ টি মার্চেন্ট ব্যাংকের ৩৯ হাজার ১২০ জন বিনিয়োগকারী রয়েছেন। এতে করে সর্বমোট ৯ লাখ ৩৩ হাজার ২৮০ জন ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারী কোটা সুবিধার আওতায় আসেন।

২০১২ সালের ২৬ জুন মার্জিন ঋণের ৫০ শতাংশ সুদ মওকুফ এবং আইপিওতে বিনিয়োগকারীদের ২০ শতাংশ কোটাসহ বিশেষ কমিটির সুপারিশ অনুমোদন করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। পরবর্তীতে ৩ জুলাই ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের লোকসান সমন্বয়ের কথা চিন্তা করে কোটা বরাদ্দের সময়সীমা আরো ৬ মাস সময় বৃদ্ধি করা হয়। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীরা ২০১৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে ২০ শতাংশ কোটা পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন বলে জানানো হয়। সে পরিপ্রেক্ষিতে বিএসইসি আইপিওতে কোটা বরাদ্দ শুরু করে।

পরবর্তীতে পুঁজিবাজারের বৃহত্তর স্বার্থে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের বিশেষ স্কীমের আওতায় সকল পাবলিক ইস্যুতে ২০ শতাংশ কোটা সংরক্ষণের মেয়াদ ১ জুলাই,২০১৪ তারিখ থেকে ৩০ জুন,২০১৫ পর্যন্ত অর্থাৎ আরো এক বছর বাড়ানোর জন্য মন্ত্রনালয়ের কাছে সুপারিশ করার জন্য কমিশনের ৫১৬তম সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

বিএসইসির সুপারিশের ভিত্তিতে অর্থমন্ত্রনালয় আইপিওতে কোটার মেয়াদ এক বছর বাড়িয়ে দেয়। সেই প্রেক্ষিতে চলতি মাসেই এর মেয়াদ শেষ হচ্ছে। অর্থাৎ এই মেয়াদ আর না বাড়ানো হলে ক্ষতিগ্রস্তরা এ মাসের পর আর কোটা সুবিধা পাবেন না।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কোটা সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবার ফলে বাজার আবারও বড় ধরনের আস্থাহীনতা তৈরী হবার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। চলতি বছরে বাজার আগের তুলনায় গতিশীলতা ফিরে পেলেও এ ধরণের সিদ্ধান্ত বাজারকে আবার অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিবে বলে মনে করছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও।

মার্জিন ঋণধারী অ্যাকাউন্টে যেসব বিনিয়োগকারী বড় ধরণের লোকসানের মুখে পড়েছিলেন, আইপিও’তে কোটা সুবিধা পাওয়ার ফলে তারা অনেকেই নতুন করে ব্যবসা করতে পেরেছেন। তাই এ সুবিধা বন্ধ হলে বিনিয়োগকারীদের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। এর পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউজগুলো নেগেটিভ ইক্যুইটিতে থাকা গ্রাহকদের হারাবেন।

 

 

 

শেয়ারবাজারনিউজ/ও/সা

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top