২২ ফান্ডের বিনিয়োগে লোকসান ৩০০ কোটি

mfশেয়ারবাজার রিপোর্ট : পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৪০টি মেয়াদি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে ২২টি ফান্ডের সম্পদমূল্য (এনএভি)ক্রয়মূল্যে নির্ধারিত সম্পদমূল্যের তুলনায় কমেছে। আর ক্রয়মূল্যের তুলনায় বাজারমূল্যে নির্ধারিত এনএভি কমে যাওয়ায় এ ২২ ফান্ডের ইউনিট হোল্ডাররা ২৯৪ কোটি ৬৪ লাখ ৫৯ হাজার ২৬৯ টাকা লোকসানে পড়েছে। বাকি ১৮ ফান্ডের এনএভি ক্রয়মূল্যের তুলনায় বাজারমূল্যে বেশি রয়েছে।

প্রসঙ্গত, মেয়াদি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মেয়াদ শেষে আইন অনুযায়ী নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান দ্বারা বর্তমান বাজারমূল্যে নির্ধারিত এনএভি অনুযায়ী ইউনিট হোল্ডাররা তাদের বিনিয়োগকৃত টাকা ফেরত পাবেন। কিন্তু এ ২২ ফান্ডের এনএভি’র বর্তমান বাজারমূল্য ক্রয়মূল্যের তুলনায় কম হওয়ায় এসব ফান্ডের বিনিয়োগকারীরা লোকসানে আছেন।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, সর্বশেষ চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি মাসে নির্ধারিত এনএভি অনুযায়ী সম্পদ ব্যবস্থাপক এলআর গ্লোবাল পরিচালিত এনসিসি ব্যাংক মিউচ্যুয়াল ফান্ডের বর্তমান বাজারমূল্যে নির্ধারিত এনএভি ১০.৬৮ টাকা।অপরদিকে ক্রয়মূল্যে ফান্ডটির এনএভি রয়েছে ১১.০২ টাকা। পরিণতিতে ফান্ডটির ইউনিট হোল্ডাররা এ ফান্ডে বিনিয়োগ করে ৩ কোটি ৬৭ লাখ ২৩ হাজার ৫২৬ টাকা লোকসানে পড়েছেন।

একই সম্পদ ব্যবস্থাপক পরিচালিত এলআর গ্লোবাল ওয়ান মিউচ্যুয়াল ফান্ডের বর্তমান বাজারমূল্যে নির্ধারিত এনএভি ১০.৫০ টাকা। অপরদিকে ক্রয়মূল্যে ফান্ডটির এনএভি রয়েছে ১০.৯৩ টাকা। পরিণতিতে ফান্ডটির ইউনিট হোল্ডাররা এ ফান্ডে বিনিয়োগ করে ১৩ কোটি ৩০ লাখ ৭৯ হাজার ২৮১ টাকা লোকসানে পড়েছে।

এছাড়া ক্রয়মূল্যের তুলনায় বাজার মূল্য কমে যাওয়ায় মার্কেন্টাইল ব্যাংক প্রথম মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট হোল্ডাররা ৪ কোটি ৮৬ লাখ ৬ হাজার ৪৫১ টাকা, আল-আরাফাহ ইসলামি ব্যাংক প্রথম মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট হোল্ডাররা ৫ কোটি ৬৩ লাখ ২৭ হাজার ৮৯৬ টাকা, গ্রীণ ডেল্টা মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট হোল্ডাররা এক কোটি ৮৪ লাখ ১৫ হাজার ২৬৩ টাকা, ডিবিএইচ প্রথম মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট হোল্ডাররা ৭ কোটি ৩২ লাখ ৫৬ হাজার ৪২৬ টাকা লোকসানে পড়েছেন।

এদিকে অপর সম্পদ ব্যবস্থাপক আইসিবি এএমসিএল পরিচালিত আইসিবি সোনালি ব্যাংক প্রথম মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করে ইউনিট হোল্ডাররা ৮ কোটি ৪৮ লাখ ৫৩ হাজার ৭২৮ টাকা, আইএফআইএল মিউচ্যুয়াল ফান্ড ওয়ানের ইউনিট হোল্ডাররা ১৩ কোটি ২৮ লাখ ২০ হাজার ৮৪৭ টাকা, আইসিবি তৃতীয় এনআরবি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট হোল্ডাররা ৩২ কোটি ২৫ লাখ ১৮ হাজার ৭৬১ টাকা, প্রাইম ফাইন্যান্স প্রথম মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট হোল্ডাররা ১৯ কোটি ১৭ লাখ ৫৪ হাজার ৪৭২ টাকা, প্রাইম ওয়ান মিউচ্যুয়াল ফান্ড এর ইউনিট হোল্ডাররা ২৮ কোটি ৮৮ লাখ ৯৮ হাজার ৮৭৬ টাকা, আইসিবি এমপ্লইজ প্রভিডেন্ড মিউচ্যুয়াল ফান্ড স্কীম ওয়ানের ইউনিট হোল্ডাররা ২৩ কোটি ১৫ লাখ ৯২ হাজার ৩৫৩ টাকা, আইসিবি এএমসিএল সেকেন্ড মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট হোল্ডাররা ১৯ কোটি ৭৮ লাখ ৮৪ হাজার ৬০৬ টাকা, প্রথম প্রাইম ফাইন্যান্স মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট হোল্ডাররা ৯ কোটি ৯২ লাখ ৮ হাজার ৪২১ টাকা, আইসিবি সেকেন্ড এনআরবি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট হোল্ডাররা ৩৩ কোটি ৪৩ লাখ ২৮ হাজার ২৩১ টাকা, আইসিবি প্রথম এনআরবি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট হোল্ডাররা ৮ কোটি ১৭ লাখ ৪ হাজার ৬৯৫ টাকা লোকসানে পড়েছেন।

অপরদিকে সম্পদ ব্যবস্থাপক রেস পরিচালিত ইবিএল এনআরবি মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করে ইউনিট হোল্ডাররা ৫ কোটি ৩৬ লাখ ২৮ হাজার ৫৭৮ টাকা, পিএইচপি মিউচ্যুয়াল ফান্ড ওয়ানের ইউনিট হোল্ডাররা ২২ কোটি ৭৩ লাখ ২৪ হাজার ৪২০ টাকা, পপুলার লাইফ মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট হোল্ডাররা ৯ কোটি ৫০ হাজার টাকা, প্রথম জনতা মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট হোল্ডাররা ৮ কোটি ৫৭ লাখ ৯৭ হাজার ৩৮ টাকা, আইএফআইসি প্রথম মিউচ্যুয়াল ফান্ড এর ইউনিট হোল্ডাররা ৩ কোটি ১ লাখ ৯ হাজার ৯৫৪ টাকা, ইবিএল প্রথম মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট হোল্ডাররা ১২ কোটি ৭৫ লাখ ৭৫ হাজার ৪৩৪ টাকা লোকসানে পড়েছেন।

পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ আবু আহমেদ এ বিষয়ে শেয়ারবাজার নিউজ ডট কমকে বলেন, ‘চলমান মন্দাবস্থা থেকে মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলো বের হতে পারছে না। যা তাদের সম্পদ ব্যবস্থাপকদের অদক্ষতারই প্রমাণ দেয়। তাছাড়া এসব ফান্ড খুব বেশি ডিভিডেন্ডও দিতে পারছে না। আর মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোর ব্যর্থতার মূল্য কিন্তু সাধারণ বিনিয়োগকারীদেরকেই দিতে হচ্ছে। তাই এ অবস্থা থেকে উত্তোরণের জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) তদারকি জোরদার করা জরুরি।’

শেয়ারবা্জার/অ

আপনার মন্তব্য

Top