আজ: মঙ্গলবার, ১৫ জুন ২০২১ইং, ২রা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

সর্বশেষ আপডেট:

২৫ এপ্রিল ২০২১, রবিবার |


kidarkar

নিস্ফলা ম্যাচ হলেও বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির এক ড্র!

স্পোর্টস ডেস্ক: বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার মধ্যকার পাল্লেকেলে টেস্ট যে ড্র হতে যাচ্ছে সেটা আন্দাজ করা যাচ্ছিল অনেক আগ থেকেই। কিউরেটররা উইকেটকে ‘ব্যাটিং স্বর্গ’ বানিয়ে রেখেছিলেন। অমন পিচে প্রতিপক্ষের বিশ উইকেট তুলে নেওয়া কঠিনতম কাজগুলোর একটি। বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা কোনো দলই তা পারেনি। ব্যাটারদের রান উৎসবের মধ্যে পাল্লেকেলেতে নিস্ফলা ড্র’ই হয়েছে। ক্রিকেটীয় পরিভাষায় এটা নিস্ফলা ম্যাচ হলেও বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির এক ড্র।

আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে আগের পাঁচ ম্যাচের প্রতিটিতেই হেরে যাওয়া বাংলাদেশ এই প্রথম পয়েন্টের দেখা পেল। তাছাড়া টেস্টে মোটেও ভালো সময় কাটছিল না বাংলাদেশের। ভারত, পাকিস্তানের মাঠে উড়ে যাওয়ার পর দেশের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় সারির দলের বিপক্ষে হোয়াইটওয়াশ হতে হয়েছে বাংলাদেশকে। শ্রীলঙ্কায় কেমন ফল হয় তা নিয়েও শঙ্কিত ছিলেন অনেকে। ফলে পাল্লেকেলের এই ড্র’টা টাইগারদের জন্য নিশ্চয় স্বস্তির। তবে তামিম ইকবাল মনে মনে হয়তো স্বস্তিতে নেই। পাল্লেকেলের দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরির সম্ভবনা জাগানো বাংলাদেশি তারকা সেঞ্চুরি পেলেন না একটিও।

প্রথম ইনিংসে ১০১ বলে ৯০ রানের চকচকে একটা ইনিংস খেলে হঠাৎ-ই আউট হয়ে গেছেন। দ্বিতীয় ইনিংসে তামিমকে সেঞ্চুরি বঞ্চিত করল আবহাওয়া। আজ শ্রীলঙ্কার প্রথম ইনিংস থেমেছে ৬৪৮ রানে। সকালে তাসকিন আহমেদের পেসে কুলিয়ে উঠতে না পেরে ৮ উইকেটে ৬৪৮ রানে ইনিংস ঘোষণা করে শ্রীলঙ্কা। যাতে লঙ্কানরা লিড পায় ১০৭ রানে।

জবাব দিতে নেমে শুরুতেই বাংলাদেশের দুই তরুণ সাইফ হাসান ও নাজমুল হোসেন শান্ত ফিরে গেলে শেষ দিনের রোমাঞ্চের একটা গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। তামিম দ্বিতীয় ইনিংসেও দুর্দান্ত ব্যাটিং করে সেই রোমাঞ্চের রেশ উড়ে দিয়েছেন। প্রথম ইনিংসে শূন্য রানে আউট হওয়া সাইফ আজ দ্বিতীয় ইনিংসে ১ রান করতে পেরেছেন। তরুণ ওপেনিং ব্যাটারের নানাবাড়ি শ্রীলঙ্কায়। নানাবাড়িতে সফল হতে পারলেন না এই যাত্রায়ও। সুরঙ্গা লাকমালের গুড লেংথের বলে টাইমিং মিস করে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছেন। প্রথম ইনিংসে দেড়শোর্ধ্ব রান করা নাজমুল হোসেন শান্ত লাকমালের বাইরের বল স্ট্যাম্পে টেনে এনে বোল্ড হয়েছেন শূন্য রানে।

 

তারপর মুমিনুল হক এসে হাল ধরেছেন। তবে অন্য প্রান্তে রীতিমতো স্টোকের ফুলঝুঁড়ি ছুটিয়েছেন তামিম। ডাউন দ্য উইকেটে তেঁড়েফুড়ে এসে ছক্কা হাঁকিয়েছেন, ভালো বলেও সীমানা ছাড়া করেছেন। মনে হচ্ছিল প্রথম ইনিংসে নিজের ভুলে সেঞ্চুরি মিস করা তামিম দ্বিতীয় ইনিংসে সেঞ্চুরি পেয়েই যাচ্ছেন। পঞ্চম দিনের চা বিরতিতে যাওয়ার সময় ৭৪ রানে অপরাজিত ছিলেন বাঁহাতি ওপেনার। কিন্তু চা বিরতি শেষে আর ব্যাটিংয়েই ফেরা হলো না তামিমের।

হঠাৎ বজ্রসহ বর্ষণ শুরু করল ক্যান্ডির আকাশ। ফলে সেখানেই দিনের খেলা শেষ ঘোষণা করে দেন আম্পায়াররা। যাতে ফলাফল ম্যাচ ড্র। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের স্কোর ছিল তখন ১০০/২। ৭৪ রান করতে ৯৮ বল খেলে ১০টি চার ৩টি ছক্কা মেরেছেন তামিম। মুমিনুল হক অপর প্রান্তে অপরাজিত ছিলেন ২৩ রানে।

এর আগে দিনের শুরুতে গতির চমক দেখিয়েছেন তাসকিন আহমেদ। শেষ দিনেও উইকেটে বোলারদের জন্য কিছুই ছিল না। ফলে তাসকিন গতির মিশ্রনে ছক কষেছিলেন। আগের পুরোটা দিন ব্যাটিং করা ধনঞ্জয়া ডি সিলভাকে ১৫৪ ওভারে নকাল বল করেছিলেন। পরের বলটা ১৪১ কিলোমিটার গতি দিয়ে ভরকে দেন ধনঞ্জয়াকে। বুঝে উঠতে না পেরে ব্যক্তিগত ১৬৬ রানের মাথায় বোল্ড ধনঞ্জয়া। যাতে ৩৪৫ রানের জুটি ভেঙেছে। কিছুক্ষণ পর ডাবল সেঞ্চুরি করা করুনারত্নেকেও গতির মিশ্রনে বোকা বানিয়েছেন তাসকিন।

 

১৫৬তম ওভারের তৃতীয় বলটা করলেন স্লোয়ার। পরের বলটা করেছেন ১৪০ কিলোমিটার গতিতে। ভরকে গিয়ে নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ক্যাচ দিয়েছেন করুনারত্নে। তার আগে ৪৩৭ বল খেলে ২৬টি চারের সাহায্যে ২৪৪ রান করেছেন লঙ্কান দলপতি। ধনঞ্জয়া ২৯১ বল খেলে ২২টি চারে ১৬৬ রান করেন।

এরপর পাথুম নিশাঙ্কাকে (১২) উইকেটের পেছনে ক্যাচ বানিয়েছেন ইবাদত হোসেন। হাসারাঙ্গাকে (৪৩) বোল্ড করেছেন তাইজুল ইসলাম। ৮ উইকেটে ৬৪৮ রান তুলে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে শ্রীলঙ্কা। মরা উইকেটে বাংলাদেশের সেরা বোলার তাসকিন। তিন উইকেট তুলে নিয়েছেন অনেকদিন দলের বাইরে থাকা এই পেসার। দুই উইকেট নিয়েছেন তাইজুল। একটি করে উইকেট পেয়েছেন মেহেদি হাসান মিরাজ ও ইবাদত হোসেন।

এর আগে নাজমুল হোসেন শান্তর ১৬৩, অধিনায়ক মুমিনল হক সৌরভের ১২৭, তামিম ইকবালের ৯০ ও মুশফিকুর রহিমের ৬৮ রানে ৭ উইকেটে ৫৪১ রান তুলে নিজেদের প্রথম ইনিংস ঘোষণা করেছিল বাংলাদেশ।

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.