আজ: মঙ্গলবার, ১৫ জুন ২০২১ইং, ১লা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

সর্বশেষ আপডেট:

২২ মে ২০২১, শনিবার |


kidarkar

নতুন ৩০ ট্রেক: শেয়ারবাজারে বাড়বে লেনদেন ও গভীরতা

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: ২০১০ সালের মহাধ্বসের পর দেশের শেয়ারবাজার নিয়ে এক রকম ‘হতাশ’ হয়ে পড়েছিলেন বিনিয়োগকারীরা। পুঁজি হারিয়ে বাজার থেকে নীরবে বেরিয়ে গেছেন অনেকেই। তবে নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সিকউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) বর্তমান চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম গত বছর দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই বাজারে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। গত এক বছরে তার কমিশনের নেয়া ‘বাজারবান্ধব’ বেশ কিছু পদক্ষেপ শেয়ারবাজারের চিরায়ত গণ্ডি ভেঙেছে। ফলে বাজারমুখি হয়েছে অনেক পুরাতন বিনিয়োগকারী। নতুন বিনিয়োগকারীরাও প্রতিনিয়ত বাজারে অন্তর্ভূক্ত হচ্ছেন।

এছাড়া বর্তমানে বাজারের সূচক ও লেনদেনের ইতিবাচক উত্থান, ৩০টি ট্রেডিং রাইট এনটাইটেলমেন্ট সার্টিফিকেটের (ট্রেক) অনুমোদন বিনিয়োগকারীদের নতুন করে আশান্বিত করছে। এর ফলে শেয়ারবাজারে লেনদেন ও গভীরতা বাড়বে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

তারা বলছেন, বিএসইসি’র বর্তমান দায়িত্বশীলরা দুই বছরের মধ্যে বাজারে দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ তিন থেকে পাঁচ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করবেন বলে ইতিপূর্বে যে পরিকল্পনা নিয়েছেন তা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবে নতুন ৩০টি ট্রেক। কারণ এসব প্রতিষ্ঠান কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে ব্যবসা করবে বলে। আর ব্যবসা করতে চাইলে নতুন নতুন ফান্ড বাজারে আনতে হবে। আর নতুন ফান্ড বাজারে আসলে এমনিতেই লেনদেন বাড়বে।

বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) প্রেসিডেন্ট ছায়েদুর রহমান শেয়ারবাজারনিউজকে বলেন, দীর্ঘদিন পর কমিশন নতুন করে ৩০টি প্রতিষ্ঠানকে ব্রোকার ব্যবসার লাইসেন্স দিয়েছে। এর মাধ্যমে একদিকে শেয়ারবাজারে লেনদেন বাড়বে। অন্যদিকে দেশ-বিদেশে শেয়ারবাজারের গভীরতাও বাড়বে।

তিনি বলেন, আমাদের বর্তমানে পিই রেশিও যে অবস্থায় রয়েছে তা পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে অর্ধেক। এই জায়গাতে দৃষ্টি দিতে হবে।

তিনি বলেন, শেয়ারবাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি খাত হলো ব্যাংক। দীর্ঘদিন এই খাত ঝিমিয়ে ছিলো। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকগুলো ভালো লভ্যাংশ ঘোষণা করায় এই খাতের শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আলাদা আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ফলে বাজারে লেনদেন বেড়েছে। আমি মনে করি, আগামীতে শেয়ারবাজারে লেনদেন আরও বাড়বে।

ডিএসইর পরিচালক শাকিল রিজভী বলেন, নতুন ট্রেক অনুমোদনের ফলে পুঁজিবাজারে লেনদেন বাড়বে। কারণ তারাও ব্যবসা করবে, ব্যবসা করলে নতুন নতুন ফান্ড বাজারে আনতে হবে। নতুন নতুন ফান্ড আসলে শেয়ারবাজারে লেনদেন বাড়বে।

এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে শেয়ারবাজারের লেনদেন নিয়ে বিনিয়োগকারীরা বেশ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে ঈদ-উল ফিতর পরবর্তী গত এক সপ্তাহের প্রায় সব কার্যদিবসেই বাজারে উত্থান হয়েছে। এ সময়ে লেনদেন ও সূচকে দেখা গেছে চমক। এই চমকে সদ্য সমাপ্ত সপ্তাহে বাজারে মূলধন ফিরেছে দুই হাজার কোটি টাকার বেশি।

বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন বিনিয়োগকারীরা। আলতাফ নামের একজন বিনিয়োগকারী বলেন, বাজারে উত্থান-পতন থাকবেই। এবং এটাই স্বাভাবিক। তবে পতনের নামে যদি ধ্বস হয় তা বেশ আশঙ্কার। আমি মনে করি বর্তমানে সেই আশঙ্কাটি নেই। এ অবস্থা চলতে থাকলে বাজারে লেনদেন আরও বাড়বে।

বাজার বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস লেনদেন শুরুর আগে ডিএসইতে বাজার মূলধন ছিল ৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৪০ কোটি ৫৩ লাখ ৮৪ হাজার টাকায়। আর সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস লেনদেন শেষে বাজার মূলধন দাঁড়ায় ৪ লাখ ৯২ হাজার ২৯২ কোটি ৯ লাখ ৬৬ হাজার টাকায়। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে বিনিয়োগকারীরা ২ হাজার ৩৫১ কোটি ৫৫ লাখ ৮২ হাজার টাকা বাজার মূলধন ফিরে পেয়েছে।

বিদায়ী সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ৮ হাজার ৪২৪ কোটি ৪৬ লাখ ২৩ হাজার ৬৪০ টাকার লেনদেন হয়েছে। আর আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ৪ হাজার ২০৮ কোটি ৯৫ লাখ ৮৮ হাজার ২৮১ টাকার। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে লেনদেন ৪ হাজার ২১৫ কোটি ৫০ লাখ ৩৫ হাজার ৩৫৯ টাকা বা ১০০ শতাংশ বেড়েছে।

সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৬২.৫৭ পয়েন্ট বা ১.০৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৮১৩.০৭ পয়েন্টে। অপর সূচকগুলোর মধ্যে শরিয়াহ সূচক ২.৩৩ পয়েন্ট বা ০.১৮ শতাংশ এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৮.৪০ পয়েন্ট বা ০.৩৮ শতাংশ কমে দাঁড়িয়ে যথাক্রমে ১ হাজার ২৭২.৮১ পয়েন্ট এবং ২১৭৮.৪৭ পয়েন্টে।

বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ৩৭১টি প্রতিষ্ঠান শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ১৬৯টির বা ৪৫.৫৫ শতাংশের, কমেছে ১৪৯টির বা ৪০.১৬ শতাংশের এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৩টির বা ১৪.২৯ শতাংশের শেয়ার ও ইউনিট দর।

অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বিদায়ী সপ্তাহে টাকার পরিমাণে লেনদেন হয়েছে ৪৭৩ কোটি ৮৬ লাখ ১৪ হাজার ৪৬৮ টাকার। আর আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ২২৮ কোটি ৩৪ লাখ ৬২ হাজার ৬৫৭ টাকার। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে সিএসইতে লেনদেন ২৪৫ কোটি ৫১ লাখ ৫১ হাজার ৮১১ টাকা বা ১০৮ শতাংশ বেড়েছে।

সপ্তাহটিতে সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৭৯.৪৪ পয়েন্ট বা ১.০৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৮৩৭.৬৪ পয়েন্টে। সিএসইর অপর সূচকগুলোর মধ্যে সিএসসিএক্স ১০৫.৪০ পয়েন্ট বা ১.০৪ শতাংশ, সিএসই-৩০ সূচক ১৩৫.৭৫ পয়েন্ট বা ১.০৭ শতাংশ এবং সিএসই-৫০ সূচক ১০.৫৬ পয়েন্ট বা ০.৮৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১০ হাজার ১৪৯.০৭ পয়েন্ট, ১২ হাজার ৭৭৯.২৫ পয়েন্টে এবং ১ হাজার ২৬৭.৩৭ পয়েন্টে। অপর সূচক সিএসআই ৯.২২ পয়েন্ট বা ০.৮৯ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩২.৭৭ পয়েন্টে।

সপ্তাহজুড়ে সিএসইতে ৩২৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১৬৩টির বা ৪৯.৮৫ শতাংশের দর বেড়েছে, ১২১টির বা ৩৬.৭৮ শতাংশের কমেছে এবং ৪৪টির বা ১৩.৩৭ শতাংশের দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

বিদায়ী সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক মূল্য আয় অনুপাতও (পিই রেশিও) কিছুটা বেড়েছে। সপ্তাহের শুরুতে ডিএসইর পিই ছিল ১৭.৭৩ পয়েন্টে। যা সপ্তাহ শেষে ১৭.৮৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে পিই রেশিও ০.১০ পয়েন্ট বা ০.৫৬ শতাংশ বেড়েছে।

৫ উত্তর “নতুন ৩০ ট্রেক: শেয়ারবাজারে বাড়বে লেনদেন ও গভীরতা”

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.