থেমে নেই পুঁজিবাজার

Editorialটানা অবরোধ এবং হরতালের মধ্যেও পুঁজিবাজার এগিয়েছে সামনের দিকে। বক্তব্যটি আমাদের মনগড়া নয়। শেয়ারবাজার নিউজ ডটকম  তথ্য প্রমাণসহ অবরোধ শুরুর আগের আট কার্যবিস এবং অবরোধ শুরুর পরের আট কার্য দিবসের তুলনামূলক চিত্র নিয়ে গত ১৭ জানুয়ারি ২০১৫ ইং তারিখ একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। ওই রিপোর্টের তথ্য উপাত্ত বলছে, অবরোধে সব ব্যবসা আটকে রাখতে পারলেও শেয়ার ব্যবসা আটকাতে পারেনি। অবরোধের প্রভাব পড়েনি শেয়ার বাজারে। আমরা মনে করি এটি পুঁজিবাজারের জন্য একটি শুভ ইঙ্গিত।
শেয়ারবাজার নিউজ ডটকমের রিপোর্টটিতে যে তথ্য প্রকাশ পেয়েছে তাতে বলা হয়েছে, গত ৬ জানুয়ারি থেকে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত টানা হরতাল অবরোধে পুঁজিবাজারে আট কার্যদিবস লেনদেন হয়েছে। এতে আগের আট কার্যদিবসের তুলনায় ১ হাজার ৫৮ কোটি ৯৪ লাখ ৫১ হাজার টাকা বেশি লেনদেন হয়েছে।
হিসাব মতে, ওই আট কার্যদিবসে ৬৮ কোটি ৮৪ লাখ ৬৩ হাজার ৫৪৬টি শেয়ার মোট ৭ লাখ ৭ হাজার ৯১৫ বার লেনদেন হয়েছে। যার বাজার মূল্য ছিল ২ হাজার ৭৬৩ কোটি ৮৯ লাখ ৬৮ হাজার টাকা।
অথচ এর আগের আট কার্যদিবসে ৪২ কোটি ৪৩ লাখ ৬ হাজার ২৯টি শেয়ার মোট ৫ লাখ ৭ হাজার ১৮১ বার লেনদেন হয়েছে। যার বাজার মূল্য ১ হাজার ৭০৪ কোটি ৯৫ লাখ ১৭ হাজার টাকা। এতে দেখা যাচ্ছে, অবরোধের সময় লেনদেনকৃত শেয়ার সংখ্যা ২৬ কোটি ৪১ লাখ ৫৭ হাজার ৫১৭টি বেশি হয়েছে। এছাড়া হাতবদলের ২ লাখ ৭৩৪ বার বেশি হয়েছে। অন্যদিকে উক্ত সময়ে ১ হাজার ৫৮ কোটি ৯৪ লাখ ৫১ হাজার টাকা বেশি লেনদেন হয়েছে।
এ ধরনের একটি খবর শুনে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও শেয়ারবাজার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেছেন, বিনিয়োগকারীরা বর্তমান সময়ে বিনিয়োগের জন্য শেয়ারবাজারকে নিরাপদ বলে মনে করছেন। এছাড়া আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারীদের কাছে আস্থাশীল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তাই বাজারের প্রতি তারা আগ্রহ বাড়াচ্ছে। যার ফলে রাজনৈতিক সংকটও পুঁজিবাজারে প্রভাব ফেলতে পারেনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই প্রভাষক সাহেব তার দৃষ্টিকোন থেকে মন্তব্য করেছেন তার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গিতে, এটা তিনি করতেই পারেন। কিন্তু আমাদের বক্তব্য অন্যখানে। আমরা মনে করি, পুঁজিবাজার কোন পন্য কেনা বেচার জায়গা নয়। এখানে ক্রেতা বিক্রেতার বেচাকেনা হয় ইন্টারনেটে। তথ্য প্রযুক্তির কারণে শেয়ার লেনদেনের জন্য এখন কোন বিনিয়োগকারীকেই মতিঝিলের ডিএসই ভবনে কিংবা তার সংশ্লিষ্ট হাউজে যেতে হয়না। যদি তাই হয়ে থাকে তাহলে বাজারের পরিস্থিতি আরো সন্তোষজনক হওয়া উচিত ছিল। অবরোধের বিশ্লেষণ রিপোর্ট যে তথ্যই দিকনা কেন আমরা মনে করি বাজারের ভলিউম আরো বড় হওয়া উচিত। জানুয়ারি, বছরের প্রথম মাস হিসাবে অন্যান্য যে কোন বছরের তুলনায় এবারের লেনদেন অনেক কম। আমরা আশা করি, ডিজিটাল বাংলাদেশের বিষয়টি মাথায় রেখে বিনিয়োগকারীগণ নতুন উদ্যোমে বিনিয়োগে ঝাপিয়ে পড়বেন এবং চাঙ্গা করে তুলবেন পুঁজিবাজারকে।

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top