আজ: মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই ২০২১ইং, ১২ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৫ই জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি

সর্বশেষ আপডেট:

২৯ জুন ২০২১, মঙ্গলবার |



kidarkar

মহামারির দ্বিতীয় ওয়েভের মাঝেও আইপিডিসির সাফল্যযাত্রা অব্যাহত

শেয়ারবাজার ডেস্ক: প্রথম ত্রৈমাসিক সময়কালের আর্থিক চিত্রের উল্লেখযোগ্য অংশ প্রকাশ, আগামী দিনগুলোর জন্য কাজের মানদণ্ড নির্ধারণ এবং সামনের দিকে এগিয়ে যেতে প্রয়োজনীয় কৌশলসমূহ আলোচনা করতে ইনভেস্টরস মিট আয়োজোন করেছে আইপিডিসি ফাইন্যান্স লিমিটেড।

সোমবার ২৯ জুন ভার্চুয়াল মাধ্যমে অনুষ্ঠিত অধিবেশনটিতে মহামারির দ্বিতীয় ওয়েভ সত্ত্বেও আইপিডিসির রেকর্ড উপার্জনের প্রসঙ্গে আলোকপাত করা হয়। অধিবেশনটিতে বিনিয়োগকারী, সাংবাদিক, দেশ-বিদেশের শিল্প বিশেষজ্ঞসহ আইপিডিসি-র অফিসিয়াল ফেসবুক পেজের মাধ্যমে উপস্থিত ছিলেন বিপুল পরিমাণ দর্শক।

অধিবেশনটিতে আলোচ্য বিষয়গুলো উপস্থাপন করেন আইপিডিসি-র ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং সিইও মমিনুল ইসলাম। তিনি প্রথম ত্রৈমাসিকে আইপিডিসি-র আর্থিক চিত্র উপস্থাপনের পাশাপাশি কোভিড-১৯ পরবর্তী পরিকল্পনা সম্পর্কেও ধারণা দেন। এ সময় জনাব মমিনুল ইসলাম কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ (সিএমএসএমই), নারী ও তরুণ উদ্যোক্তা এবং ঢাকা-চট্টগ্রামের বাইরে নিম্ন-মধ্য আয়ের পরিবারের গুরুত্বারোপ করে প্রযুক্তিনির্ভর ও সামাজিকভাবে দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক মডেলগুলির উপর জোর দিয়েছেন, যা খুব কঠিন সময়েও আইপিডিসি-র টেকসই প্রবৃদ্ধি এবং লাভজনকতা নিশ্চিত করতে বিরাট ভূমিকা পালন করেছে। আইপিডিসি এমন সাফল্য অর্জনে সক্ষম হয়েছেচ কারণ প্রতিষ্ঠানটি সুযোগ্য কর্পোরেট প্রশাসন দ্বারা পরিচালিত, সক্রিয়ভাবে তার কৌশলগুলি নির্ধারণ করে এবং গ্রাহক, কর্মী ও ভোক্তাসমাজের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করে।

২০২১-এর প্রথম প্রান্তিক পর্যন্ত সময়ের হিসাব অনুযায়ী, আইপিডিসির কাস্টমার ডিপোজিট গত পাঁচ বছরে ৯.২ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে যার অন্যতম কারণ প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্নি উদ্ভাবনী ডিপোজিট ক্যাম্পেইন। প্রথম প্রান্তিকের আয় ২০১৬ সালের একই সময়ের তুলনায় ৬.৪ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এর শ্রেণীকৃত ঋণের অনুপাত রয়েছে ০.৯৫% এ যা তালিকাভুক্ত ডাইভারসিফাইড এনবিএফআইগুলোর মধ্যে এই খাতে এখনও সর্বনিম্ন।

মহামারির দ্বিতীয় ওয়েভ সত্ত্বেও, আইপিডিসি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় নিজস্ব পারফরম্যান্সকে ছাড়িয়ে গেছে। এটি ১৬.৭৮% মূলধন পর্যাপ্ততা অনুপাতসহ একটি শক্তিশালী মূলধন ভিত্তি বজায় রেখেছে। সামনে কঠিন সময় বিবেচনা করে রাখা পর্যাপ্ত প্রভিশন বাদেও প্রতিষ্ঠানটির ২০২১ সালের প্রথম প্রান্তিকে ট্যাক্স পরবর্তী নিট মুনাফা ২০.৫ কোটি টাকা যা ২০১৬ সালের প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় ৩.৪ গুণ বেশি। সংস্থাটিও ২০২১ এর প্রথম প্রান্তিক শেষ করেছে ১৩৮.৭ কোটি টাকার শক্তিশালী তারল্য নিশ্চিত করে, যা এর স্বল্পমেয়াদী দায় মেটাতে যথেষ্ট।

জনাব মমিনুল ইসলাম প্রয়োজনীয় খাতে, বিশেষত কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র, এবং মাঝারি আকারের উদ্যোগকে (সিএমএসএমই) সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন, যেহেতু এটি কর্মচারী সংখ্যা এবং জিডিপির প্রতি তাদের অবদানের দিক থেকে অর্থনীতির বৃহত্তম অংশ। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশ অনুসারে ৭০ কোটি টাকার স্টিমুলাস প্যাকেজ বিতরণে ‘এসএমই বন্ধু’ প্রডাক্ট চালু করা হয় এবং ইউনিলিভার, রবি ও আড়ংয়ের মতো উল্লেখযোগ্য কর্পোরেশনগুলির সাথে অর্থবহ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা হয়।

কর্মীবাহিনীর স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত করতে আইপিডিসি ফ্রি কোভিড টেস্টিং করেছে এবং ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনকে দ্রুত বাস্তবায়ন করে বাড়ি থেকে কাজ করার ব্যবস্থা করেছে। লকডাউন চলাকালে অফিসে এসে কাজ করা কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও সব ধরণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।

আইপিডিসি জনগোষ্ঠীর সহায়তার জন্য ‘আইপিডিসি মানবতা’ ডিপোজিট পুনরায় চালু করেছে, যা অর্থ সঞ্চয় করতে এবং একই সাথে সঞ্চয়ের বিপরীতে নির্দিষ্ট হারে সুবিধাবঞ্চিতদের মধ্যে খাবার সরবরাহে ভূমিকা রেখেছে। সেই সাথে আইপিডিসি তাদের সমস্ত এসএমই ক্লায়েন্টের জন্য কোভিডের বিপরীতে বিনামূল্যে জীবনবীমা এবং স্বাস্থ্য বীমা সরবরাহ করা শুরু করে।

আইপিডিসি করোনা পরিস্থিতির মাঝেও দেশের প্রথম বই কেনার লোন ‘সুবোধ’কে ফিরিয়ে আনে এবং বইমেলার মৌসুমে স্বাস্থ্যবিধি বজায় রেখেই নতুন বইয়ের ঘ্রাণে বিভোর হতে রকমারি ডটকমের সহযোগিতায় অনলাইনে ০% সুদে সুবোধ লোন দিয়ে বই ক্রয়ের ব্যবস্থা করে।

ডিজিটাল উদ্যোগের মধ্যে আইপিডিসি ‘অগ্রজ’ নামে একটি অনলাইন শো পরিচালনা করছে। স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে বিভিন্নি ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা কীর্তিমানদের জয়যাত্রার গল্প তাঁদের সাথে আলাপচারিতার মাঝে তুলে ধরা হয় এই অনুষ্ঠানটিতে।

বিশ্বদরবারে বাংলাদেশি লোকসঙ্গীতকে প্রচারের লক্ষ্যে আইপিডিসি ফাইন্যান্স লিমিটেড ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে একটি ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্ম ‘আইপিডিসি আমাদের গান’ শুরু করে। প্ল্যাটফর্মটিতে রয়েছে দেশের প্রতিশ্রুতিশীল গায়কদের কণ্ঠে স্টুডিও-রেকর্ডকৃত লোকসঙ্গীত পরিবেশনা। ফকির লালন শাহ, শাহ আবদুল করিম এবং পল্লীকবি জসিমউদ্দিনসহ একাধিক বিখ্যাত শিল্পী ও লেখক/কবিদের লেখা বেশ কয়েকটি গানের কভার অতুলনীয় জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এরই স্বীকৃতি স্বরূপ বাংলাদেশ কপিরাইট অফিস আইপিডিসি ফাইন্যান্সকে ‘মেধাস্বত্ব সম্মাননা পুরস্কার ২০২১’ এ সম্মানিত করেছে।

আইপিডিসির অনেক অর্জনের মধ্যে একটি হলো, বাংলাদেশ ইনোভেশন কনক্লেভ আয়োজিত বাংলাদেশ ইনোভেশন পুরষ্কার ২০২১ জয়। আইপিডিসি তার ‘অর্জন’ প্রকল্পের জন্য বেস্ট ইনোভেশন- ফাইন্যান্স – এনবিএফআই বিভাগের অধীনে এই পুরস্কার অর্জন করেছে। ‘অর্জন’ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রথম ব্লকচেইন-ভিত্তিক ডিজিটাল সাপ্লাই চেইন ফাইন্যান্স প্ল্যাটফর্ম। ‘দ্য মোস্ট প্রগ্রেসিভ অরগানাইজেশন’

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.