আজ: বুধবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২২ইং, ১২ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২১শে জমাদিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি

সর্বশেষ আপডেট:

২৬ অগাস্ট ২০২১, বৃহস্পতিবার |



kidarkar

উড়তে থাকা শেয়ারবাজারে বড় পতন

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: গত কয়েক সপ্তাহ ধরে শেয়ারবাজার যেন উড়ছিলো। সূচক আর লেনদেন দুই বাড়ছিলো পাল্লা দিয়ে। সূচকতো রীতিমতো ইতিহাসও তৈরি করলো। ঊড়তে থাকা বাজারে গতকাল বুধবার কিছুটা পতন হয়। সেই ধারবাহিকতায় আজ বৃহস্পতিবার বড় পতন হয়েছে। এদিন প্রধান সূচক কমেছে ২৭ পয়েন্ট।

ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার ডিএসইতে টাকার অংকে ২ হাজার ২২৭ কোটি ৬৪ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আজ ডিএসইতে আগের দিন থেকে ৩৪৩ কোটি ১২ লাখ টাকা কম লেনদেন হয়েছে। গতকাল ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ২ হাজার ৫৭০ কোটি ৭৬ লাখ টাকার।

এদিন ডিএসই প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স ২৭ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৬ হাজার ৮৫১ পয়েন্টে। অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই৩০ সূচক ৬ পয়েন্ট এবং ডিএসইএস বা শরীয়াহ সূচক ৬ পয়েন্ট কমেছে।

বৃহস্পতিবার ডিএসইতে মোট ৩৭৬টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১০৫টির, দর কমেছে ২৫১টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ২০টি কোম্পানির।

অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচকের পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। সিএসই সার্বিক সূচক ১২০ পয়েন্ট কমে ১৯ হাজার ৯৩৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে। সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৮৪ কোটি ৫৭ লাখ টাকার শেয়ার।

জুলাই থেকে টানা প্রায় দুই মাস বাড়তে থাকা পুঁজিবাজার সংশোধনে যেতে পারে, এমন কথা বলাবলি হচ্ছিল গত কয়েকদিন ধরেই। কারণ, পুঁজিবাজার চাঙভাবের সময়ও মাসের পর মাস অসীম পরিমাণ বাড়তে পারে না। একটা পর্যায়ে গিয়ে থামে, শেয়ারগুলো কিছুটা দর হারায়, এরপর আবার আগায়। এই দাম কমাটাই সাধারণভাবে সংশোধন হিসেবে পরিচিত।

তেমনি মন্দা বাজারে কেবল দাম পড়তে থাকে না। একটা পর্যায়ে কিছুদিন পরেই ঘুরে দাঁড়ায়।

পুঁজিবাজার এখন দীর্ঘমেয়াদে উত্থানেই আছে বলে ধারণা করা হয়। গত বছরের ২ জুলাই শুরু হওয়া উত্থান পর্বে চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত বেশ বড় সংশোধন আর ৩০ মে থেকে এক মাস একটি বৃত্তে ঘুরপাক খেয়েছে পুঁজিবাজার।

জুলাইয়ের শুরু থেকে ৬ হাজার থেকে সাত হাজার পয়েন্ট ছুঁই ছুঁই অবস্থানে চলে যাওয়ার দশা হয় বুধবার। ৬ হাজার ৯০০ পয়েন্ট ছাড়িয়ে আরেকটি মাইলফলকের দিকে যখন ছুটে চলা, তখন শেষ সোয়া এক ঘণ্টায় বাজারের আচরণে বাড়তে থাকা আত্মবিশ্বাসে কিছুটা চিড় ধরাতে পারে, সেটি বোঝা যাচ্ছিল। হয়েছে তাও। বৃহস্পতিবার সূচক ধরে রাখতে পুঁজিবাজারে লড়াই চলছিল শুরু থেকেই।

৬ হাজার ৭৮৭ পয়েন্ট দিয় দিন শুরু করা বাজার শুরুতেই ৬ হাজার ৮৯৪ পয়েন্টে উঠে যায়। কিন্তু ১০ মিনিটও টিকতে পারেনি। ১৫ মিনিট পরেই তা আগের দিনের তুলনায় ১৯ পয়েন্ট কমে যায়। সেখান থেকে আবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা।

বেলা ১০টা ৫২ মিনিটে সূচক আবার ৬ হাজার ৮৯৮ পয়েন্টে উঠে। কিন্তু সেখান থেকে এরপর টানা পড়ে বেলা ১২টা ১২ পর্যন্ত। এই সময়ে সূচক কমে ৫২ পয়েন্ট।

এরপর বেলা ১২টা ৫৭ মিনিটে সূচক সেখান থেকে বাড়ে আবার ৪১ পয়েন্ট। সূচকের অবস্থান তখন ৬ হাজার ৮৮৭ পয়েন্ট, যা আগের দিনের চেয়ে ৯ পয়েন্ট বেশি।

তবে বেলা একটার পর কেবল পড়েছেই সূচক। প্রথম ২০ মিনিটে পড়ে ২০ পয়েন্ট। এরপর পতনের গতি কমে কিছুটা। পরের ১০ মিনিটে কমে আরও ৪ পয়েন্ট।

বেলা দুইটায় সূচকের অবস্থান হয় ৬ হাজার ৮৫৩ পয়েন্ট যা আগের দিনের চেয়ে ২৫ পয়েন্ট কম। বেলা ২টার পর মিনিট দশেক সূচক আরও কমে ৯ পয়েন্ট। তবে শেষ ২০ মিনিটে শেয়ারগুলো হারিয়ে ফেলা দরের অল্প কিছু ফিরে পেলে সূচক ফিরে পায় ৬ পয়েন্ট।

শেষ পর্যন্ত আগের দিনের তুলনায় ২৭ পয়েন্ট কমে লেনদেন শেষ হয় ৬ হাজার ৮৫১ পয়েন্টে।

গত ২৭ জুনের পর এটাই সবচেয়ে বড় পতন। সেনি সূচক পড়েছিল ১০০ পয়েন্ট।

বাজার সংশোধনের দিকে কি না, এমন প্রশ্নের মধ্যে লেনদেনের গতিও গেছে কমে। চার কর্মদিবস পর সেটি নামল আড়াই হাজার কোটি টাকার নিচে। এক পর্যায়ে তা দুই হাজার কোটি টাকার নিচে চলে যায় কি না, সেই শঙ্কাও তৈরি হয়েছিল। তবে শেষ ২০ মিনিটের ক্রয়াদেশে তা ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়।

৩ উত্তর “উড়তে থাকা শেয়ারবাজারে বড় পতন”

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.