বিনিয়োগকারীদের সুবিধা বঞ্চিত করা যাবেনা

Editorialঅবশেষে আটকেই গেল নন-লাইফ বীমা খাতের কোম্পানি বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) প্রক্রিয়া। দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থার টানা পোড়েনে দুর্দশায় পড়লো কোম্পানিটি। বিনিয়োগকারীরাও অবশ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কিন্তু সবচেয়ে বড় যে ক্ষতি হলো সেটি প্রতিষ্ঠান দুটির মর্যাদায়। কারন আইপিওর চাঁদা সংগ্রহের মাত্র একদিন আগে এসে বীমা নিয়ন্ত্রক সংস্থার মোড়লীপনায় কোম্পানিটির ওপর এমন একটি ধাক্কায় হতাশ হয়েছেন সব মহল।

সাধারন মানুষ না জানলেও আমাদের মতো বাজার সংশ্লিষ্টরা সকলেই জানি, একটি কোম্পানির আইপিওর টাকা উত্তোলনের যাত্রা শুরু হয় অন্তত এক বছরেরও বেশি সময় আগে থেকে। এই দীর্ঘ সময়ের পথ পাড়ি দিয়ে যখন কোম্পানিটি টাকা উত্তোলনের দ্বারপ্রান্তে এসে দাড়িয়েছে ঠিক সেই মুহূর্তে যে কোন ধরনের অনিয়মের কথা বলে তা বন্ধ করা যে কতবড় অনিয়ম হয়েছে, তা যারা করেছেন তারা বুঝবেননা। এর ভয়াবহতা ,অপকারিতা এবং সুনামহানির বিষয়টি টের পাচ্ছেন যারা উদ্যোক্তা তারা।

স্বচ্ছতার সাথে কোম্পানি বাজারে আসুক সেটা আমরাও চাই। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থেই আমাদের সেই চাওয়া। কিন্তু মাসের পর মাস কোনো খোঁজখবর না রেখে চুড়ান্ত সময়ে কাজে বাঘড়া দেয়াকে অনেকেই ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখছেন। এমন কি দুএকজন বলেও ফেলেছেন, যে অজুহাতে কোম্পানিটির আইপিও আটকানো হয়েছে তা কোনো অভিযোগই নয় বরং ভেতরে ভেতরে অন্য লেনদেনে মিটমাট না হওয়ায়ই নাকি এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। আমরা ওই দুএকজনের কথা যেমন বিশ্বাস করিনা তেমনি গুরুত্বও দেইনা। নিন্দুকেরা ওমন কথা বলতেই পারে। কিন্তু আমাদের কথা অন্য জায়গায়।
গত ২৫ জুন যেদিন কোম্পানিটির সঙ্গে আইডিআরের বৈঠক হয় এবং বৈঠক শেষে আইপিও পেছানোর সিদ্ধান্ত হয় সেদিন বিষয়টি বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, আইডিআরের আপত্তির মুখে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ আইপিও প্রক্রিয়া পিছিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের কাছে কোম্পানির চীফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার (সিএফও) ও সচিব ফিরোজুল ইসলাম বলেন, ‘যেহেতু বীমার নিয়ন্ত্রক সংস্থা আমাদের আইপিও প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। তাই বোর্ড আইপিও প্রক্রিয়া কয়েকমাস পরে করার ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করছে। পরিচালনা পর্ষদ সকল ধরনের কমপ্লায়েন্স পূরণ করেই বাজারে আসবে।’
এ কারণে কোম্পানির কোনো সমস্যা হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের ব্যবসা পরিস্থিতি ভালো, ইপিএস ৪ টাকার বেশি। বাজারে আসতে দেরি হলে সেক্ষেত্রে সাধারণ বিনিয়োগকারীরাই ক্ষতিগ্রস্থ হবে। তারা কোম্পানির লাভ থেকে বঞ্চিত হবেন।’
মিডিয়ায় কোম্পানির আইপিও বাধাগ্রস্ত হওয়ার পেছনে দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিরোধের কথা উল্লেখ করলেও প্রতিষ্ঠান দুটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাশাপশি রাখলে আমাদের কাছে সেটি মনে হয়নি।

কারন, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার মুখপাত্র সাইফুর রহমান সাংবাদিকদের স্পষ্টতই জানিয়ে দিয়েছেন ‘কোম্পানির রেজিট্রেশন সংক্রান্ত কোনো সমস্যা থাকলে সে ব্যাপারে আইডিআরএ বা আরজেএসসি’কেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমরা লিস্টিং রেগুলেশন অনুযায়ি কোম্পানিকে অনুমোদন দিয়েছি। লিস্টিং আইনের মধ্যে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের কোনো সমস্যা আমরা পাইনি।
আর আইডিআরএ বলছে, তাদের অনুমোদন ছাড়াই কোম্পানিটি বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) করে উদ্যেক্তা, পরিচালক ও শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ারের অনুপাতে পরিবর্তন এনেছে। আর অনুমোদন না নিয়েই ইজিএম করায় তারা বিএসইসিকে আপত্তিপত্র পাঠায়।
আইডিআরএ যে বিষয়গুলো উল্লেখ করে আপত্তিপত্র দিয়েছে তার সবগুলোই সমাধানযোগ্য ছিল বলে অনেকেই মনে করছেন।

দুই পক্ষ আন্তরিক হলে পুঁজিবাজারের জন্য এ ধরনের একটি কলঙ্কের ইতিহাস রচিত হতোনা বলেও অনেকের ধারনা। শেয়ার বাজারে এমনিতেই দুর্দিন যাচ্ছে, সেখানে কারো কোনো গাফলতিতে যদি বিনিয়োগকারীরা কোনো সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয় সেটা সবার জন্যই দুর্ভাগ্য বলেই আমরা মনে করবো। আর আমরা যে অনুরোধটি সব পক্ষের কাছে করবো সেটি হলো: বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্সের আইপিও নিয়ে যা ঘটে গেল পুঁজিবাজারের ইতিহাসে যেনো এটিই সর্বশেষ ঘটনা হয় এমন যেন দ্বিতীয়টিতে আর না হয়।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/ও.র/সা

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top