আজ: রবিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২১ইং, ১৩ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২২শে রবিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি

সর্বশেষ আপডেট:

২৩ নভেম্বর ২০২১, মঙ্গলবার |



kidarkar

বেক্সিমকোর মালিকপক্ষের বড় অঙ্কের শেয়ার ক্রয়ের ঘোষণা

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বেক্সিমকো লিমিটেডের বিপুল পরিমাণ শেয়ার কিনে নেয়ার মধ্যে এবার মালিকপক্ষও বড় অঙ্কের শেয়ার কেনার ঘোষণা দিয়েছে। পুঁজিবাজার থেকে তিন কোটি শেয়ার কেনার ঘোষণা দিয়েছে কোম্পানিটির করপোরেট পরিচালক বেক্সিমকো হোল্ডিংস। সম্প্রতি কোনো কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকদের পক্ষ থেকে শেয়ার কেনার সবচেয়ে বড় ঘোষণা এটি।

গত জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত চার মাসে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা কোম্পানিটির ১১ কোটি ৬৮ লাখ ১৩ হাজার ৩০৬টি শেয়ার কিনেছে। শেয়ার প্রতি সাড়ে তিন টাকা লভ্যাংশের রেকর্ড ডেট শেষে মঙ্গলবার ঢাকা ও চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটে এই তথ্য জানানো হয় বেক্সিমকো হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে।

এতে জানানো হয়, আগামী ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে এই শেয়ার কেনা শেষ করবে কোম্পানিটি। এক মাসে কর্মদিবস হয় সাধারণত ২০ থেকে ২২টি। সেই হিসাবে আগামী দেড় মাসের মধ্যেই এই শেয়ার কেনা শেষ করতে চায় তারা।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে থাকা শেয়ার যেমন বেচে দেয়ার অধিকার আছে, তেমনি তারা বাজার থেকে শেয়ার কিনতেও পারে। তবে সাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের শেয়ার কেনা-বেচার সঙ্গে তাদের শেয়ার কেনাবেচার পার্থক্য আছে। তাদের শেয়ার কেনা বা বেচা-দুই ক্ষেত্রেই সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দিতে হয়। মালিকপক্ষ শেয়ার কেনার এই ঘোষণা বাস্তবায় করলে কোম্পানিটিতে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের মালিকানা বেড়ে ৩৩ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে।

কোম্পানিটির বর্তমান শেয়ার সংখ্যা ৮৭ কোটি ৬৩ লাখ ১৮ হাজার ৮৭৯টি। এর মধ্যে ৩০.০৫ শতাংশ হিসেবে ২৬ কোটি ৩৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮২৩টি শেয়ার ধারণ করে আছেন। এই ঘোষণা বাস্তবায়ন হলে কোম্পানিটির ২৯ কোটি ৩৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮২৩টি শেয়ার তাদের হাতে থাকবে। তখন কোম্পানিটির ৩৩.৪৭ শতাংশের মালিকানা থাকবে মালিকপক্ষের হাতে।

বর্তমানে কোম্পানিটির মোট শেয়ারের ২৬.৯৫ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর হাতে, ১.২৭ শতাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে আর ৪১.২৩ শতাংশ আছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে। গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে পুঁজিবাজারে যে উত্থান দেখা দিয়েছে, তাতে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে বেক্সিমকো লিমিটেডের শেয়ারদর। এই সময়ে সর্বনিম্ন দরের তুলনায় শেয়ারদর এখন প্রায় ১৫ গুণ।

শেয়ারদর বাড়লেও কোম্পানিটির প্রতি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে। গত চার মাসেই প্রায় ১২ কোটি শেয়ার কিনেছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা, যাদেরকে দক্ষ বিনিয়োগকারী হিসেবে ধরা হয়।

পিপিই পার্ক ছাড়াও আরও একটি কারণে বেক্সিমকোর শেয়ার দর ক্রমেই বাড়ছে। কোম্পানিটির সহযোগী প্রতিষ্ঠান বেক্সি পাওয়ার দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে কাজ পেয়েছে। এর মধ্যে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নে একটি ২৮০ মেগাওয়াট ও পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় নির্মিত হচ্ছে ৫৫ মেগাওয়াটের আরও একটি সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র।

এর মধ্যে গাইবান্ধার কেন্দ্রটি নির্মাণ করছে তিস্তা সোলার লিমিটেড আর পঞ্চগড়েরটি নির্মাণ করছে করতোয়া সোলার লিমিটেড নামে কোম্পানি। এই দুটি কোম্পানির ৭৫ শতাংশের মালিক বেক্সিমকোর সহযোগী প্রতিষ্ঠান বেক্সি পাওয়ার। বেক্সি পাওয়ারের ৭৫ শতাংশের মালিক আবার বেক্সিমকো লিমিটেড। এই দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ে উৎপাদনে আসবে।

এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের অর্থায়নের জন্য বেক্সিমকো তিন হাজার কোটি টাকার সুকুক বন্ড ছেড়েছে। এই দুটি ঘটনায় বেক্সিমকোর শেয়ার দরে উল্লম্ফনের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা কোম্পানিতে তাদের শেয়ারের হিস্যা বাড়িয়ে চলছিলেন। গত জুলাই মাসে মোট শেয়ারের ৪ দশমিক ৬ শতাংশ হিসেবে ৪ কোটি ৩ লাখ ১০ হাজার ৬৬৮টি শেয়ার কেনে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা।

আগস্টে তা আরও  বাড়ে। এই মাসে ৬ কোটি ৮৯ লাখ ৬৬ হাজার ২৯৫টি শেয়ার কিনে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা কোম্পানিতে তাদের মালিকানা বাড়ায় ২৬ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ পর্যন্ত। জুলাই মাসে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা যখন বেক্সিমকোর চার কোটির বেশি শেয়ার কেনে, তখন এর দর ছিল ৮৯ থেকে ৯২ টাকার মধ্যে। আগস্টে তারা যখন প্রায় ৭ কোটি শেয়ার কেনে, তখন এই দাম বেড়ে যায়। ৯১ টাকা থেকে ১১১ টাকা ৩০ পয়সায় গিয়ে দাঁড়ায় দর। সেপ্টেম্বরে দাম বাড়ে আরও। এই সময়ে শেয়ার দর বেড়ে দাঁড়ায় ১৩৭ টাকা ২০ পয়সা।

তবে এই সময়টায় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা নতুন শেয়ার না কিনে কিছু বিক্রি করেছে। আগের মাসের তুলনায় শূন্য দশমিক ৫৩ শতাংশ শেয়ার কমে এখন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরের মালিকানা দাঁড়ায় ২৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ। অর্থাৎ এই মাসে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা ৪৬ লাখ ৪৪ হাজার ৪৯০টি শেয়ার বিক্রি করে।

তবে অক্টোবর মাসে এসে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা আরও ১ কোটি ২৭ লাখের মতো শেয়ার কেনে। কোম্পানিটিতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মালিকানা বেড়ে এখন হয়েছে ২৬ দশমিক ৯৫ শতাংশ, যা গত জুন শেষেও ছিল ১৩ শতাংশের কিছু বেশি

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.