অন্তর্দ্বন্দ্বে অ্যালায়েন্স সিকিউরিটিজ: আদালতের শরনাপন্ন চেয়ারম্যান

Allinceশেয়ারবাজার রিপোর্ট: দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সদস্য অ্যালায়েন্স সিকিউরিটিজ অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের পরিচালনা নিয়ে লেগেছে মহাঝঞ্ঝাট। চেয়ারম্যান পঙ্কজ রায়কে শোকজ না দিয়ে বরং কোন প্রকার কারণ ছাড়াই অবৈধভাবে বহিষ্কার করে নতুন চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের অন্য তিন সদস্য।

অথচ এ তিন পরিচালকের মধ্যে তপন কৃষ্ণ পোদ্দার অবৈধভাবে পরিচালক পদে রয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটির অন্য দুই পরিচালক হলেন পার্থ প্রতিম দাস এবং মাধব চন্দ্র দাস।

আর এ নিয়ে জটিলতা এবার আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে।

ডিএসই সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

চেয়ারম্যান পঙ্কজ রায় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান, ডিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজের (আরজেএসসি) রেজিস্ট্রারের কাছে এ সংক্রান্ত চিঠি গত ২৮ জুন জমা দিয়েছেন।

চিঠি থেকে জানা যায়, চেয়ারম্যান ও পরিচালকদের মধ্যে মূল জটিলতা শুরু হয় চলতি বছরের ২২ জুনের পরিচালনা পর্ষদের সভা থেকে। আর এ জটিলতা তৈরি হয় সিকিউরিটিজ হাউজটির সাবেক পরিচালক ও বর্তমানে অ্যালায়েন্স ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন কৃষ্ণ পোদ্দারকে ঘিরে। এর আগে তপন কৃষ্ণ পোদ্দার টানা ৫টি পর্ষদ সভায় উপস্থিত না থাকায় কোম্পানি আইন-১৯৯৪ সালের ১০৮ (এফ) ধারা অনুযায়ি পরিচালক পদ হারান। কিন্তু তিনি ২২ জুনের সভায় উপস্থিত থাকেন এবং সভা পন্ড করার চেষ্টা করেন।

কিন্তু ২২ জুনের সভায় নির্ধারিত কোন এজেন্ডা না থাকায় চেয়ারম্যান পঙ্কজ রায় ১৫ মিনিটের মাথায় সভা মুলতবী করেন।

পরবর্তীতে চেয়ারম্যান চলে যাওয়ার পর পরিচালনা পর্ষদের বাকি দুই পরিচালককে নিয়ে তপন পোদ্দার কোনো ধরনের পূর্ব ঘোষণা ছাড়া সম্পূর্ণ অবৈধভাবে একইদিনে পরিচালনা পর্ষদ সভার আয়োজন করেন। এ সভাকে ৬৮তম সভা হিসেবেও লিপিবদ্ধ করা হয়। অথচ কোম্পানির ৬৮তম সভা অনুষ্ঠিত হয় চলতি বছরের জানুয়ারির ২৬ তারিখে। আর অনুষ্ঠিত এ সভায় কোন প্রকার নোটিশ ব্যাতিরেকেই চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতেই পর্ষদ অবৈধভাবে তাকে বহিষ্কার করে। পরবর্তীতে পরিচালক পার্থ প্রতিম দাসকে পর্ষদের চেয়ারম্যান এবং তপন কৃষ্ণ পোদ্দারকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দুই বছরের জন্য নিয়োগ প্রদান করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে নবগঠিত এ পর্ষদ। যা কোম্পানি আইনের সরাসরি লঙ্ঘন বলে চিঠিতে অভিযোগ করেছেন পঙ্কজ রায়।

এর আগে, ২০১৩ সালেও একবার পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের মধ্যে কোন্দল দেখা দেয়। সে সময় ডিএসই’র সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি আহমেদ রশিদ লালি বিষয়টি মিমাংসা করে দেন। এর দু বছর পেরোতে না পেরোতেই আবার এমন সমস্যা দেখা দিল। আর এতে করে প্রতিষ্ঠানটির বিদ্যমান বিনিয়োগকারীরা পড়তে যাচ্ছেন মহাসঙ্কটে।

প্রতিষ্ঠানটিতে মূল সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে বিদ্যমান চেয়ারম্যান পঙ্কজ রায় এবং সদ্য পরিচালকের পদ হারানো তপন কৃষ্ণ পোদ্দারের মধ্যেকার অন্তর্কোন্দল। পরিচালক না হওয়া সত্ত্বেও পরিচালনা পর্ষদের সভায় উপস্থিত থাকা এবং প্রভাব খাটানো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান পঙ্কজ রায় অভিযোগ করছেন, অনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্যই তপন পোদ্দার কোম্পানি থেকে তাকে সরিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করছেন।

তাই প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান অবৈধ এসব কার্যকলাপের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে একটি পিটিশন দায়ের করেন।

এ ব্যপারে বিদ্যমান চেয়ারম্যান পঙ্কজ রায় শেয়ারবাজারনিউজ ডট কমকে জানান, ‘আমার বক্তব্য আমি মহামান্য হাইকোর্টে দাখিল করেছি। এর বাইরে আমার আলাদা করে কিছু বলার নেই।’

আর অভিযুক্ত পরিচালক তপন কৃষ্ণ পোদ্দার বলেন, ‘প্রতিষ্ঠান চালাতে গিয়ে মনমালিন্য থাকবেই। এর বাইরে কিছু নেই। আমার মনে হয় কিছুদিনের মধ্যেই সব ঠিক হয়ে যাবে। আর যেহেতু এটি মহামান্য আদালতে গিয়েছে তাই এ ব্যাপারে আমি আলাদা করে কিছু বলতে চাই না।’

 

শেয়ারবাজারনিউজ/ও/তু

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top