পুঁজিবাজার বান্ধব মুদ্রানীতি ঘোষণার দাবি

Investor-Jatioশেয়ারবাজার রিপোর্ট : চলমান মন্দাবস্থা থেকে উত্তোরণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি পুঁজিবাজার বান্ধব মুদ্রানীতি ঘোষণার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী সম্মিলিত জাতীয় ঐক্য।
এছাড়া পুঁজিবাজারের দীর্ঘ মেয়াদি উন্নয়নের জন্য আজ বুধবার সংগঠনটির পক্ষ থেকে সভাপতি রুহুল আমিন আকন্দ স্বাক্ষরিত দশ দফা দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), বাংলাদেশ ব্যাংক, ডিএসই এবং সিএসই-তে পাঠানো হয়েছে।
১০ দফায় বলা হয়েছে, আসন্ন মুদ্রানীতিকে পুঁজিবাজার বান্ধব ঘোষণার ব্যবস্থা করা। সি.আর.আর. ও এস.এল.আর এর হার কমানো এবং ব্যাংকগুলোর মোট দায়ের কমপক্ষে ১০% পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া।
ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে মাসিক ভিত্তিতে মনিটরিং না করে বাৎসরিক ভিত্তিতে করা এবং সিঙ্গেল পার্টি এক্সপোজার লিমিটের (ঋণ সমন্বয়ের) সময়সীমা যেটা জুলাই, ২০১৬ইং পর্যন্ত সময় বেধে দেয়া হয়েছে- তা বর্তমানে বাজার পরিস্থিতিতে মন্দাবস্থা বিরাজমান থাকায় সেটা আরও ০৫ (পাঁচ) বৎসর বৃদ্ধি করে ২০১৫-২০১৬ইং সনকে পরিপূর্ণ শিথিল-সুবিধা প্রদান করা।
পুঁজিবাজারের নেগেটিভ পোর্টফোলিওগুলোকে স্থায়ী স্থিতিশীলতা ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে কোন ধরনের এডজাস্টমেন্টের সিদ্ধান্ত না নিয়ে দ্রুত লেনদেনের আওতায় আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৫% সুদে (সাবসিডাইজড রেট) ন্যূনতম ০৫ (পাঁচ) বৎসরের জন্য মার্জিন ঋন প্রদানের ব্যবস্থা করা।
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে যে সমস্ত কোম্পানি ভাল লভ্যাংশ প্রদান করবে- তাদেরকে ট্যাক্স রিবেটের ব্যবস্থা নেওয়া এবং নো-ডিভিডেন্ড দেওয়া কোম্পানিগুলোকে শাস্তিস্বরূপ বেশি ট্যাক্স আরোপের ব্যবস্থা নেওয়া।
বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএসইসি এবং আইসিবি’র মাধ্যমে পুঁজিবাজার প্রশিক্ষণ কর্মশালা বছরব্যাপী অনুষ্ঠিত করার উদ্যোগ নেওয়া। পুঁজিবাজারের স্থায়ী স্থিতিশীলতার লক্ষ্যে অতিরিক্ত প্রিমিয়ামসহ আইপিও অনুমোদন আগামী ০৬ (ছয়) মাসের জন্য স্থগিত রাখা।
পুঁজিবাজার উন্নয়ন ও ক্ষুদ্র বিএসইসির নির্দেশনা অনুযায়ী ৩ বছর ও ১ বছরের যে লকইন বিধি/ব্যবস্থা রয়েছে- তদ্রুপ বোনাস শেয়ার বিক্রির বেলায়ও একই আইন বহাল রাখার দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া।
পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগকারীদের উন্নয়নের স্বার্থে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর এজিএম একই দিনে ১৫/১৬টির অনুমোদন না দিয়ে দৈনিক (সকাল-বিকাল) ২টি কোম্পানির এজিএম অনুমোদনের বিধি তৈরী করা।
পুঁজিবাজারের বর্তমান অব্যাহত দর পতনের অবস্থা থেকে উত্তরনে পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী প্রতিনিধিসহ বাজার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে বিএসইসিকে দ্রুত সমন্বয় মিটিংয়ের ব্যবস্থা করা। পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতিতে মেয়াদী মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলো বন্ধ না করে স্বল্প সময়ের জন্য বর্ধিত করার বিশেষ প্রয়োজন এবং মিউচ্যুয়াল ফান্ডের উন্নয়নে বিএসইসিকে দ্রুত ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহন করা।

শেয়ারবাজার/অ

আপনার মন্তব্য

Top