শীতে শিশুর যত্ন

শীতে প্রকৃতিতে আসে রুক্ষতা। আমাদের সোনামনিরাও শীতের এই বিরূপ প্রভাবের বাইরে নয়। শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বড়দের মতো কার্যকর নয়। তাই বছরের অন্যান্য সময়ের চেয়ে শীতের সময়টা শিশুর জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। একসময় খুব সহজেই রোগ জীবাণু বাসা বাঁধে শিশুর নরম শরীরে। এবার আপনাদের জানাবো শীতে শিশুর যত্ন সম্পর্কে:

শীতে শিশুদের যে সমস্ত রোগ বালাই হয়ে থাকে তার মধ্যে-
এক. শ্বাসতন্ত্রের প্রদাহ ও হাঁপানি
দুই. ভাইরাজনিত জ্বর
তিন. পাতলা পায়খানা
চার. বমি অন্যতম

শিশুর অভিভাবক হিসেবে আমাদের বুঝতে হবে প্রতিষেধক নয়, প্রতিরোধই উত্তম। আপনার শিশুকে রোগ জীবাণু যাতে আক্রান্ত না করতে পারে সেজন্য আপনাকে থাকতে হবে সদা সচেতন।

১. আপনার সন্তানকে নিয়মিত হাত ধোয়ায় অভ্যাস করান।
২. খাবার তৈরির সময় ডায়াপার পরিবর্তন ও নাকের সর্দি মোছার হাত পরিষ্কার করুন।
৩. আপনার শিশুকে যত্ন নেওয়া কাজের মেয়েকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ও নিয়মিত হাত ধোয়ায় অভ্যাস করান।
৪. শিশুকে শেখাতে হবে যে সে যেন তার চোখ ও নাকে হাত না দেয়। বাচ্চা যখন চোখ ও নাকে হাত দেয় তখন তার হাত থেকে জীবাণু শরীরে ঢুকে যায়।
৫. আপনার শিশু যদি জ্বর, বমি, ডায়রিয়া ও চোখের সংক্রমণে আক্রান্ত হয় তবে তাকে আশেপাশের বাচ্চাদের সংস্পর্শে যাওয়া থেকে বিরত রাখুন।

শিশু যদি ঠাণ্ডাজনিত ‘কমন কোল্ডে’ আক্রান্ত হয় সেক্ষেত্রে-
প্রথমত: নাকে নরমাল স্যালাইন ড্রপ দিতে পারেন।
দ্বিতীয়ত: শিশুকে বেশি বেশি তরল খাবার যেমন- দুধ, শরবত, জুস খাওয়ান।
তৃতীয়ত: শিশুকে যথাসম্ভব গরম কাপড়-চোপড় পরিয়ে রাখুন।

কখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন-
এক. শিশুর কান ও মুখে ব্যথা থাকলে।
দুই. শিশুর গলা ব্যথার ফলে যখন সে খাবার খেতে না পারে।
তিন. শব্দ করে শ্বাস নেওয়া বা শ্বাসকষ্ট হলে।
চার. পাতলা পায়খানা ও বমি হলে।

ডা. মোহাম্মদ আনিসুর রহমান

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top