রাজনীতিতে নিষিদ্ধ ইংলাক সিনাওয়াত্রা

শেয়ারবাজার ডেস্ক : থাইল্যান্ডের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রাকে রাজনীতিতে পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করলো দেশটির সামরিক সরকার। ইংলাক পরিবারের অন্য সব সদস্যের ওপরও এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

বিতর্কিত একটি চাল প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ এনে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) ইংলাকের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নিলো অভ্যুত্থান ঘটিয়ে ক্ষমতা দখল করা সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত সরকার।

রাজনীতিতে নিষিদ্ধ করার ঘোষণার পাশাপাশি ওই প্রকল্পের দুর্নীতিতে ‘সন্দেহভাজন’ হিসেবে ইংলাকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগও গঠন করা হতে পারে বলে জানান সামরিক সরকারের অ্যাটর্নি জেনারেল।

২০১৪ সালের মে মাসে আদালতের রায়ে প্রধানমন্ত্রীর কুরসি খোয়ান ইংলাক। তারও দিনকয়েক পর সেনা অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয় তার সরকারও।

স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমগুলো জানায়, শুক্রবার সেনাবাহিনী-নিযুক্ত জাতীয় সংসদের (জাতীয় আইন পরিষদ-এনএলএ) অধিবেশনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইংলাককে ‘অভিশংসন’র উপর ভোটগ্রহণ করা হয়। ফলাফলে দেখা যায়, অধিবেশনে উপস্থিত ২১৯ সদস্যের মধ্যে ১৯০ জনই ইংলাকের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। ভোটগ্রহণ ও ভোটগণনা সরাসরি জাতীয় সম্প্রচার মাধ্যমে প্রচার করা হয়।

স্থানীয় সাংবাদিকরা বলছেন, সরকারের এই পদক্ষেপ ইংলাক ও তার পরিবারের বিপক্ষে সামরিক বাহিনীর কড়া অবস্থানেরই প্রকাশ। এছাড়া, এই নিষেধাজ্ঞা তাদের রাজনীতিতে ফেরার ক্ষেত্রে বড় বাধা বলেই দেখা হচ্ছে।

ইংলাকের মতো তার ভাই ধনকুবের ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রাও গ্রামীণ ও দরিদ্র মানুষের কাছে এখনও বেশ জনপ্রিয় নেতা।

দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে শহুরে ও মধ্য-উচ্চবিত্ত শ্রেণী ইংলাক-থাকসিনদের অপছন্দ করলেও তাদের দল এখনও শীর্ষ জনপ্রিয় থাইল্যান্ডে। এমনকি বরাবরই বিভিন্ন কারণে ক্ষমতাচ্যুত হলেও ২০০১ সাল থেকে প্রত্যেকটি নির্বাচনেই জয়লাভ করে আসছে তাদের লাল শার্টধারী দল।

আপনার মন্তব্য

Top