৪ কোম্পানির ডি‌ভি‌ডেন্ড অ‌নি‌শ্চিত

investigation-630x286 copyশেয়ারবাজার রিপোর্ট: আইন লঙ্ঘন করে ব্যবস্থাপনা খাতে অতিরিক্ত ব্যয় করায় চার বীমা কোম্পানিকে অ্যাকচ্যুয়ারিয়াল ভ্যালুয়েশন (মূল্যায়ন) বেসিস অনুমোদন দেয়নি বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। পরিণতিতে এই চার বীমা কোম্পানি ২০১৪ অর্থবছরের জন্য শেয়ারহোল্ডার ও পলিসিহোল্ডারদের কোন ডিভিডেন্ড দিতে পারছে না।

কোম্পানিগুলো হলো: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত পদ্মা ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স এবং পুঁজিবাজারে অ-তালিকাভুক্ত বায়রা লাইফ ও সানফ্লাওয়ার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি।

আইডিআরএ’র সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, অ্যাকচুরিয়াল ভ্যালুয়েশন না হলে কোম্পানি চারটি শেয়ারহোল্ডার ও পলিসিহোল্ডারদের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণার পাশাপাশি এজিএমও করতে পারবে না। কারণ জীবন বীমা কোম্পানির বিনিয়োগকারী ও বীমাগ্রহীতারা কী পরিমাণে লভ্যাংশ পাবেন, তা অ্যাকচুরিয়াল ভ্যালুয়েশনের মাধ্যমে নির্ধারণ করে দেন কোম্পানির নিয়োগ পাওয়া অ্যাকচুয়ারি। অ্যাকচুরিয়াল ভ্যালুয়েশন বেসিস ছাড়া বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) ও লভ্যাংশ না পাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হবেন কোম্পানি চারটির সাধারণ বিনিয়োগকারী ও বীমাগ্রহীতারা।

এ বিষয়ে আইডিআরএ’র সদস্য মো: কুদ্দুস খান শেয়ারবাজারনিউজ ডটকমকে বলেন, আইডিআরএ’র অ্যাকচ্যুয়ারিয়াল বেসিস অনুমোদন ছাড়া লাইফ বীমা কোম্পানি বার্ষিক লাভ ক্ষতির হিসাব করতে পারে না। আর বার্ষিক লাভ ক্ষতির হিসাব না হলে কোম্পানিগুলো ডিভিডেন্ড দিতে পারবে না। আর অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের কারণে আমরা চারটি লাইফ বীমা কোম্পানিকে এখনো অ্যাকচ্যুয়ারিয়াল বেসিস অনুমোদন দেইনি।

এর আগে ২০১৩ অর্থবছরের অ্যাকচ্যুয়ারিয়াল বেসিস অনুমোদন না পাওয়ায় তালিকাভুক্ত পদ্মা ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স শেয়ারহোল্ডার ও পলিসিহোল্ডারদের ডিভিডেন্ড দিতে পারেনি। এ কারণে এ দুই কোম্পানি পুঁজিবাজারে বর্তমানে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে অবস্থান করছে।

এদিকে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) জীবন বীমা কোম্পানির নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য সম্প্রতি সময় বেঁধে দিয়েছে। বিএসইসির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে জীবন বীমা কোম্পানির নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

পদ্মা ইসলামি লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানিটি ২০১৪ হিসাব বছরে অবৈধ খরচ করেছে ২৭ কোটি ৭ লাখ টাকা। আর গত ৪ বছরে কোম্পানিটি ১৬২ কোটি ২৫ লাখ টাকা অবৈধ খরচ করেছে। কোম্পানিটি অ্যাকচ্যুয়ারিয়াল ভ্যালুয়েশন বেসিস অনুমোদন ছাড়া গত বছরের ২০ সেপ্টেম্বর এজিএম করেছে।

আইডিআরএ’র এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ বিষয়ে শেয়ারবাজারনিউজ ডটকমকে বলেন, লাগামহীন অবৈধ ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের কারণে কোম্পানিটির আর্থিক ভিত খুবই নাজুক অবস্থায় রয়েছে। তাই কোম্পানিটির অ্যাকচ্যুয়ারিয়াল ভ্যালুয়েশন বেসিস অনুমোদন দেয়া হচ্ছে না। আর কোম্পানির প্রকৃত আর্থিক অবস্থা নিরুপণ করার জন্য আইডিআরএ’র পক্ষ থেকে শিগগিরই নিরীক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে।

প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিটি ২০১৪ হিসাব বছরে অবৈধ খরচ করেছে ১৭ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। আর গত ৪ বছরে কোম্পানিটি ২৮ কোটি ৬৯ লাখ টাকা অবৈধ খরচ করেছে। আর এ কারণে আইডিআরএ এখনো কোম্পানিটিকে অ্যাকচ্যুয়ারিয়াল ভ্যালুয়েশন বেসিস অনুমোদন দেয়নি। তাছাড়া কোম্পানিটি গত অর্থবছরে বার্ষিক সাধারণ সভা করতে পারেনি।

এ বিষয়ে কোম্পানিটির প্রধান অর্থ কর্মকর্তা শেয়ারবাজারনিউজ ডটকমকে বলেন, আমরা অ্যাকচ্যুয়ারিয়াল ভ্যালুয়েশন বেসিসের জন্য আবেদন করেছি। তবে আইডিআরএ এখনো আমাদের অনুমোদন দেয়নি। তবে আমরা চেষ্টা করছি এ অনুমোদন পাওয়ার জন্য।

এদিকে শেয়ারবাজারে এ কোম্পানি দুই বছরের ডিভিডেন্ড একসাথে দেয়া হবে বলে গুজব ছড়িয়েছে। আর এ গুজবকে ঘিরে কারসাজি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন একাধিক প্রাতিষ্ঠানিক ও সাধারণ বিনিয়োগকারী।

এ বিষয়ে প্রধান অর্থ কর্মকর্তা বলেন, বেসিস অনুমোদন পেলে আমরা দুই বছরের ডিভিডেন্ড একসাথে দেয়ার চেষ্টা করবো। তবে বিষয়টি আইডিআরএ এবং বোর্ডের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

সানফ্লাওয়ার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিটি ২০১৪ হিসাব বছরে অবৈধ খরচ করেছে ১৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। আর গত ৬ বছরে কোম্পানিটি ৭৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা অবৈধ খরচ করেছে। আর এ কারণে আইডিআরএ এখনো কোম্পানিটিকে অ্যাকচ্যুয়ারিয়াল ভ্যালুয়েশন বেসিস অনুমোদন দেয়নি।

বায়রা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিটি ২০১৪ হিসাব বছরে অবৈধ খরচ করেছে ৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। আর গত ৬ বছরে কোম্পানিটি ৩২ কোটি ৫০ লাখ টাকা অবৈধ খরচ করেছে। আর এ কারণে আইডিআরএ এখনো কোম্পানিটিকে অ্যাকচ্যুয়ারিয়াল ভ্যালুয়েশন বেসিস অনুমোদন দেয়নি।

জানা গেছে, অ্যাকচুরিয়াল ভ্যালুয়েশন ছাড়া জীবন বীমা কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন নিরীক্ষণের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট নিরীক্ষক নিরীক্ষা কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবেন। তবে বিনিয়োগকারী ও গ্রাহকদের জন্য কোনো ধরনের লভ্যাংশ ঘোষণা করা যাবে না। এদিকে কোম্পানি আইনে, কোম্পানির একটি এজিএম অনুষ্ঠিত হওয়ার ১৫ মাসের মধ্যে পরবর্তী এজিএম অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। যদি কোনো কারণে ১৫ মাসের মধ্যে এজিএম করা না যায়, তবে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে এজিএমের জন্য আদালত থেকে অনুমোদন নিতে হবে।

এ বিষয়ে কোম্পানি আইনের ৮১(১) ধারায় বলা হয়েছে, ‘প্রত্যেক কোম্পানি উহার অন্যান্য সভা ছাড়াও প্রতি ইংরেজি পঞ্জিকা বৎসরে ইহার বার্ষিক সাধারণ সভা হিসাবে একটি সাধারণ সভা অনুষ্ঠান করিবে এবং উক্ত সভা আহ্বানের নোটিসে উহাকে বার্ষিক সাধারণ সভা বলিয়া সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করিবে এবং কোনো কোম্পানির একটি বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠানের তারিখ এবং উহার পরবর্তী বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠানের তারিখের ব্যবধান পনের মাসের অধিক হইবে না।’

আর ৮০ (২) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো কোম্পানি উপধারা (১)-এর বিধান পালনে ব্যর্থ হইলে, কোম্পানির যে কোনো সদস্যের আবেদনক্রমে আদালত উক্ত কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা আহ্বান করিতে অথবা আহ্বান করার নির্দেশ দিতে পারিবে এবং আদালত উক্ত সভা আহ্বান অনুষ্ঠান ও পরিচালনার জন্য যে রূপ সমীচীন বলিয়া বিবেচনা করিবে, সেইরূপ অনুবর্তী ও আনুষঙ্গিক আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/আ.তু/সা

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top