মুদ্রানীতি: পুঁজিবাজারের কি এসে যায়?

Pathok_2প্রায় ১ যুগ হয়ে গেল এই মার্কেটের সাথে। এই মার্কেট অনেক কিছু শেখালো । ২০১০ সালের মার্কেট ধ্বসের পর মুদ্রা নীতি শিখেছি আসলে শিখতে হয়েছে। ২০১০ এর আগে মুদ্রানীতি জন্য আমাদের কখনো আতংকিত হতে হয়নি। ২০১০ সালের ধ্বসের পর থেকে আমাদের মার্কেটে মুদ্রানীতির ভুত ঘাড়ে চেপে বসেছে। সেই সাথে অনেক কিছু শিখলাম CRR, SLR যদিও MBA করার সময় এগুলো সম্পর্কে পড়তে হয়েছিল তথাপি এই মার্কেট এর জন্য আবার দেখতে হয়েছে। ২০১০ সালের মার্কেট ধ্বসে আরও একটি জুজুর ভয় সৃষ্টি হয়েছে সেটি হল বাজেট।

মুদ্রানীতি:
বাংলাদেশ ব্যাংক এর প্রধান কয়েকটি কাজের মধ্যে একটি কাজ হচ্ছে মুদ্রানীতি। মুদ্রানীতির মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক টাকার প্রবাহকে নিয়ন্ত্রন করে। অর্থাৎ একটি নিদিষ্ট সময়ের জন্য দেশের টাকার প্রবাহ কেমন হবে সেটাই উল্লেখ থাকে এই মুদ্রানীতিতে । মুদ্রানীতির অন্যতম মূল উদ্দেশ্য হল মুদ্রাস্ফীতি (inflation) নিয়ন্ত্রণে রাখা। সহজ ভাষায় জিনিসপত্রের দাম মানুষের ক্রয় সীমার মধ্যে রাখা। এই জন্য দেশে যখন মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে যায় তখন সে সংকোচনমূলক নীতি গ্রহন করে আর মুদ্রাস্ফীতি যদি নিদিষ্ট সীমার মধ্যে থাকে তাহলে সে সম্প্রসারণমূলক নীতি অবলম্বন করে।

মুদ্রানীতির সাথে আসলে আমাদের শেয়ার মার্কেটের প্রত্যক্ষ ভাবে কোন সম্পর্ক নেই। বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংক সংকোচন মুলক নীতিতে অবস্থান করছে তাই এর চেয়ে খারাপ হওয়ার আর কিছু নেই তবে যেটি হতে পারে সেটি হল ভালো কিছু। যদি তারা সম্প্রসারণমূলক নীতি অবলম্বন করে করে সে ক্ষেত্রে টাকার প্রবাহটা বাড়তে পারে। তবে এটা কোন ভাবেই নিশ্চিত করে না যে সম্প্রসারণমূলক নীতি অবলম্বন করলেই টাকা শুর শুর করে শেয়ার বাজারে ঢুকে যাবে।

আজ একটি পত্রিকার দেখলাম —- “এবারের মুদ্রানীতি বিনিয়োগবান্ধব ও উৎপাদনমুখী হবে বলে আভাস দিয়েছেন গভর্নর ড. আতিউর রহমান”।

আচ্ছা একটি বিষয় বলুন তো, যারা মুদ্রানীতি প্রণয়ন করে তারা কি কখন বলবে যে মুদ্রানীতি বিনিয়োগবান্ধব ও উৎপাদনমুখী হবে না । আসলে বিনিয়োগবান্ধব ও উৎপাদনমুখী এগুলো হল common কথা-বার্তা । প্রত্যেক বার একই কথা বলে। সামনে সরকারী কর্মচারীদের বেতন বাড়ানো হচ্ছে, তাই আমার মনে হয় এইবারও মুদ্রানীতিতে তেমন কোন পরিবর্তন আসবেনা।

বাংলাদেশ ব্যাংক যদি আগের মতন সংকোচনমূলক নীতি গ্রহন করে তাহলে ভালো আর যদি সম্প্রসারণমূলক নীতি অবলম্বন করে তাহলে আরও ভালো । শেয়ার বিনিয়োগকারীদের তাই এই বিষয়ে আতংকিত হওয়ার কিছু নেই। মাথা থেকে জুজুর ভয় (মুদ্রানীতি) ঝেড়ে ফেলে দেন।

 

 

 

তানভীর আহমেদ
শেয়ার বিনিয়োগকারী
এবি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড
উত্তরা,ঢাকা।

 

 

আপনার মন্তব্য

Top