সরকারী টাকায় বিডিবিএলের বিলাসিতা

bdbl bankশেয়ারবাজার রিপোর্ট: শতভাগ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিশেষায়িত বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেডে (বিডিবিএল) চলছে সরকারী টাকা নষ্ট করার মহোৎসব। দুটি স্টক এক্সচেঞ্জের ট্রেক লাইসেন্স পাওয়া এ কোম্পানির একটি ব্রোকারেজ হাউজ থাকলেও প্রয়োজন ছাড়াই আরেকটি ব্রোকারেজ হাউজ খোলা হয়েছে সাবসিডিয়ারি হিসেবে। অন্যদিকে এক বছর হয়ে গেলেও এখনও কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি নতুন হাউজটি।

জানা যায়, বিডিবিএল ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি হিসেবে বিডিবিএল সিকিউরিটিজ দুটি ট্রেক লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছে। এরই মধ্যে প্রয়োজন ছাড়া নতুন করে বিডিবিএল ইনভেস্টমেন্ট সার্ভিসেস লিমিটেড নামে নতুন একটি কোম্পানি খোলা হয়েছে। কোম্পানির অফিস নেয়া হয়েছে পুরাতন শিল্প ব্যাংক ভবনে। নতুন অফিসের সাজসজ্জাসহ আনুষাঙ্গিক প্রস্তুতি নেয়ার এক বছর পার হয়ে গেলেও কার্যক্রম শুরু করার কোনো খবর পাওয়া যায়নি। ইতিমধ্যে নিয়োগকৃত নতুন পরিচালকদের পেছনে ব্যয় হয়ে গেছে কোষাগারের বিপুল অর্থ।

একটি ব্রোকাজের হাউজ চালু থাকলেও আরেকটি হাউজের প্রয়োজন সম্পর্কে নিশ্চিত করতে পারছেন না ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তা। তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ব্যাংকের কয়েকজন পরিচালক প্রভাব বিস্তার করে নতুন এ হাউজ খুলিয়েছেন। নতুন প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালনা পর্ষদে সম্মানজনক পদ এবং একই সাথে আর্থিক সুবিধা নেয়ার প্রবনতা থেকেই এমন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। নতুন হাউজ খুলে ব্যবসা শুরু করা কতটা যৌক্তিক- এ ব্যপারে কোনো বাস্তবসম্মত পর্যালোচনা না করেই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আর এর ফলে স্বার্থহানী হচ্ছে ব্যাংকের সাধারন আমানতকারীদের।

জানা যায়, সাবেক শিল্প ব্যাংক ও বাংলাদেশ শিল্প ঋণ সংস্থা (বিএসআরএস) মার্জারের মাধ্যেমে গঠিত হয় বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড। দুটি প্রতিষ্ঠানেরই নিজস্ব ট্রেক লাইসেন্স থাকায় বিডিবিএলের লাইসেন্স হয়ে যায় দুটি। শেয়ারবাজারে ২০১০ সালের ধ্বসের আগে রাষ্ট্রয়াত্ব আরও সোনালী, রুপালী, জনতা ও অগ্রনী ব্যাংকের সাথে মিলে যৌথভাবে ব্রোকারেজ হাউজটি চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কিন্তু পরবর্তী বাজারে ধ্বস নামলে লাইসেন্সের দাম নিয়ে বনিবনা না হওয়ায় সে উদ্যেগ আর বাস্তবায়িত হয়নি। এর পরই লাইসেন্সটি আর কোনো বেসরকারীখাতে না বিক্রি করে নিজেরাই চালানোর সিদ্ধান্ত নেয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। আর এক্ষেত্রে অভিযোগ উঠছে প্রত্যেকটি ব্যাংকের একটি ব্রোকাজের হাউজ চালানোর অনুমতি থাকলেও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) প্রভাবিত করে দুটি লাইসেন্সেই ব্যবসা করতে চাচ্ছে বিডিবিএল।

দেশে শেয়ারবাজারের অবস্থা এখনও সম্পূর্ণ স্থিতিশীল না হওয়ায় স্টক ব্রোকারদের ব্যবসা পরিস্থিতি ভালো অবস্থায় নেই। লেনদেন আশানরুপ না হওয়ায় অধিকাংশ হাউজই লোকসানে রয়েছে। ২০১০ সালের ধ্বসের পর অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি না হওয়ায় এরই মধ্যে বেশকিছু ব্রোকাজের হাউজ কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। অনেকেই বিক্রি করে দিয়েছেন ট্রেক লাইসেন্স। আর এমন সময়ে উল্টো রাস্তায় হাঁটছে সরকারী মালিকানাধীন এ ব্যাংক। সরকারী কোষাগারের নয়-ছয় করেই খোলা হচ্ছে বিডিবিএল ইনভেস্টমেন্ট সার্ভিসেস লিমিটেড।

এসব ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে বিডিবিএল ব্যাংকের পরিচালক দেওয়ান নুরুল ইসলাম শেয়ারবাজারনিউজ ডট কমকে জানান, ‘সরকারী এ লাইসেন্স বেসরকারী খাতে বিক্রি করা সমীচীন নয়। বিধায় সরকারী কোম্পানির সাথে যৌথভাবেই চালানোর সিদ্ধান্ত সরকারী নীতি নির্ধারনী মহল থেকে নেয়া হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে বাকি কোম্পানিগুলোর সাথে লাইসেন্সের দাম নিয়ে বনিবনা হয়নি। ফলে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি লাইসেন্সটি ফেলে না রেখে নতুন আরেকটি ব্রোকারেজ হাউজ খোলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’ আর এতদিন ধরে সরকারী টাকা নষ্ট করে কার্যক্রম শুরু করতে না পারার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘একই ব্যাংকের দুটি লাইসেন্স দিয়ে ব্যবসা করার ব্যাপারে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সাথে অনেকদিন চিঠি চালাচালি হয়েছে। ফলে কার্যক্রম শুরু করা যায়নি। এখন আর কোনো সমস্যা নেই। আমরা অনুমতি পেয়েছি। খুব শিগগিরই কার্যক্রম শুরু হবে। আর ব্রোকারেজ হাউজে খুব বেশি লোকবলও লাগে না ফলে অর্থ অপচয় হবে না।’

শেয়ারবাজারনিউজ/ওহসি/আহাতু

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top