শেয়ার বিনিয়োগ লাভজনক করতে করণীয়

cse bull

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: কিভাবে বুঝবেন শেয়ারটি অতিমূল্যায়িত নাকি অবমূল্যায়িত? শেয়ার ক্রয় বা বিক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে কিছু বিষয় সম্পর্কে ধারণা থাকলে বিনিয়োগ লাভজনক হয়ে ওঠে। তেমনটি একটি বিশ্লেষণ ‘বুলিশ-বিয়ারিশ ভলিউম এবং ইন্ডিকেটর’।

যা চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে তাদের ফেসবুক পেজে তুলে ধরা হয়েছে। নিম্নে বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে উল্লেখিত এনালাইসিসটি হুবহু তুলে ধরা হলো:

 

 

চার্টে যে কোন শেয়ার নিয়ে এনালাইসিস করতে গিয়ে ভলিউম, ক্যান্ডেলষ্টিকের পাশাপাশি বেশ কিছু ইন্ডিকেটরও ব্যবহার করা হয়ে থাকে। মূলত এইসব ইন্ডিকেটরের কাজ হল শেয়ারের overbought (অতিমুল্লায়িত) বা oversold (অবমুল্লায়িত) অবস্থান নির্দেশ করা।

তবে শুধুমাত্র এইসব ইন্ডিকেটর ব্যবহার করে কোন শেয়ারের ক্রয় বা বিক্রয় সিদ্ধান্ত আপনি নিতে পারবেন না। ভলিউম, ক্যান্ডেলষ্টিক, সাপোর্ট-রেজিস্টান্স ইত্যাদি এনালাইসিস যখন আপনাকে কোন একটি শেয়ার ক্রয় বা বিক্রয় করতে ভাবাবে, তখন চার্টে এইসব ইন্ডিকেটরের অবস্থান আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে আরও ভালো করে সাহায্য করবে।

এইসব ইন্ডিকেটরের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু ইন্ডিকেটর MACD, MFI এবং RSI নিয়ে আজ আপনাদের প্রাথমিক ধারণা দেওয়া হবে। তবে তাঁর আগে গত সপ্তাহে আমরা আপনাদেরকে ভলিউম এর উপর প্রাথমিক ধারণা দিয়েছিলাম। তারই ধারাবাহিকতায় আজ আমরা আপনাদেরকে বুলিশ-বিয়ারিশ ভলিউম কিভাবে চিনতে পারবেন এবং Volume ট্র্যাকিং নিয়ে আলোচনা করব।

>Identify Bullish & Bearish Volume:
এখন কীভাবে আমরা বুলিশ এবং বিয়ারিশ ভলিউম চিহ্নিত করতে পারি। শুধু তাই নয়, আমরা এই বুলিশ ও বিয়ারিশ ভলিউম দেখে বাজারের চাহিদা ও জোগান সম্পর্কেও ধারনা পেতে পারি। যখন আপনি দেখেন বাজারে একটি শেয়ারের দাম বাড়ছে এবং সেই সঙ্গে ভলিউমও বৃদ্ধি পাচ্ছে- তার মানে কী হচ্ছে? বাজারে কি চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে?

হ্যাঁ, আপনি এই প্রশ্নগুলোর উত্তর সহজেই দিতে পারবেন, যদি আপনি ভলিউম এনালাইসিস জানেন। যেমন ধরুন, শেয়ারটির দাম বাড়ছে এবং প্রারম্ভিক এবং সমাপনী মূল্যের মধ্যে পার্থক্যের পরিমাণ বেশি এবং সেই সঙ্গে ভলিউমও বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা এই ভলিউমটিকে বুলিশ ভলিউম বলতে পারি। কারণ, সেই সময় বাজারে চাহিদা বেশি ছিল এবং সঙ্গে সঙ্গে দামও বাড়ছিল।

আবার ঠিক একইভাবে যখন একটি শেয়ারের দাম কম ছিল এবং প্রারম্ভিক ও সমাপনী মূল্যের মধ্যেও পার্থক্য বেশি ছিল। কিন্তু ভলিউম আগের দিনের থেকেও বেশি ছিল। এই ভলিউমটিকে আমরা বিয়ারিশ ভলিউম বলতে পারি। তার কারণ হচ্ছে দাম কমছে, সেই সঙ্গে শেয়ারের জোগানও বাড়ছে। লক্ষ করলে দেখা যাবে যে, আস্তে আস্তে শেয়ারটির দাম কমে যাচ্ছে। তার কারণ হচ্ছে বাজারে জোগান রয়েছে বেশি, কিন্তু সেই তুলনায় চাহিদা বাড়ছে না।

ফলে বিক্রয়ের চাপ বেশি এবং দাম কমছে। সুতরাং আমরা বুলিশ এবং বিয়ারিশ ভলিউম সহজেই চিহ্নিত করতে পারব। কিছু বিষয় আমাদের মনে রাখতে হবে সেই বিষয়গুলো হচ্ছে, বাজারে বিয়ারিশ ভলিউম তখনই হয়, যখন প্রোফেশনাল মানি অথবা মার্কেট মেকাররা সেই শেয়ারটি কিনতে আগ্রহী হয় না এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও চাহিদা থাকে না। একইভাবে বুলিশ ভলিউম হয়, যখন দেখা যায়, প্রোফেসনাল মানি অথবা মার্কেট মেকাররা সেই শেয়ারটি কিনতে আগ্রহী এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও চাহিদা থাকে। (চিত্র-১)

>Volume এর সুবিধা: Volume ট্র্যাকিং- এর ২ টি উল্লেখযোগ্য সুবিধা নিম্নরূপঃ

>১. support & resistance: জানালায় ১টি ঢিল মারলে জানালার কাঁচ ভাঙ্গে না, কিন্তু যদি ১০০ টি ভিন্ন ভিন্ন আকৃতির ঢিল মারা হয় তাহলে জানালার কাঁচ ভাঙ্গার সম্ভাবনা অনেকগুণ বেড়ে যায়। ঠিক তেমনিভাবে, কেউ যদি কোন স্টকের ১০০ শেয়ার কিনে তাহলে তার এই ক্রয়ে সেই শেয়ারের উপর কোন প্রভাব পরবে না।

কিন্তু, ১০০০ বিনিয়োগকারী যদি সেই শেয়ারটি বিভিন্ন পরিমাণে ক্রয় করেন তাহলে ১ জন বিনিয়োগকারীর ক্রয়ের তুলনায় ১০০০ বিনিয়োগকারীর ক্রয়ের পরিমাণ শেয়ারটির মূল্য বাড়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হয়। এই মূল্য বৃদ্ধি সাপোর্ট বা রেজিস্টান্স যেকোনো এরিয়াতে হতে পারে। দীর্ঘ বা সাময়িক ডাউনট্রেন্ডের পর সাপোর্ট এরিয়াতে ভলিউম বাড়ার সাথে সাথে শেয়ারের মূল্য বাড়লে বুঝতে হবে শেয়ারটির পূর্বের/বর্তমান নতুন সাপোর্ট লাইনে শেয়ারটির সাপোর্ট রয়েছে এবং এই শেয়ারে ধাপে ধাপে বিনিয়োগ করা যাবে।

অন্যদিকে, যদি শেয়ারটির মূল্য ভালো ভলিউম নিয়ে রেজিস্টান্স লাইন অতিক্রম করে যায় তাহলে বুঝতে হবে মার্কেটে শেয়ারটির চাহিদা বাড়ছে এবং বিনিয়োগকারীরা এতে বিনিয়োগ করতে আকৃষ্ট হচ্ছে।
এই উভয় অবস্থার ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেবার জন্য Volume এনালাইসিস গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

>২. দৈনিক ভলিউমের গড়ঃ কোন শেয়ারে বিনিয়োগের পূর্বে তার প্রতিদিনের ভলিউম অথবা ১৫-২০ দিনের দৈনিক ভলিউমের গড় নিয়ে এনালাইসিস করলে আপনি মার্কেটে শেয়ারটির অবস্থা সম্পর্কে অনেকটাই ধারণা পাবেন। কোন শেয়ারের গড় ভলিউম যত বাড়বে ততই শেয়ারটির মূল্যে তার প্রভাব পড়বে।

এভাবে গড় ভলিউম এনালাইসিস করলে যেকোনো শেয়ারের accumulation বা distribution অবস্থা বেশ ভালভাবেই বুঝতে পারা যায় এবং ভবিষ্যতে শেয়ার মূল্য কোন দিকে যাবে তা অনুমান করতে সাহায্য করে।

এভাবে ভলিউম এনালাইসিসের মাধ্যমে trend বোঝার জন্য এবং accumulation, distribution identify করার জন্য চর্চার দরকার। চর্চা করতে করতে দক্ষ হয়ে গেলে volumes analysis দ্বারা শেয়ার থেকে ভালো মুনাফা করা বেশ সহজ হয়ে যাবে।

>ইন্ডিকেটরঃ

>MACD: Moving Average Convergence/Divergence Oscillator। ১৯৭০ সালের শেষের দিকে এটি Gerald Appel আবিষ্কার করেন। এর উচ্চারণ ‘Mac-Dee’ অথবা ‘M-A-C-D’ ।

এই ইন্ডিকেটরে ২টি ভিন্ন রঙের (চার্টে লাল এবং সাদা) লাইন থাকে এবং লাইন ২টির এভারেজ ডাটা থেকে হলুদ রঙের লম্বা বার বা Histogram তৈরি হয়। টেকনিক্যাল এনালাইসিসে MACD (Moving Average Convergence Divergence) একটা প্রধান (Leading Indicator)।

MACD ইন্ডিকেটরে যে ভ্যালুগুলো সাধারনত ব্যবহার করা হয়, তা হলো- 12,26,9। 12 দিনের Exponential Moving Average(EMA) এর মান থেকে 26 দিনের (EMA) মান বিয়োগ করে MACD ক্যালকুলেট করা হয় আর 9 দিনের EMA মানকে সিগন্যাল লাইন বলা হয় যা শেয়ারের ঊর্ধ্বগতি এবং নিম্নগতির সিগন্যাল দেয়। MACD এর মূল লাইন (লাল রং) সিগন্যাল লাইনকে (সাদা রং) ক্রস করে নীচের দিকে নামলে শেয়ারের দাম কমে আর ক্রস করে উপরের দিকে উঠলে শেয়ারের দাম বাড়ে। (চিত্র-২)

>MFI- Money Flow Index: কোন একটি শেয়ারের মূল্য, ভলিউম এবং RSI ইন্ডিকেটরের কিছু ফর্মুলা নিয়ে একত্র করে এই MFI ইন্ডিকেটর তৈরি হয়। কোন শেয়ারের ক্রেতা এবং বিক্রেতাদের ক্রয়-বিক্রয়ের চাপ এই MFI ইন্ডিকেটর দিয়ে দেখা যায়।

কোন শেয়ারের মূল্য বৃদ্ধির সাথে সাথে যদি MFI ইন্ডিকেটরের মান বৃদ্ধি না পায় তাহলে বুঝতে হবে সেই শেয়ারের মূল্য বৃদ্ধি কিছুদিন পর নিম্নগামী হবে।

আবার, কোন শেয়ারের মূল্য পতনের সাথে সাথে যদি MFI ইন্ডিকেটরের মান না কমে তাহলে বুঝতে হবে সেই শেয়ারের মূল্য বৃদ্ধি কিছুদিন পর ঊর্ধ্বমুখী হবার সম্ভাবনা আছে। (চিত্র-৩)

রেঞ্জঃ এই MFI ইন্ডিকেটরের সর্বনিম্ন মান ০ এবং সর্বোচ্চ ১০০। এর মান ২০ এর নিচে নামলে শেয়ারটি oversold এবং মান ৮০ এর উপরে উঠলে শেয়ারটি overbought বলে ধরে নেয়া হয়।

>RSI- Relative Strength Index: RSI হচ্ছে কোন শেয়ারের overbought/oversold অবস্থা নির্ণয় করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি ইন্ডিকেটর। ১৯৭৮ সালে বিখ্যাত টেকনিক্যাল এনালিস্ট J. Welles Wilder (Mechanical Engineer) তাঁর New Concepts in Technical Trading Systems বইয়ে এই ইন্ডিকেটরকে উপস্থাপন করেন।

রেঞ্জঃ এই ইন্ডিকেটরের সর্বনিম্ন মান ০ এবং সর্বোচ্চ ১০০। RSI এর মান ৩০ এর নিচে নামলে শেয়ারটি oversold অবস্থায় আছে বলে ধরা হয় এবং মূল্য বাড়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়ে থাকে। (চিত্র-৪)

অপরদিকে, RSI এর মান ৭০ এর উপরে উঠলে শেয়ারটি overbought বলে ধরে নেয়া হয় এবং মূল্য সংশোধনের ব্যাপারে ইঙ্গিত দিয়ে থাকে। তবে সব সময় যে RSI ৩০ হলে শেয়ারের দাম বাড়বে এবং ৭০ হলে শেয়ারের দাম কমবে তা ভাবা ঠিক নয়। মার্কেটে চাহিদা আর যোগানের উপর ভিত্তি করে শেয়ারের দাম পরিবর্তিত হয়।

শেয়ারবাজারনিউজ/ম./সা

আপনার মন্তব্য

Top