এসসিবিকে চার্জ প্রদান আরো ৩ মাস স্থগিত

শেয়ারবাজার রিপোর্ট : শিপিং কোম্পানি ও এজেন্টকে শিপার্স কাউন্সিল অব বাংলাদেশকে (এসসিবি) দশমিক ৫০ শতাংশ হারে ফ্রেইট ব্রোকারেজ চার্জ প্রদান সংক্রান্ত সার্কুলার লেটারে কার্যকারিতা আরও ৩ মাসের জন্য স্থগিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকগুলোকে এক চিঠির মাধ্যমে এই নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

চিঠিতে বলা হয়েছে, হাইকোর্টে দাখিলকৃত রিট পিটিশনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১০ নভেম্বরের স্থগিতাদেশ মোতাবেক ওই সার্কুলার লেটারের কার্যকারিতা আরও তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হলো।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের আগস্টে বাংলাদেশ ব্যাংক শিপিং এজেন্ট কর্তৃক শিপার্স কাউন্সিল অব বাংলাদেশকে শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ হারে ফ্রেইট ব্রোকারেজ চার্জ প্রদান বিষয়ক একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এসসিবি আরোপিত ফ্রেইট চার্জ যথাসময়ে পরিশোধ করতে বলা হয়, যেখানে ব্যাংকই এই চার্জ কেটে রেখে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অর্থ পরিশোধ করবে এমনটি বলা হয়। এছাড়া এসসিবির অনুকূলে এ ধরনের যেসব পাওনা রয়েছে, তাও পরিশোধের ব্যবস্থা করতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেয়া হয়। একই সঙ্গে তাদের অনুকূলে পরিশোধ্য কোনো টাকা ব্যাংকে লেনদেন স্থগিত অবস্থায় থাকলে তাও পরিশোধ করতে বলা হয়েছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই নির্দেশনার বিরুদ্ধে জাহাজ মালিকরা উচ্চ আদালতে একটি রিট দায়ের করেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ২০১২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি প্রথম দফায় ৪ মাসের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা স্থগিত করে। একই বছর জুলাই মাসে স্থগিতাদেশের মেয়াদ ৬ মাস বাড়ানো হয়।

জানা যায়, সাধারণত জাহাজ মালিকরা রপ্তানি বা আমদানির পর জাহাজীকরণের যে ভাড়া পান, তা থেকে দশমিক ৫০ শতাংশ তাদের দিতে হয়। এদিকে, কয়েক বছর ধরে এই চার্জ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছেন এই খাতের বেশিরভাগ ব্যবসায়ী। এ কারণে শিপার্স কাউন্সিল অব বাংলাদেশ এ বিষয়ে হাইকোর্টে একটি রিট করে। ওই রিটের রায়ে এই চার্জ নিশ্চিত করতে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল সেই সময়।

এরপর জারি করা ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল, অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকের (এডি) শাখাগুলো তাদের গ্রাহক শিপিং কোম্পানি বা শিপিং এজেন্ট কর্তৃক ব্যয় বিবরণীতে প্রদর্শিত শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ হারে ফ্রেইট ব্রোকারেজ চার্জ যথানিয়মে শিপার্স কাউন্সিল অব বাংলাদেশকে (এসসিবি) পরিশোধের বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে প্রিন্সিপালের অনুকূলে ব্যয়াতিরিক্ত আয় প্রেরণ করবে। পাশাপাশি আয়-ব্যয় সংক্রান্ত ত্রৈমাসিক বিবরণী ঘটনা-উত্তর পরীক্ষণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানোর সময় ফ্রেইট ব্রোকারেজ চার্জ বাবদ অর্থ পরিশোধের পক্ষে দালিলিক প্রমাণ দাখিল করবে।

এর আগে এটি আরো ৬ মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছিল।

আপনার মন্তব্য

Top