বড় শাস্তির মুখে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স: আইপিও নিয়ে অনিশ্চয়তা

Bnic copyশেয়ারবাজার রিপোর্ট: বড় শাস্তির মুখে পড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। ব্যবস্থাপনা পরিচালক সরিয়ে এবং পরিচালনা পর্ষদ ভেঙ্গে দিয়ে নতুন করে পর্ষদ নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে ইন্স্যুরেন্স ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রেগুলেটরি অথোরিটি (আইডিআরএ)। মূলধন বাড়ানো (ক্যাপিটাল রেইজিং) নিয়ে কেলেঙ্কারীর রেশ ধরে এমন সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সংস্থাটি। আর স্থগিত আইপিও প্রক্রিয়া কবে শুরু হবে তারও কোনো নিশ্চয়তা থাকছে না।

অন্যদিকে চলতি মাসের ২৪ তারিখে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স সংক্রান্ত কেলেঙ্কারীর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে। পরবর্তীতে শাস্তি প্রদানের পর কোম্পানির আইপিও প্রক্রিয়া নিয়ে মতামত প্রদাণ করবে আইডিআরএ।

এমনকি পুরো প্রক্রিয়ায় সাথে সংশ্লিষ্ট থাকা ইস্যু ম্যানেজার এ ব্যপারে চতুরতার আশ্রয় নেয়ায় এবং অবৈধভাবে কোম্পানির পক্ষে ডিউ-ডিলিজেন্স দেয়ায় ইস্যু ম্যানেজার প্রাইম ফাইন্যান্স ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের বিরুদ্ধেও ইতিমধ্যে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করেছে আইডিআরএ। এ সংক্রান্ত একটি চিঠি ইতিমধ্যে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে। আইডিআরএ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, আইন অমান্য করায় এবং বীমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে পাশ কাটিয়ে আইপিও অনুমোদন নেয়ায় বড় ধরনের শাস্তির মুখে পড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স। এর অংশ হিসেবে বর্তমানে কার্যরত প্রধাণ নির্বাহী কর্মকর্তাকে পদচ্যুত করা হতে পারে। এর পাশাপাশি পরিচালনা পর্ষদও সমানভাবে দোষী হওয়ায় এ বোর্ড ভেঙ্গে দিয়ে নতুন করে বোর্ড নিয়োগের নির্দেশ দেয়া হবে।

এ ব্যাপারে আইডিআরএ’র সদস্য জুবের আহমেদ খান শেয়ারবাজারনিউজ ডট কমকে জানান, ‘পুরো প্রক্রিয়াটি চেয়ারম্যান মহোদয় নিজে দেখছেন। এ ব্যাপারে এখনও আমাদের সাথে কোনো আলোচনা হয়নি। তাই ঠিক কি ব্যবস্থা নেয়া হবে সেটা এখনই বলতে পারছি না। তবে মানুষ মাত্রই ভুল করে। তারাও করেছে। এক্ষেত্রে আইডিআরএ বীমা খাতের শাষক হিসেবে নয় নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করবে। তাই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া ঠিক হবে না কোম্পানির অস্তিত্ব বিলীন করতে পারে।’

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্সের ক্যাপিটাল রেইজিং করার সময় অনুমোদন না নিয়েই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। এমনকি আইডিআরএ’কে পরবর্তিতেও এ ব্যাপারে জানায় নি। এরই মধ্যে চতুরতার আশ্রয় নিয়ে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ উত্তোলনের জন্য বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) থেকে অনুমোদন নেয়। পরবর্তিতে আইডিআরএ’র হস্তক্ষেপের কারণে বিএসইসি কোম্পানির আইপিও প্রক্রিয়া অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থাগত ঘোষণা করে। ‍

বীমা আইন অনুযায়ি, কোনো বীমা কোম্পানিকে মূলধন বৃদ্ধি করতে হলে বীমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ অনুমোদন নিয়ে কোম্পানির বিশেষ সাধারণ সভায় (ইজিএম) কোম্পানির সংঘ স্মারক ও সংঘবিধি পরিবর্তন করতে হয়। বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স আইডিআরএ’র অনুমোদন ছাড়াই বিশেষ সাধারন সভা (ইজিএম) করে কোম্পানির অনুমোদিত মূলধন, পরিশোধিত মূলধনের উদ্যোক্তা ও জনগণের শেয়ার ধারণের অনুপাত পরিবর্তন করেছে। অথচ কোম্পানির শেয়ার মূলধন বৃদ্ধি সংক্রান্ত ১২ নম্বর সংঘ স্মারকে উল্লেখ রয়েছে কোম্পানি উহার শেয়ার মূলধন উপযুক্ত মনে করিলে সময়ে সময়ে যেকোনো অর্থের নতুন শেয়ার সৃষ্টির মাধ্যমে মূলধন বৃদ্ধি করিতে পারিবে। তবে এইরূপ মূলধন বৃদ্ধি করিতে হইলে বীমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা অনুমোদনক্রমে হইতে হইবে। অথচ কোম্পানি সংঘ স্মারক লঙ্ঘন করে মূলধন বৃদ্ধি করে আইপিও’র আবেদন করেছে।

অভিযোগ উঠেছে, বিএসইসি রহস্যজনকভাবে আইডিআরএ অনুমোদন সংক্রান্ত ছাড়পত্র ছাড়াই তড়িঘড়ি করে আইপিও’র অনুমোদন করে দেয়। ইস্যু ম্যানেজারও এ ক্ষেত্রে কোম্পানিকে ডিউ-ডিলিজেন্স প্রদান করে। আর আবেদন করার মাত্র ছয় মাসের মাথায় অনুমোদন পেয়ে যায় ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স।

উল্লেখ্য, এর আগে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি ৫৪৩তম সাধারণ সভায় প্রিমিয়াম ছাড়াই এ কোম্পানির আইপিও অনুমোদন দেয়া হয়। আইপিও’র মাধ্যমে প্রতিটি ১০ টাকা মূল্যের ১ কোটি ৭৭ লাখ সাধারণ শেয়ার ইস্যু করার অনুমোদন পেয়েছিলো বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। এর মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে মোট ১৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা উত্তলন করার কথা ছিলো কোম্পানিটির।

শেয়ারবাজারনিউজ/ওহসি/ম.সা

 

আপনার মন্তব্য

*

*

Top