দেশে অতি-দারিদ্র্যের হার ১০.৬৪ শতাংশ

দরিদ্র্যশেয়ারবাজার রিপোর্ট : দেশে অতি-দারিদ্র্যের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমছে। ২০০৫ সালে দারিদ্র্যের হার ছিল ৪০ শতাংশ, ২০১৪ সালে যা ২৪.৪৭ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সময়ে অতি-দারিদ্র্যের হার ২৪.২ শতাংশ থেকে ১০.৬৪ শতাংশে নেমে এসেছে।

২০০১ সাল থেকে ২০০৬ পর্যন্ত ৫ বছরের সঙ্গে পরবর্তী ৫ বছরের তুলনামূলক এক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে এ সব তথ্য তুলে ধরেছে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি)। প্রতিবেদনে বর্তমান সরকারের অধীনে এ সাফল্য অর্জন হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৯২ সালের পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বাংলাদেশে মোট যত মানুষ দারিদ্র্যমুক্ত হয়েছে তার ৪৫ ভাগই হয়েছে গত ৫ বছরে।
২০০৯ থেকে ২০১৪ মেয়াদকালে গড়ে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ১৪ শতাংশ। অপরদিকে তার আগের ৫ বছরে প্রবৃদ্ধির গড় হার ছিল ৫ দশমিক ৪০ শতাংশ।

এতে বলা হয়, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ফলে জনগণের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে মাথাপিছু আয় ছিল ৫৪৩ মার্কিন ডলার, যা ২০১৩-১৪ অর্থবছরে দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ১ হাজার ১৯০ মার্কিন ডলার। ক্রয় ক্ষমতার সমতার ভিত্তিতে ২০০৫-০৬ অর্থবছরে মাথাপিছু আয়ের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৯৮০ মার্কিন ডলার, যা ২০১৩-১৪ অর্থবছরে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৬৬৮ মার্কিন ডলারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৫-০৬ অর্থবছরের তুলনায় ২০১৩-১৪ অর্থবছরে মোট রাজস্ব ও কর রাজস্ব তিনগুণের অধিক বেড়েছে। নতুন ভিত্তিবছর অনুযায়ী মোট রাজস্ব আয় জিডিপির ৮ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৫ শতাংশে।

প্রতিবেদনের সঞ্চয় ও বিনিয়োগ অংশে বলা হয়েছে, জাতীয় সঞ্চয় ২০০৫-০৬ অর্থবছরে জিডিপির ২৭ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে দাঁড়িয়েছে ৩০ দশমিক ৫ শতাংশে। অপরদিকে বিনিয়োগ ২০০৫-০৬ অর্থবছরে জিডিপির ২৬ দশমিক ১৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে হয়েছে ২৮ দশমিক ৬৯ শতাংশে।

সরকারের দক্ষ আর্থিক ও রাজস্ব খাত ব্যবস্থাপনা এবং নিয়মিত ও কার্যকর তদারকির মাধ্যমে গত ৫ বছরে গড় প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ১৪ শতাংশ হলেও মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৪ শতাংশের মধে সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আপনার মন্তব্য

Top