‘ইফাদের শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের লোকসান করতে দেব না’- ইফতেখার আহমেদ টিপু

IMG_20150908_182605ইফতেখার আহমেদ টিপু, একজন সফল ব্যবসায়ী। দেশের অন্যতম বড় শিল্পগোষ্ঠী ইফাদ গ্রুপের চেয়ারম্যান। তিনি বাংলাদেশ অটোমোবাইলস অ্যাসেম্বলারস ম্যানুফ্যাকচারস এসোসিয়েশনের (বিএএএমএ) সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি গ্রুপের ক্যাশকাউ ইফাদ অটোজ পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের কাছে ইফাদ অটোজের শেয়ার মৌলভিত্তির হিসেবে গ্রহণযোগ্যতাও পেয়েছে। ইফাদ অটোজসহ গ্রুপের অন্যান্য কোম্পানি নিয়ে নিজের পরিকল্পনা এবং ব্যবসায়িক দর্শন নিয়ে সম্প্রতি কথা বলেছেন শেয়ারবাজারনিউজ ডটকমে’র দুই প্রতিবেদক আহসান হাবীব ও মো: ওয়াহিদুল হকের সাথে। পাঠকদের জন্য সাক্ষাৎকারটির চুম্বক অংশ তুলে ধরা হল।

শেয়ারবাজার নিউজ: ইফাদ গ্রুপের সবচাইতে বড় বৈশিষ্ট্য কি?

ইফতেখার আহমেদ: আমি সারাজীবন এটা মেনে এসেছি কখনও কাউকে ঠকাবো না। ব্যাংকের সাথে যে লেনদেন ইফাদ করে সেখানেও এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের ঋণ খেলাপি হয়নি। বা কোনো প্রতিষ্ঠানকে ঠকাইনি।

শেয়ারবাজার নিউজ: ইফাদের ব্যবসা নিয়ে আপনি নিজে কতটা সন্তুষ্ট?

ইফতেখার আহমেদ: ব্যবসা নিয়ে সব ব্যবসায়িরই নির্দিষ্ট কিছু পরিকল্পনা থাকে। দৌড় প্রতিযোগীতায় আটজন দৌড়ায় সবাই কিন্তু প্রথম বা দ্বিতীয় হয় না। ব্যবসার মূল বিষয়টি হচ্ছে সৎ থাকতে হবে, সাধারণ মানুষের স্বার্থ চিন্তা করতে হবে। কাউকে ঠকানো যাবে না। আমার মূল লক্ষ্য ছিল দেশের বেকার জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান তৈরী করা। এখনও সে লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছি।

ইফাদ এন্টারপ্রাইজ থেকে যাত্রা শুরু করে এখন গ্রুপের মধ্যে নয়টি কোম্পানি রয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় সাত হাজারের বেশি মানুষের জন্য কর্মসংস্থান তৈরী করতে পেরেছি। আর এ প্রয়াস সবসময়ই অব্যহত থাকবে। এখানেই আমার স্বার্থকতা।

আর ইফাদের আজকের যা সাফল্য তার অবদান আসলে আমার একার বা কোনো নির্দিষ্ট কর্মকর্তার নয়। আমার অফিসের অ্যাসিসটেন্ট থেকে শুরু করে শীর্ষ কর্মকর্তা সবার মিলিত অবদানে আজকে ইফাদ এ পর্যায়ে আসতে পেরেছে।

শেয়ারবাজার নিউজ: ইফাদের ব্যবসা সম্পর্কে যদি কিছু বলেন?

ইফতেখার আহমেদ: ইফাদ এন্টারপ্রাইজেস দিয়ে যাত্রা শুরু করে ইফাদ গ্রুপ। এরপর ইফাদ অটোজ হল, ইফাদ মাল্টিপ্রোডাক্টস হল, ইফাদ সল্টেড কেমিক্যাল হল। সম্প্রতি ইফাদ আইটি যাত্রা শুরু করেছে। সব মিলিয়ে নয়টি কোম্পানিই সুনামের সাথে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে।

গ্রুপে নয়টি কোম্পানি থাকলেও ইফাদের মূল ব্যবসা আসলে ইফাদ অটোজ। বিআরটিসি যে ডাবল-ডেকার গাড়িগুলো কেনে তা ইফাদই সরবরাহ করে। এরশাদের আমল থেকেই আমরা গাড়ি সরবরাহ করছি।

সরকারী খাতে গাড়ি সরবরাহ করলেও তা উন্নয়নের জন্য যথেষ্ট হচ্ছে না। আমাদের লক্ষ্য দেশের বাজারে গাড়ির প্রসার ঘটান।

শেয়ারবাজার নিউজ: ইফাদের মাল্টি-প্রোডাক্টস তো বাজারে ভালো করছে। বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে রপ্তানীও করা হচ্ছে। মাল্টি-প্রোডাক্টসের ভবিষ্যৎ কেমন দেখছেন?

ইফতেখার আহমেদ: ইফাদের এফএমজিসি পণ্যের মাল্টি-প্রোডাক্টস ইতিমধ্যে বাজারে বেশ সুনাম কুড়িয়েছে। অনেকেই হয়ত জানেন না বিশ্বের ১৬টি দেশে এ কোম্পানির পণ্য রপ্তানি করা হয়ে থাকে। অথচ সত্যি বলতে দেশের বাইরে পণ্য রপ্তানি করার জন্য আমরা তেমন কোনো চেষ্টাও করি নি। আমার দেশের যে বিশাল বাজার এর চাহিদা পূরণ করাটাই মূল লক্ষ্য।

এর মধ্যেই বাজারের চাহিদার কারণে আমার চিপস এবং আটা-ময়দা-সুজির ফ্যাক্টরি ২৪ ঘন্টা চলছে। বাকি ফ্যাক্টরিগুলোও প্রায় ১৬ থেকে ১৮ ঘন্টা চালু থাকে। আমাদের কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এর মধ্যেই চিপসের জন্য আরেকটি প্লান্ট বসানোর পরিকল্পনা নিয়েছেন।

এছাড়া লবনের জন্যও আরেকটি প্লান্ট বসানোর প্রক্রিয়া প্রায় শেষ। এ কারণে সুইজারল্যান্ড থেকে মেশিন আনার প্রক্রিয়া চলছে। বাজারের চাহিদার কারণে ইফাদ সল্টেড কেমিক্যাল এখন থেকে ভ্যাকুয়াম মেশিনে লবন উৎপাদন করবে।

শেয়ারবাজার নিউজ: আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইফাদের পণ্যের পরিচিতি বাড়ানোর জন্য কোনো উদ্যেগ কি নিচ্ছেন?

ইফতেখার আহমেদ: ১৬টি দেশে তো আমাদের পণ্য যাচ্ছেই। এর পাশাপাশি আমেরিকা ও ইউরোপেও ভালো সাড়া পাচ্ছি। পণ্যের মানের কারনেই এমন সাড়া মিলছে।

মজার কথা হল, সম্প্রতি সৌদি আরবের এক বায়ার আমাদের ফ্যাক্টরি পরিদর্শনে গিয়ে বিস্কুট খেয়েছিল। স্বাদ এবং মান দেখে তিনি সাথে সাথেই অর্ডার দিয়ে গেছেন।

আমাদের চেষ্টা সবসময়ই থাকে কোনো ধরণের ভেজাল এবং নিম্নমানের পণ্যের উৎপাদন না করার।

শেয়ারবাজার নিউজ: এক্ষেত্রে তো পণ্যের দামও কিছুটা বাড়ে। সাধারণ মানুষের জন্য সবসময় কি তা সাধ্যের মধ্যে থাকে?

ইফতেখার আহমেদ: দেখুন এ বাজারে ভালো পণ্য উৎপাদন করে বাজারের দরে বিক্রি করে ব্যবসা করা খুব কষ্টসাধ্য ব্যাপার। আমরাও সব ক্ষেত্রে কুলিয়ে উঠতে পারছি না। দেশের মানুষের চিন্তা থাকে সবসময় সবচেয়ে কম দামে সবচাইতে ভালো পণ্য। কিন্তু এটা সবসময় বাস্তবসম্মত নয়। তবে আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।

এ কারণে দাম কিছুটা বাড়ছে। আমি সবাইকে আবেদন জানাব, কেজিতে দুই টাকা বাচাঁতে গিয়ে ডাক্তারকে দুশ টাকা দেবেন না। রাস্তার পাশে যে গম বিক্রি করে তার অধিকাংশ পশুখাদ্য বা নিম্নমানের গম থেকে তৈরী করা হয়। এগুলো খেলে যে কেউ অসুস্থ হওয়া স্বাভাবিক।

শেয়ারবাজার নিউজ: ব্যাক্তি ইফতেখার আহমেদের দর্শন কি?

ইফতেখার আহমেদ: আমি সবসময়ই সবাইকে নিয়ে কিছু করার চিন্তা করি। কেউ বেশি খাচ্ছে কেউ কম খাচ্ছে এটা হওয়া উচিৎ নয়। এর চাইতে সবাই মিলে সাধারণ কিছু খাবার মধ্যেও আনন্দ আছে। আর আমি সবসময়ই চাই বেকারদের জন্য দেশে কর্মসংস্থান বাড়াতে। সবাই যেন কাজ করে খেতে পারে।

সবার আগে মানবতা নিয়ে চিন্তা করতে হবে। তাহলে আমরা যেমন ভালো থাকব, দেশের মানুষও ভালো থাকবে। ইটস নো মোর আ পলিটিকাল ওয়ার্ল্ড, ইট ইস আ ইকনমিক ওয়ার্ল্ড। সবাইকে অর্থনীতির উন্নয়নের জন্য চিন্তা করতে হবে।

শেয়ারবাজার নিউজ: ব্যবসায়িরা সবসময় একটি দাবি জানান যে, দেশে ব্যাংকের সুদহার ব্যবসার জন্য প্রতিকূল। এটা নিয়ে আপনার অভিমত কি?

ইফতেখার আহমেদ: হ্যাঁ, এটা অবশ্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা ব্যবসায়িরা এবং আমাদের সংগঠন এফবিসিসিআই সবসময়ই সুদহার কমানোর দাবি জানিয়ে আসছে। তবে আশার কথা হচ্ছে, ব্যাংকের সুদহার খুব শীগগিরই কমবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

সম্প্রতি গভর্নর এবং সাবেক এফবিসিসিআই প্রেসিডেন্ট আনিসুল হকের মাধ্যেমে জানতে পারলাম সুদহার কমানোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক প্রায় রাজিই হয়ে আছে। ঈদের আগেই হয়তোবা ঘোষণা আসতে পারে। সুদহার কমলে এর ফলে কম মূল্যে পণ্য উৎপাদন করা যাবে।

তবে ব্যবসা পরিস্থিতি ভালো করার জন্য রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনুকূলে রাখতে হবে। হরতাল বা অবরোধের মাধ্যেমে অর্থনীতির গলা টিপে ধরার ফল সাধারণ জনগণকেই ভোগ করতে হয়। এসব থেকে আমাদের সরে আসতে হবে।

শেয়ারবাজার নিউজ: পরিবহন ব্যবসা প্রসারের জন্য অনেকেই অবকাঠামোর উন্নয়নে অংশগ্রহণ করে বা সরকারীভাবে উদ্যোগ নিতে চাপ প্রয়োগ করে। আপনারা যেহেতু পরিবহন খাতের ব্যবসা করেন, আপনারা কি এমন কোনো উদ্যোগ কখনো নিয়েছেন?

ইফতেখার আহমেদ: কোনো দেশের ব্যবসা সম্প্রসারিত করতে হলে সবার আগে আসে অবকাঠামো বা রাস্তাঘাট এবং জ্বালানী বা তেল-গ্যাসের সরবরাহের নিশ্চয়তা দিতে হয়। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সহনীয় পর্যায়ে রাখতে হবে। তাহলেই দেশের অর্থনীতি শক্ত অবস্থানে যেতে পারবে।

বাইরে থেকে কোনো বিনিয়োগ আনতে চাইলে মনে রাখতে হবে, ফরেন ইনভেস্টররা ইনভেস্ট করার আগে চিন্তা করেন ওই দেশের লোকাল ইনভেস্টররা বিনিয়োগ করছেন কি না। দেশের বিনিয়োগকারীরাই এখন নিশ্চিন্তে বিনিয়োগ করতে পারছেন না।

আর দেশের রাস্তাঘাট ঠিক-ঠাক রাখতে চাইলে করার সময়ই ভালোভাবে করতে হবে। এসব কাজে কোনো ত্রুটি রাখলে সে ক্ষেত্রে যদি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা হয়, তাহলে খারাপ কাজ করার প্রবণতা কমে আসবে।

শেয়ারবাজার নিউজ: শেয়ারবাজার নিয়ে আপনার অভিমত কি?

ইফতেখার আহমেদ: আমি মাঝে মাঝে লেখালেখি করি। আমি শেয়ার নিয়ে কিছু লেখালেখিও করেছি। আমার মতে শেয়ারবাজার কোনো ব্যবসা নয়, এটা বিনিয়োগ। আমাদের দেশের অধিকাংশ বিনিয়োগকারীই একদিন শেয়ার কেনে দুদিন যেতে না যেতেই বিক্রি করে দেয়ার চিন্তা করে।

কোনো কোম্পানির শেয়ার কেনার আগে বিনিয়োগকারীর এ খবর নেয়া দরকার কোম্পানির ব্যবস্থাপনায় কারা আছেন এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ কতটা রেখেছে অর্থাৎ ডিভিডেন্ড দিয়েছে কি না। এগুলো বিবেচনা করেই বিনিয়োগ করা উচিৎ।

শেয়ারবাজার নিউজ: আপনি দীর্ঘকাল ধরেই এফবিসিসিআই এর সদস্য। সম্প্রতি এফবিসিসিআই’এর নতুন পর্ষদ নির্বাচিত হল। কমিটির সভাপতি আবার মোটর অ্যাসেম্বলিং ব্যবসার সাথে জড়িত। এটা কি আপনাদের ব্যবসার জন্য কোনো সুবিধা নিয়ে আসতে পারবে?

ইফতেখার আহমেদ: হ্যাঁ মাতলুব সাহেব নির্বাচিত হবার পর তাঁর সাথে কথা হয়েছে। উনার কাছে আমরা অ্যাসেম্বলিংয়ের ব্যাপারে কিছু ডিউটি কমানোর দাবি জানিয়েছি। আমরা আশা করছি কিছু ভ্যাট বা ডিউটি কমানোর উদ্যোগ সংগঠনের পক্ষ থেকে নেয়া হবে।

শেয়ারবাজার নিউজ: ইফাদ গাড়ির ব্যবসা করছে। ইফাদের নিজের ব্র্যান্ডের গাড়ি তৈরীর কি কোনো পরিকল্পনা আছে?

ইফতেখার আহমেদ: গাড়ি সম্পূর্ণ তৈরী করা আমাদের দেশে এখনই সম্ভব হবে বলে আমার মনে হয় না। এমনকি জাপানেও গাড়ির প্রত্যেকটি অংশ একই কারখানায় তৈরী করা হয় না। প্রায় ৪০ ভাগ নিজেরা করে আর বাকি ৬০ ভাগ অন্য সবাইকে দিয়ে করায়।

দেশে গাড়ি তৈরীর সবচাইতে বড় প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে আমাদের দেশে কোনো ইনডেজেনাস কাঁচামালের খনি নেই। আমাদের দেশে এখন পর্যন্ত তাই কেউ গাড়ি তৈরীর উদ্যোগ নিতে পারেনি।

শেয়ারবাজার নিউজ: ইফাদ অটোজের কি আলাদা কোনো পরিকল্পনা নেই?

ইফতেখার আহমেদ: দেশে ভারী গাড়ি এসেম্বলিং করার জন্য কিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে প্রাইভেট কার বা গাড়ির ক্ষেত্রে রিকন্ডিশনিং আমদানী করা হয়। প্রগতি শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কিছু মডেল অ্যাসেম্বলিং করে। গাড়ি তৈরী করতে চাইলে সব কিছুই আমদানী করে আনতে হবে বাইরে থেকে। সেক্ষেত্রে গাড়ির তৈরীর খরচ বাজার মূল্যের থেকে অনেক বেশি হয়ে যাবে।

ইফাদ যেটা করছে সেটা হল দেশে প্রথমবারের মত বড় পরিসরে অ্যাসেম্বলিং ফ্যাক্টরি তৈরী করছে। এখানে গাড়ির সম্পূর্ণ বডি তৈরী করা সম্ভব হবে।

শেয়ারবাজার নিউজ: বাজারে তো গাড়ির ভাল চাহিদা রয়েছে।

ইফতেখার আহমেদ: আমাদের বাজারে গাড়ির যে চাহিদা রয়েছে তার প্রায় ৯৭ ভাগই রিকন্ডিশন গাড়ির বাকি ৩ ভাগ যে চাহিদা নতুন গাড়ির রয়েছে সে বাজারে বেশি দামের কোনো পণ্য চালান কঠিন।

যেমন বাইরে থেকে কাঁচামাল আমদানী করে এনে একটা টায়ার বানানোর খরচ পড়বে প্রায় ৪০ হাজার টাকা। অথচ এ টায়ার বাইরের কোনো দেশ থেকে সম্পূর্ণ আমদানী করলে দাম পড়ে ২২ হাজার টাকা। কাঁচামাল বাইরে থেকে এনে উৎপাদন করা তাই বোকামী হবে।

আর গাড়ি যদি বানাতেই হয় তাহলে বাইরে থেকে গাড়ি আমদানী বন্ধ করে দিতে হবে। যেটা এখনই সম্ভব নয়। আর এর মধ্যে দেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতাও বাড়তে হবে। তা না হলে বেশি দামে গাড়ি কেনা মানুষের পক্ষে সম্ভব হবে না।

শেয়ারবাজার নিউজ: তাহলে তো দেশে কখনোই গাড়ির কোনো অংশ তৈরীও সম্ভব হবে না?

ইফতেখার আহমেদ: আমরা চিন্তা করে দেখেছি দেশে গাড়ির ব্রেক সু তৈরী সম্ভব। রেক্সিন, পেইন্ট, ফোম ইলেকট্রোডস প্রভৃতি এখন দেশে পাওয়া যাচ্ছে।

শেয়ারবাজার নিউজ: এফবিসিসিআই’র নতুন কমিটি হল। এখন পর্যন্ত তাদের কাজকে কিভাবে মূল্যায়ন করবেন?

ইফতেখার আহমেদ: কমিটি তো নির্বাচিত হলই মাত্র। এ কমিটির মেয়াদ তো দু বছর। টিভিতে পত্রিকায় যা দেখছি তারা চেষ্টা করছে। আমি নিজেও ২৭ বছর থেকে ফেডারেশনের সদস্য। তাদের সাথে আমার যোগাযোগ নিয়মিত হয়। আমাদের কিছু দাবি ছিল নতুন কমিটির কাছে। তারা এটা নিয়ে কাজ করছে।

শেয়ারবাজার নিউজ: ইফাদ অটোজের বিনিয়োগকারীদের জন্য কি বলবেন?

ইফতেখার আহমেদ: ইফাদ অটোজ আমাদের গ্রুপের মূল কোম্পানি এবং সবচাইতে লাভজনক কোম্পানি। শেয়ারবাজারে যারা ইফাদ গ্রুপের শেয়ারে বিনিয়োগ করেছেন তাদের উদ্দেশ্যে বলব ইফাদের শেয়ারে বিনিয়োগ করা কাউকে লোকসান করতে দেব না। আর বিনিয়োগকারীদের বলব আপানার শেয়ারকে ব্যবসা হিসেবে না দেখে বিনিয়োগ হিসেবে দেখুন।

 

শেয়ারবাজারনিউজ: আপনার মূল্যবান সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

ইফতেখার আহমেদ: আপনাকেও ধন্যবাদ।

 

আপনার মন্তব্য

Top