পাইকারি হারে আইপিও অনুমোদন বন্ধ করুন -মিজানুর রশিদ চৌধুরী

sharebazarnews biniogkaryবর্তমান পুঁজিবাজারে চাহিদার অতিরিক্ত কোম্পানিকে প্রাথমিক গণ প্রস্তাবের (আইপিও) অনুমোদন দেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে বেশিরভাগ কোম্পানিই অত্যন্ত দুর্বল। এগুলোতে বিনিয়োগ করলে এক সময় বিনিয়োগকারীদের পুঁজি অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। ‘শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ, জেনে ও বুঝে বিনিয়োগ করুন’ এই স্লোগান দিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা যেমন আমাদের সতর্ক করছে। তেমনি আমরা বলছি,‘শেয়ারবাজার ঝুঁকিপূর্ণ, জেনে-বুঝে অনুমোদন দিন’। সাম্প্রতিক বাজার পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি মিজানুর রশিদ চৌধুরীর সঙ্গে আলাপকালে তিনি শেয়ারবাজার নিউজ ডটকমকে এসব কথা বলেন। শেয়ারবাজার নিউজ ডটকমের পক্ষ থেকে সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন রুহান আহমেদ। সাক্ষাতটির চুম্বক অংশ পাঠকদের উদ্দেশ্যে তুলে ধরা হলো।

শেয়ারবাজার নিউজ : বর্তমান বাজার পরিস্থিতি আপনি কিভাবে মূল্যায়ন করছেন ?
মিজানুর রশিদ চৌধুরী : বর্তমান শেয়ারবাজারের সূচক যে অবস্থানে এসেছে তার চেয়ে নীচে নামার জায়গা নেই। ২০১০ সালের ৬ই ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত বিভিন্ন দায়িত্বশীল ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের বাজার ভালো হবে বলে শুধু আশ্বস্তই করেছেন। কিন্তু তা শুধুমাত্র কথার ফুলঝুঁড়ি ছাড়া আর কিছুই ছিল না। এখন দেশে যে রাজনৈতিক সংকট চলছে পুঁজিবাজারে তার প্রভাব পড়ছে। তাই বাজারে মন্দাবস্থা বিরাজ করছে।
শেয়ারবাজার নিউজ : বিগত ৪ বছরে অনেক কোম্পানি বাজারে এসেছে। এ বিষয়ে আপনার মতামত কি ?
মিজানুর রশিদ চৌধুরী : ২০১০ সালে ধ্বস শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৩৫ থেকে ৩৬টি কোম্পানি আইপিও’র মাধ্যমে বাজারে এসেছে। এর মাধ্যমে বাজার থেকে কোম্পানিগুলো প্রচুর পরিমান টাকা উত্তোলন করে নিয়ে গেছে। আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি আগামী ১০ বছরের মধ্যে এর প্রায় ২৮টি কোম্পানি খুজে পাওয়া যাবে না। গত ১০ বছরে যেসব কোম্পানিকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে এগুলো যদি লাপাত্তা হয়ে যায় তার জন্যে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনই (বিএসইসি) দায়ী থাকবে। কারণ তারাই এগুলোর যথাযথ বাছবিচার কিংবা যাচাই বাছাই না করে বাজারে প্রবেশের অনুমোদন দিয়েছে।
শেয়ারবাজার নিউজ ডটকম : আপনি কি বলতে চাচ্ছেন বেশিরভাগ কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন স্বচ্ছ নয়?
মিজানুর রশিদ চৌধুরী : দেখা গেছে, তালিকাভুক্ত অনেক কোম্পানি আর্থিক প্রতিবেদনে অস্বচ্ছ ও ভুল তথ্য দেওয়ার কারণে জরিমানার সম্মুখীন হয়েছে। আবার তালিকাভুক্তির আগেও ভুল তথ্য উপস্থাপন করে কারসাজির সুযোগ নিয়েছে। এতে বেশিরভাগ কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে ওঠে। অথচ এর পরেও নিয়ন্ত্রক সংস্থা রহস্যজনক কারনে সেই কোম্পানিগুলোর অনুমোদন দিয়েছে।

শেয়ারবাজার নিউজ ডটকম : তাহলে এখন করণীয় কি?
মিজানুর রশিদ চৌধুরী : অনতি বিলম্বে ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং অ্যাক্ট কার্যকর করতে হবে। এর সঙ্গে বাইব্যাক আইনও প্রণয়ন করতে হবে।তবে সবার আগে পাইকারি হারে অনুমোদন প্রক্রিয়া বন্ধ রাখতে হবে।

শেয়ারবাজার নিউজ ডটকম : বাজারে স্বল্প মূলধনী কোম্পানির সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। প্রায়ই বাজারে এগুলোর শেয়ার দরে অস্বাভাবিকতা দেখা যায়। এ বিষয়টিকে আপনি কিভাবে দেখছেন ?
মিজানুর রশিদ চৌধুরী : এগুলো মুলত কারসাজি। এগুলোর জন্য পৃথক মার্কেট থাকা দরকার।

শেয়ারবাজার নিউজ ডটকম : ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) মার্কেট সম্পর্কে কি বলবেন ?
মিজানুর রশিদ চৌধুরী : ওটিসি মার্কেটের কোম্পানিগুলোতে বিনিয়োগকারীদের বিপুল পরিমাণ অর্থ আটকে রয়েছে। এগুলোর বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার যুগপোযোগী পদক্ষেপ নেয়া এখন সময়ের দাবি। এসব কোম্পানির পরিচালকদের বাধ্যতামূলকভাবে বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে শেয়ার কেনার নির্দেশনা দেয়া উচিত। এজন্য বাইব্যাক আইন প্রণয়ন খুবই জরুরি।

শেয়ারবাজার নিউজ ডটকম : মিউচ্যুয়াল ফান্ড থেকে আস্থা কমে যাওয়ার কারণ কি ?
মিজানুর রশিদ চৌধুরী : মিউচুয়্যাল ফান্ডের টাকা যে ভাবে ব্যাবহার করা উচিত সে ভাবে ব্যবহার হচ্ছে না। সম্প্রতি অনুমোদন প্রাপ্ত একটি মিউচ্যুয়াল ফান্ড ৬০ কোটি টাকা উত্তোলন করার কথা থাকলেও উত্তোলন সম্ভব হয়েছে মাত্র এক তৃতীয়াংশ। এতে বুঝা যায় মিউচুয়্যাল ফান্ডে বিনিয়োগকারীদের কোন আস্থা নেই এবং এটাকে বিনিয়োগকারীরা প্রত্যাখ্যান করেছে।

 

শেয়ারবাজার/রু/আহা

 

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top