রিজেন্ট টেক্সটাইলের হিসাবে গরমিল

Regent_Textileশেয়ারবাজার রিপোর্ট: প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে মূলধন উত্তোলনের পর থেকেই রিজেন্ট টেক্সটাইলের প্রসপেক্টাসের বিভিন্ন অসঙ্গতি ও ভুল তথ্য উপস্থাপন নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। ক্যাশ ফ্লো ও শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) নিয়ে ভুল তথ্য উপস্থাপনের ফলে খোদ কোম্পানির অডিটর এ বিষয়ে সঠিক তথ্য উপস্থাপনের আহ্বান জানিয়েছে কোম্পানির প্রতি।

কোম্পানির বিভিন্ন অসঙ্গতি নিয়ে করা অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের দ্বিতীয় পর্ব প্রকাশিত হলো আজ।

ইপিএস নিয়ে বিভ্রান্তি:

অনুমোদিত প্রসপেক্টাস অনুযায়ী, কোম্পানি একস্ট্রা-অর্ডিনারি আয় ব্যাতিত শেয়ার প্রতি মূল (বেসিক) আয় করেছে ২০০৯ সালে ১.২০ টাকা, ২০১০ সালে ১.৪২ টাকা, ২০১১ সালে ২.০৯ টাকা, ২০১২ সালে ২.৩২ টাকা এবং ২০১৩ সালে ২.৮৪ টাকা।

আবার অডিটরের সার্টিফিকেট অনুযায়ী, কোম্পানির বেসিক ইপিএস ২০১০ সালে ছিল ২.০৪ টাকা, ২০১১ সালে ৩.৩৪ টাকা, ২০১২ সালে ২.২২ টাকা, ২০১৩ সালে ২.৯২ টাকা এবং ২০১৪ সালে ২.৪৮ টাকা।

ইপিএসের এ পরিবর্তনের কারণ কি সে ব্যাপারে কোম্পানির পক্ষ থেকে কোনো ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি। অডিটর হুদা-ভাসি অ্যান্ড কোং এর পক্ষ থেকে দেয়া মতামতে বলা হয়েছে, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (পাবলিক ইস্যু) রুলস, ২০০৬ অনুযায়ী কোম্পানির পক্ষ থেকে সঠিক ইপিএস উপস্থাপন করতে হবে।

অডিটর পাল্টালেই মুনাফায় গড়মিল:

ডেফার্ড ট্যাক্সের প্রভিশনিং নিয়ে গড়িমসি করায় কোম্পানির মুনাফায় গড়মিল দেখা গেছে। একই অর্থবছরে দুই অডিটরের হিসেবে কোম্পানির মুনাফার পরিমাণ এসেছে দু’রকম। এক্ষেত্রে উঠে এসছে প্রায় দুই কোটি টাকার অসঙ্গতি।

২০১১ সালে এস এফ আহমেদ অডিটরের হিসেবে কোম্পানির মুাফার পরিমাণ দাঁড়ায় ১২ কোটি ১৮ লাখ ২৭ হাজার ৮১৬ টাকা। অথচ হুদা-ভাসির হিসেবে এ মুনাফার পরিমাণ ৮ কোটি ৯৯ লাখ ৮০ হাজার ৩২৮ টাকা। অর্থাৎ প্রায় ৩ কোটি ১৮ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮৮ টাকার হিসাব মিলছে না।

অথচ এত বড় অঙ্কের টাকার হিসাবে গড়মিল কি কারণে হয়েছিল- কোম্পানির পক্ষ থেকে এ ব্যাপারেও কোনো ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি।

প্রথম বছরেই ডিভিডেন্ড দেয়া নিয়ে সংশয়:

রিজেন্ট টেক্সটাইলের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি বছর তালিকাভুক্ত হলে এ বছর বিনিয়োগকারীদের ডিভিডেন্ড দিতে পারবে কি না নিয়ে সংশয় রয়েছে। ২০১৪ সালের হিসাব শেষে কোম্পানির রিটেইনড আর্নিংয়ে রয়েছে ৪২ কোটি ৩ লাখ ১ হাজার ৪০৫ টাকা। আর সর্বশেষ বছরের কর প্রদানের পর মুনাফা ১৪ কোটি ৮৮ লাখ টাকার কিছু বেশি। কোম্পানির শেয়ার পরিমাণ ৪৫ শতাংশ বাড়ায় যদি কোম্পানি ৪৫ শতাংশ বেশি মুনাফাও করতে পারে তবে রিটেইনড আর্নিং ও মুনাফা মিলিয়ে ডিভিডেন্ড দেয়ার মত অর্থের পরিমাণ হবে প্রায় ৬২ কোটি টাকার মত।

অথচ কারেন্ট, নন-কারেন্ট এবং শর্ট-টার্ম ঋণ মিলিয়ে কোম্পানির দায়ের পরিমাণই ৬২ কোটি ৬৯ লাখ ৫৫ হাজার ৮৯১ টাকা। এর মধ্যে লং-টার্ম বা দীর্ঘ-মেয়াদী ঋণের পরিমাণে ১৫ কোটি ১১ লাখ ৪ হাজার ১৪৭ টাকা। অর্থাৎ মোট ঋণের মধ্যে ৪৭ কোটি ৫৮ লাখ ৫১ হাজার ৭৪৪ টাকাই সল্প সময়ের মধ্যেই পরিশোধ করতে হবে।

এদিকে কোম্পানি আইপিও’তে আসার আগে মোট শেয়ারের পরিমাণ ছিল ৬ কোটি। আইপিও’তে শেয়ার ছাড়া হবে ৫ কোটি ফলে আইপিও’র পর শেয়ারের পরিমাণ দাঁড়াবে মোট ১১ কোটি। ১১ কোটি শেয়ারের বিপরীতে কোম্পানির ডিভিডেন্ড দেয়ার মত টাকার পরিমাণ থাকবে মাত্র ১৫ কোটি টাকার কিছু বেশি। তাই প্রথম বছরেই কোম্পানিকে রিজার্ভ ভেঙ্গে বিনিয়োগকারীদের ডিভিডেন্ড দিতে হবে। যা পরের বছরগুলোতে চলমান থাকবে এ নিশ্চয়তা নেই।

কোম্পানি আইন অনুযায়ী, রিটেইনড আর্নিং ও চলতি বছরের মুনাফার বাইরে থেকে ডিভিডেন্ড না দেয়ার বাধ্য-বাধকতা থাকায় কোম্পানি চলতি বছরেই ডিভিডেন্ড দিতে পারবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

এ ব্যাপারে কোম্পানি সচিবের সাথে যোগাযোগ করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শেয়ারবাজারনিউজ/ওসি/আহা/ম.সা

আপনার মন্তব্য

Top