বিএসইসির ব্যাখ্যা অনুসরণীয়

Editorial-Logoঅবশেষে আইপিও অনুমোদনের অস্বচ্ছতা নিয়ে মুখ খুলেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন(বিএসইসি)। বিষয়টি নিয়ে সারা দেশের বিনিয়োগকারীসহ মিডিয়াগুলো এতো ব্যপক ভিত্তিক সমালোচনা শুরু করেছিল যে, অনেকটা বাধ্য হয়েইে প্রতিষ্ঠানটিকে তাদের আত্মপক্ষ সমর্থন করে একটি বিবৃতি দিতে হয়েছে। যথার্থ আকারে হোক কিংবা গোজামিলে পরিপূর্ণ থাকুক সেটি আমাদের দেখার বিষয় নয় আমরা অন্তত তাদের এই উদ্যোগটিকে স্বাগত জানাচ্ছি।
কারণ রাষ্ট্রীয়ভাবে বাংলাদেশের মানুষের চরিত্র আজ এমন একটি পর্যায়ে চলে গেছে এখানে কারো কোন অন্যায় কাজের কিংবা অনৈতিক কার্যক্রমের প্রতিবাদ জানালে কিংবা বাধা দিলে উল্টো প্রতিবাদকারিকেই হেনস্থা হতে হয়। আমার দীর্ঘ জীবনের সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা থেকেই যেখানে এ বাক্যটির অনেক উদাহরণ সৃষ্টি হয়েছে সেখানে সাধারণ মানুষের ভুক্তভোগী হওয়ার বিষয়টি-তো অহরহ পাওয়া যাবে। সর্বশেষ গত ১ ফেব্রুয়ারী রোববার পুঁজিবাজার ভিত্তিক শীর্ষ অনলাইন পত্রিকা শেয়ারবাজার নিউজ ডটকমের “বিনিয়োগকারীর কলামে” প্রকাশিত বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি মিজানুর রশিদ চৌধুরীর সাক্ষাতকারটি প্রকাশ কালে শুধুমাত্র হেনস্থা হওয়ার ভয়ে অনেক ভেবে চিন্তে সম্পাদনার মাধ্যমে তার বক্তব্যের স্পিরিটি অনেক কমিয়ে আমরা প্রকাশ করেছি। কিন্তু তারপরও তার বক্তব্যের মূলভাব দিয়ে সাক্ষাতকারটির যে শিরোনাম আমরা করেছি সেটি ছিল এরকম-“পাইকারি হারে আইপিও অনুমোদন বন্ধ করুন”। তার বক্তব্যের একটি অংশে তিনি বলেছেন,  ২০১০ সালে ধ্বস শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৩৫ থেকে ৩৬টি কোম্পানি আইপিও’র মাধ্যমে বাজারে এসেছে। এর মাধ্যমে বাজার থেকে কোম্পানিগুলো প্রচুর পরিমাণ টাকা উত্তোলন করে নিয়ে গেছে। তিনি নিশ্চিত করে বলেন, আগামী ১০ বছরের মধ্যে এর প্রায় ২৮টি কোম্পানিকেই খুঁজে পাওয়া যাবে না। এখন অনুমোদন দেয়া ওই কোম্পানিগুলো আগামী ১০ বছর পর যদি লাপাত্তা হয়ে যায় তার জন্যে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের(বিএসইসি) বর্তমান কর্মকর্তারাই দায়ী থাকবে। কারণ তারাই এগুলোর যথাযথ বাছবিচার কিংবা যাচাই বাছাই না করে বাজারে প্রবেশের অনুমোদন দিয়েছে।
মিজানুর রশিদ তার সাক্ষাতকারের আরেক জায়গায় বলেছেন, তালিকাভুক্ত হতে যাওয়া  অনেক কোম্পানি আর্থিক প্রতিবেদনে অস্বচ্ছ ও ভুল তথ্য দেওয়ার কারণে জরিমানার সম্মুখীন হয়েছে। আবার তালিকাভুক্তির আগেও ভুল তথ্য উপস্থাপন করে কারসাজির সুযোগ নিয়েছে। এতে বেশিরভাগ কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে ওঠে। অথচ এর পরেও নিয়ন্ত্রক সংস্থা রহস্যজনক কারণে সেই কোম্পানিগুলোর অনুমোদন দিয়েছে।
শেয়ারবাজার নিউজ ডটকমে এই রিপোর্ট ছাপা হওয়ার ঠিক একদিন পরেই সোমবার নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে আইপিও অনুমোদন সংক্রান্ত একটি ব্যাখ্যা সর্বসাধারণের জন্য প্রচার করে। সেখানে সংস্থাটি যথাসাধ্য চেষ্টা করেছে তারা যেসব প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কোনো কোম্পানিকে অনুমোদন দেয় তার বংস্বচ্ছতা এ পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি ফুটিয়ে তুলতে। সেই ব্যাখ্যার যথার্থতা নিরুপনের জন্য অনেক কিছু বিশ্লেষণ এবং পরীক্ষা নিরীক্ষার ব্যাপার আছে। কারণ একটি মৃত বাজারে পাইকারি হারে বলতে গেলে প্রায় সপ্তাহে সপ্তাহে আইপিও অনুমোদন দেয়ার বিষয়টি নিয়ে নানা মহলে নানা রকমের কথা শোনা যাচ্ছে। অনুমোদন করানোর জন্য কোম্পানির হিসাব বহির্ভূত অনেক খরচও নাকি বেড়ে গেছে এমনটি শোনা যায়। তাছাড়া এই ব্যয়ের একটি অংশ বিএসইসির বাইরে বাছাই করা কোন কোন ব্যাক্তির পকেটেও যাচ্ছে বলে বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ।  সে যাই হোক, আমাদের বিশ্বাস সম্ভবত এ কথাগুলোই সংস্থাটির কর্মকর্তাদের কানে পৌঁছেছে এবং শোনার প্রায় সাথে সাথেই তাদের স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার বিষয়টি বিবেচনা করে একটি ব্যাখ্যা প্রকাশ করেছে। এর আগের কমিশনের ব্যাপারে যত অভিযোগই উঠুক না কেন আমরা মনে করি বর্তমান কমিশন স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য। তাদের বিরুদ্ধে এখনো আমাদের কাছে তেমন কোন অভিযোগ নেই। তারপরও দুর্নীতির দায়ে বিপুলভাবে অভিযুক্ত কোন প্রতিষ্ঠানই এখনো পর্যন্ত বিএসইসির মতো সর্বসাধারণের কাছে ব্যাখ্যা দেয়ার সাহস দেখাতে পারেনি। তদুপরি দুর্নীতির কালিমা পড়েনি এমন প্রতিষ্ঠান হয়ে বিএসইসি যে কাজ করেছে গোটা জাতির পক্ষ থেকে আমরা সেজন্য প্রতিষ্ঠানটিকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। আমরা মনে করি দেশের অপরাপর প্রতিষ্ঠানগুলোও যদি বিএসইসির এই পদাঙ্ক অনুসরণ করে তাহলে সেদিন বেশি দূরে নয় যেদিন একটি দুর্নীতিমুক্ত দেশ হিসাবে বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাড়াবে বিশ্বের বুকে।

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top