শুরুতেই ইফাদ অটোসের চমক

ifadশেয়ারবাজার রিপোর্ট: লেনদেন শুরুর প্রথম দিনেই  চমক দেখিয়েছে পুঁজিবাজারে সদ্য তালিকাভুক্ত হওয়া প্রকৌশল খাতের কোম্পানি ইফাদ অটোস লিমিটেড । আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় দেশের উভয় শেয়ারবাজারে আনুষ্ঠিানিকভাবে শুরু হয় এ কোম্পানির লেনদেন।  ডিএসই ও সিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, লেনদেনের প্রথম দিন ডিএসইতে ইফাদ অটোসের শেয়ার দর বেড়েছে ৩৭.৭০ টাকা বা ১২৫.৬৭ শতাংশ। বৃহস্পতিবার এ শেয়ারের দর ৪০ টাকায়  ওপেন হলেও সর্বশেষ লেনদেনটি হয় ৬৭.৭০ টাকায়। দিনভর এ কোম্পানির শেয়ার দর ৪০ টাকা থেকে ৬৯ টাকায় ওঠানামা করে। দিনশেষে এ কোম্পানির ১ কোটি ১৬ লাখ ৯৭ হাজার ৭৮টি শেয়ার মোট ৭৪ কোটি ৯৩ হাজার টাকায় লেনদেন হয়। এদিন সিএসইতে ইফাদ অটোসের মোট ২৮ লাখ ৬৯ হাজার ১৫৭টি শেয়ার মোট ১৫ হাজার ৭৩৬ বার হাত বদল হয়।

২০১৫ সালে তালিকাভুক্ত হওয়া ইফাদ অটোসের অনুমোদিত মূলধণ ২০০ কোটি টাকা। আর পরিশোধিত মূলধণ ১১৫ কোটি টাকা। এ কোম্পানির রিজার্ভের পরিমাণ ৩১৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। এ কোম্পানির মোট ১১ কোটি ৫০ লাখ শেয়ার রয়েছে। এর মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে রয়েছে ৬২.৭৭ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ২০.৬০ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ১৬.৬৩ শতাংশ।

এদিকে দেশের উভয় শেয়ারবাজারে ‘এন’ ক্যাটাগরি আওতায় লেনদেন শুরু হয় এ কোম্পানির লেনদেন। ডিএসইতে ও সিএসইতে কোম্পানিটির ট্রেডিং কোড: IFADAUTOS এবং ডিএসইতে কোম্পানি কোড: ১৩২৩৭ আর সিএসইতে কোম্পানি কোড হচ্ছে: ১৬০৩১।

এর আগে কোম্পানিটির আইপিওতে আবেদনকারীদের মধ্যে শেয়ার বরাদ্দ দেয়ার জন্য লটারির ড্র গত ২৪ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয়। কোম্পানিটির আইপিওতে গত ২৩ থেকে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হয়। তবে প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের জন্য এ সুযোগ ছিলো ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

জানা যায়, ইফাদ অটোস শেয়ারবাজার থেকে ৬৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা উত্তোলনের জন্য ২ কোটি ১২ লাখ ৫০ হাজার শেয়ার ছেড়েছে। যার বিপরীতে ১ হাজার ২৩ কোটি ৩৯ লাখ ৫০ হাজার টাকার আবেদন জমা পড়েছিল। যা কোম্পানির উত্তোলনকৃত টাকর ১৬.০৫ গুণ।

এর মধ্যে সাধারণ কোটায় ৭০২ কোটি ৬৩ লাখ ৬০ হাজার টাকার, ক্ষতিগ্রস্ত কোটায় ৭৮ কোটি ২৮ লাখ ৬২ হাজার টাকার, মিউচ্যুয়াল ফান্ড কোটায় ১৮৫ কোটি ৫৭ লাখ ৬৪ হাজার টাকার এবং প্রবাসি বিনিয়োগকারী কোটায় ৫৬ কোটি ৮৯ লাখ ৬৪ হাজার টাকার আবেদন জমা পড়েছে।

১০ টাকা অভিহিত মূল্যের সঙ্গে ২০ টাকা প্রিমিয়ামসহ প্রতিটি শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ টাকা। আর মার্কেট লট নির্ধারণ করা হয়েছে ২০০টি শেয়ারে। আইপিওর মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন করে কোম্পানিটি ব্যবসা সম্প্রসারণ, ব্যাংক ঋণ পরিশোধ এবং আইপিও খরচ খাতে ব্যয় করবে।

কোম্পানিটির আইপিওতে ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে বেনকো ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এবং আলফা ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড।

উল্লেখ্য, ৩০ জুন ২০১৪ সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৫.১৬ টাকা এবং শেয়ার প্রতি সম্পদ (এনএভিপিএস) হয়েছে (রিভেলুয়েশনসহ) ৪৪.১২ টাকা।

 

 

শেয়ারবাজার/অ

আপনার মন্তব্য

Top