রফতানি লক্ষ্যমাত্রা ৯০ কোটি টাকা

মাসব্যাপী ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার আজ তৃতীয় দিন। তৃতীয়দিনেও পুরোপুরি শেষ হয়নি মেলায় অংশ নেয়া সবগুলো স্টলের নির্মাণ কাজ। এদিকে এবারের মেলাকে ঘিরে রফতানি লক্ষ্যমাত্রা ৯০ কোটি টাকা আশা করা হচ্ছে। গত বৃহষ্পতিবার (১ জানুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাসব্যাপী এ মেলার উদ্বোধন করলেও এখনো শেষ হয়নি মেলা প্রস্তুতির কাজ। বরাদ্দকৃত অধিকাংশ স্টলেই চলছে মেরামত কাজ। অনেক প্যাভিলিয়নে মালামাল ওঠানো হয়নি আজও। সেই সাথে অসম্পন্ন রয়েছে মেলায় অংশ নেয়া বেশিরভাগ বিদেশি প্যাভিলিয়নের কাজ। মেলা প্রাঙ্গণে রয়েছে ইট-বালু ও মেরামত কাজের নানা সরঞ্জামাদি। দর্শনার্থীদের হাঁটার জন্য সম্পূর্ণ উপযোগী হয়ে ওঠেনি মেলার মাঠ।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মেরামতকৃত স্টলগুলো পুরোপুরি প্রস্তুত করতে আরো কয়েকদিন সময় লাগবে।

এবারের মেলায় ৯০ কোটি টাকার রফতানির অর্ডারের লক্ষ্য নিয়ে মাসব্যাপী এ মেলার আয়োজন করেছে রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)। স্টল নির্মাণের কাজ অসম্পন্ন থাকায় রফতানির যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে তা পূরণ করতে পারবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর(ইপিবি) এক
উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘সবে মাত্র মেলা শুরু হয়েছে। এখন দশনার্থীরা ওভাবে আসা শুরু করেনি। তবে আশা করছি দুই একদিনের মধ্যে প্রস্তুতির কাজ শেষ হয়ে যাবে।’

এদিকে ব্যবসায়ীদের অনেকেই বলেছেন, গতবছর মেলায় স্টলের নির্মাণ কাজ দেরিতে শেষ হওয়ার কারণে মেলার ক্ষতি হয়েছিল। এবার সে ক্ষতি পোষাতে আগেভাগেই প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

দেখা যায়, প্রতিবছরই মেলা উদ্বোধনের পর অধিকাংশ স্টলের কাজ চলে। এর ফলে দর্শনার্থীরা অভিযোগ করেন, ৩০ টাকা টিকিট কেটে ঢুকেছি অথচ এখনো স্টলগুলো সাজানো হয়নি। অনেক স্টলের এখনো মেরামাত কাজ চলছে।

এ বিষয়ে ইপিবির উপ-সচিব রেজাউল করীম বলেন, ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় এ মেলার আয়োজনে প্রথম দিকে কিছু সমস্যা থাকে। মেলার শুরুর আগেই বেশির ভাগ কোম্পানি তাদের প্রস্তুতি সেরেছেন। তবে এখনও কিছু স্টলের নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি। আশা করছি দুই একদিনের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে।’
এবারের রফতানি লক্ষ্যমাত্রার বিষয়ে তিনি জানান, ‘গতবারের চেয়ে এবার মেলায় ১০ শতাংশের বেশি রপ্তানি বাড়তে পারে। সে হিসাবে বাণিজ্য মেলার এক মাসে ৯০ কোটি টাকার অর্ডার আসতে পারে।’

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা থেকে মোট ৩২৮ দশমিক ৪ কোটি টাকার রফতানি আদেশ পাওয়া যায়। এর মধ্যে ২০১০ সালে ২২.৮৬ কোটি টাকা, ২০১১ সালে ২৫.০০ কোটি টাকা, ২০১২ সালে ৪৩.১৮ কোটি টাকা, ২০১৩ সালে ১৫৭ কোটি টাকা ও ২০১৪ সালে ৮০ কোটি টাকার রপ্তানি আদেশ পাওয়া যায়।
এছাড়া, এবারের মেলা থেকে দেশীয় পণ্যের আগাম অর্ডার আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ইপিবির এই উপ-সচিব।

উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সাল থেকে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর আগে আরও ১৯ বার এই মেলা বসেছে।

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top