শেয়ার বাজার: গভর্ণরের কি কোনই দায় নেই

 

Editorialঅবশেষে গভর্ণরের পদত্যাগ দাবী করলেন সাধারন বিনিয়োগকারীরা। মতিঝিলের রাজপথে গত ২ নভেম্বর দুপুরে বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের ব্যানারে মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করে বিনিয়োগকারীরা এই দাবী জানান। নিবর্তনমূলক রাজনৈতিক নিপিড়নের শিকার হয়েও এই বিনিয়োগকারীরা রাজপথে নেমেছে তাদের শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে নিতান্তই তাদের জীবন বাঁচাতে এবং ছেলে মেয়ে ও পরিবার পরিজনের জীবন রক্ষার্থে।

মূলত গভর্ণরের বিরুদ্ধে এই ক্ষোভ বিক্ষোভ শুরু হয়েছে ২০১০ সালের মহাধস পরবর্তী সময় থেকেই। সেদিনের পর থেকে আজ পর্যন্ত পুঁজি হারিয়ে সন্তান পরিজনের ব্যয় মেটাতে ব্যর্থ হয়ে দু:খে কষ্টে বেশ কয়েকজন বিনিয়োগকারীর মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন আরো অনেকেই। পুঁজি হারিয়ে দিশেহারা অবস্থায় আছেন লক্ষ লক্ষ বিনিয়োগকারী। এদের সকলেরই অভিযোগের তীর ওই গভর্ণরের দিকে। বাজারের আজকের এই পরিস্থিতির জন্য যে গভর্ণরই দায়ী সেটি আজকের বাজারে আসা শিশুটিও ওয়াকিবহাল।

এই অবস্থায় গভর্ণরের পদত্যাগ দাবীকে বাজার সংশ্লিষ্ট সকল মহল যেমন সাধুবাদ জানিয়েছেন তেমনি পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে খুবই যুক্তিযুক্ত বলেও মনে করছেন। তারা বলছেন, গভর্ণর একচোখ দিয়ে শুধুই ব্যাংক সংশ্লিষ্ট মানুষের স্বার্থ রক্ষার ঘোষনা দিয়েছেন। কিন্তু ব্যাংক সংশ্লিষ্ট মানুষগুলোই যে পুঁজিবাজারের সাথে ওতপ্রতোভাবে জড়িত তিনি আরেক চোখ দিয়ে সেটি আর দেখেননি। এবং এখনো দেখছেননা। ফলে এক চোখ বন্ধ রেখেই তিনি বাংলাদেশের সতেজ বলিষ্ঠ একটি বাজারকে নীতিমালার বেড়াজালে আটকিয়ে দুর্বল থেকে দুর্বলতর করে এখন গলাটিপে হত্যা করছেন। তার এই হত্যাকান্ডের চুলচেরা বিশ্লেষণও ইতিমধ্যে বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশ পেয়েছে।

সম্প্রতি শেয়ারবাজার নিউজের পাঠক কলামে ঢাকার উত্তরা থেকে তানভির আহমেদ একটি লেখা পাঠিয়েছেন। লেখাটিতে তিনি শেয়ার বাজারকে গভর্ণর মহোদয় কিভাবে আহত করেছেন এবং কিভাবে নিহত করেছেন তার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেছেন। লেখাটি ছাপা হওয়ার পরে বিভিন্নমহল থেকে যোগাযোগের সবগুলো মাধ্যমে (টেলিয়োন, ফেসবুক, ইমেইল এবং সরাসরি লেখকের লিখার নিচে নানানভাবে কমেন্টস করে) আমাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন এবং লেখকের প্রতি সমর্থন যুগিয়েছেন। টেলিফোন ইমেইল এবং ফেসবুকের বিষয়টি সরাসরি শেয়ারবাজার নিউজ কর্তৃপক্ষের সাথে সম্পৃক্ত কিন্তু লেখকের সাথে যারা কমেন্টস করে সম্পৃক্ত হয়েছেন তাদের সবগুলো আইটেম আমরা এখনো পাঠকদের জন্য রেখে দিয়েছি। (লেখাটি পড়তে এখানে ক্লিক করুন)। আমার জানামতে একসময় গভর্ণর মহোদয় নিজেই এসব লেখার পাঠক ছিলেন। কিন্তু এখন এসব লেখার দিকে তার শুধু খেয়াল নেই তাইই নয় স্বাধীনতাউত্তর বাংলাদেশে শুধুমাত্র তাকেই পদত্যাগদাবীর মুখোমুখি হতে হয়েছে এ দিকটিতেও তিনি ভ্রুক্ষেপ করছেননা। রেমিটেন্সের অর্থে আর গার্মেন্টসের বৈদেশিক মুদ্রায় দেশের অর্থনীতিতে জোয়ার বইছে এই গল্প শুনিয়ে গভর্ণর মহোদয় যে বাহবা নিচ্ছেন তার গোড়ায় কি আছে ব্যাংকগুলোর দিকে তাকালেই তার জবাব পওয়া যাবে। যে  ব্যাংক ব্যবস্থাকে রক্ষার জন্য তিনি শেয়ার বাজারকে বিসর্জন দিচ্ছেন সেই ব্যাংকগুলোও এখন খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে। ব্যাংকে তার চোখের সামনেই হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্বৃত্তায়ন হচ্ছে তিনি শুধুই তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছেন। বাচ্চুর নামটি নিতে তার বুক কাপছে। টাকা উদ্ধারতো দূরের কথা। প্রকৃত অর্থে রাজনৈতিক দড়িতে হাতপা বাধা থাকলে যা হওয়ার কথা তার ক্ষেত্রেও সম্ভবত তাই হয়েছে। নইলে চার হাজার কোটি টাকা যৎসামান্য বলার পরেও তার চুপ থাকার মানে কি? এই টাকা কার? অর্থমন্ত্রীর বাবার না গভর্ণেরর চাচার? হলমার্ক বিসমিল্লাহ এবং বাচ্চুরা টাকা খেয়ে গেলো আর ব্যাংকের শেয়ার কিনতে গেলেই গভর্নরের গা জ্বালাপোড়া করে এর কারণ কি? ওপরের এই মন্তব্যগুলোর বাইরেও অনেক কঠিন কঠিন কথা টেলিফোনে আমাদের শুনিয়েছেন পাঠকরা। এক পাঠক বলেছেন, আইএমএফ এবং ইন্ডিয়ার মিশন বাস্তবায়ন করতেই গভর্ণর শেয়ার বাজার ধংস করছেন। ওই দুই জায়গা থেকেই তিনি প্রচুর পরিমানের স্বার্থ পেয়েছেন। আরেকজন বলেছেন, শুধু শেয়ার বাজারই নয় গোটা অর্থনীতি ধংসই গভর্ণরের মিশন। এবং দেশ এখন সেদিকেই এগিয়ে যাচ্ছে।

কিন্তু আমি যে গভর্ণরকে চিনি সেই গভর্ণরের সাথে আমাদের পাঠকদের অভিযুক্ত এই গভর্ণরের কোনো মিল খুঁজে পাইনা। একটি গবেষনা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ছিলেন তিনি। মাসে আমাদেরকে একবার ডাকতেন। অর্থনীতির একটি বেসরকারি ইনডেক্স চালু করেছিলেন তিনি। বিবিএসএর সাথে অনেক তফাৎ ছিলো সেই ইনডেক্সের। দেশের গোটা অর্থনীতি নিয়ে তিনি ভাবতেন। অথচ এখন একটি বড় চাকুরি পেয়েই তিনি বলে ফেললেন, ব্যাংক ক্লাইন্টদেরই আমি দেখবো শেয়ার বাজারের বিনিয়োগকারীদের আমি দেখবোনা।

কিন্তু আমরা মনে করি শেয়ার বাজারের লক্ষ লক্ষ বিনিয়োগকারীর অন্তরের ভেতর থেকে তার বিরুদ্ধে যে নীরব অভিশাপ যাচ্ছে তার খেশারত তাকে দিতে হবে। তবে সময় এখনো ফুরিয়ে গেছে বলে আমরা মনে করিনা। তিনি এখনো যদি উদ্যোগ নেন বিশেষ করে এক্সপোজারের ডেফিনেশনে তিনি যে পরিবর্তন এনেছেন সেটি যদি ফিরিয়ে নেন সেক্ষেত্রে কিছুটা ক্ষতি পোষানো সম্ভব হবে বলে বিনিয়োগকারীরা অনেকেই মনে করেন।

আপনার মন্তব্য

Top