রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে এক পয়সাও খরচ হয়নি: খুশি হয়েছে লাখ লাখ মানুষ

Editorialপ্রধানমন্ত্রীর এক ঘোষণায় চাঙ্গা হয়ে উঠেছে শেয়ারবাজার। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ফিরে এসেছে প্রাণ চাঞ্চল্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে এমন শীর্ষ পর্যায় থেকে এ ধরনের একটি ঘোষণার প্রত্যাশায় ছিল। মূলত একটি পতনশীল বাজারকে স্থিতিশীল করতে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের দায়িত্বপূর্ন বক্তব্য অপরিহার্য। কিন্তু দু:খজনক বিষয় হলো বিশ্বের সব দেশে এই রেওয়াজটি থাকলেও আমাদের দেশে তা একেবারেই অনুপস্থিত। বিশেষ করে যিনি যে মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত সেই মন্ত্রনালয়ের ব্যাপারে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রীরা যখন দায়িত্বহীন বক্তব্য দেন তখন ওই একজনের একটি বক্তব্যের কারণে গোটা জাতি যেমন হতাশাগ্রস্ত হয় তেমনি ক্ষতিগ্রস্তও হন। যার বাস্তব উদাহরণ এই শেয়ারবাজার।

আজ বাজারের এই শুভ লগ্নে আমাদের অর্থমন্ত্রীসহ অন্যান্যরা এতোদিন যেসব বেফাস কথা বলেছেন তা নতুন করে বিনিয়োগকারীদের শোনাতে চাইনা। তবে এতটুকু বোঝাতে চাই যে প্রধানমন্ত্রীর পুঁজিবাজার নিয়ে একটি ইতিবাচক মন্তব্য করতে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে একটি পয়সাও খরচ হয়নি। এর আগে অর্থমন্ত্রী মহোদয় সিঙ্গেল বোরোয়ার এক্সপোজার লিমিট সমন্বয় করতে সময় বাড়ানো নিয়ে যে ঘোষণাটি দিয়েছেন তাতেও তার পকেট থেকে কোনো গচ্ছা যায়নি। অথচ শীর্ষ পর্যায়ের এই দু ব্যাক্তির দুটি মন্তব্যে লক্ষ লক্ষ বিনিয়োগকারীর যে কত উপকার হয়েছে সে বিষয়ে আমার মনে হচ্ছে তারা কেউই অবহিত ছিলেননা।

আমার এই সন্দেহের কারন হচ্ছে, যদি তারা সত্যি সত্যি জানতেন যে, বাজারের পড়ন্ত বেলায় তাদের শুধুমাত্র একটি কথায়ই সূচক লেনদেন এবং জনসাধরনের আস্থা সবকিছু ঘুরে দাঁড়াতে পারে তাহলে দেশের অর্থনীতির প্রানশক্তি পুঁজিবাজারের এই করুন হালে এতোদিন তারা নিশ্চুপ থাকতে পারতেননা। তাছাড়া পুঁজিবাজার এমন একটি জায়গা যেখানে সরকারের নিজস্ব কোনো বিনিয়োগ নেই। বরং এখান থেকে জনগনের টাকা দিয়ে বছরে শতশত কোটি টাকার রাজস্ব নিয়ে যাচ্ছে সরকার। সেক্ষেত্রে বলা যায় শেয়ারবাজার হলো সরকারের জন্য বিনা পুঁজিতে সোনার ডিম পাড়া একটি রাজাহাস। এই রাজাহাসটিকে টিকিয়ে রাখতে মাঝেমধ্যে প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং যদি একটু দেখভাল করেন তাহলে দেশের আর্থিক প্রবৃদ্ধির অগ্রগতিতে যে একটি নতুন দিগন্তের সূচনা হবে শুধু তাই নয়, এখানে হাজার হাজার মানুষের জন্য উন্মুক্ত হবে কর্মক্ষেত্রের একটি বিশাল বাজার। ’৯৬ সালে সারা দেশ থেকে মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়েছিল মতিঝিলে। ২০১০ সালের ঘটনাও প্রায় তদনুরুপ। কয়েকজন মানুষের অতিলোভ এবং একটি গোষ্ঠীর অসৎ অর্থ লাভের প্রতিযেগিতা না হলে ঠিক সেই অবস্থায় যদি আবার বাজারকে নিয়ে যাওয়া যায় তাহলে নতুন যে বিনিয়োগকারীরা এই বাজারে আসবেন তারাতো এই দেশেরই মানুষ। মানবপাচার চক্রের হাতে সমুদ্রে ডুবে মরার চেয়ে যদি শেয়ারবাজার থেকে কিছু আয় করে তারা খেয়ে পড়ে বাঁচতে পারেন সেটি মন্দ কিসের।

আমরা মনে করি অর্থমন্ত্রী মহোদয় ব্যাংক আইন সংশোধন করে এক্সপোজার লিমিট সমন্বয়ের সময়সীমা বাড়ানোর যে উদ্যোগ নিতে যাচ্ছেন তার সাথে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘ দিনের দাবী এক্সপোজারের সংজ্ঞা পরিবর্তনের যে বিষয়টি চলে এসেছে তা অন্তভূক্ত করে দেন এবং প্রধানমন্ত্রী মাসে অন্তত একবার করে যদি বাজারের খোজখবর নেন তাহলে স্বচ্ছতার সাথে ’৯৬ কিংবা ২০১০ সালে ফিরে যাওয়া একেবারেই সময়ের ব্যাপার মাত্র। তাছাড়া এ পর্যায়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো যেভাবে সতর্ক হয়েছে এবং শক্তিশালীও হয়েছে তাতে কোনো গোষ্ঠীর আবার বাজার ম্যানুপুলেট করার মত যোগ্যতা এবং সামর্থ থাকারও কথা নয়। আমি মনে করি আমার এই প্রত্যাশা দেশের লক্ষ লক্ষ বিনিয়োগকারীর মনের কথা। এদের দিকে তাকিয়ে বাজারটিকে এগিয়ে নিতে দয়া করে প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সব মহল যথাযথ ভূমিকা পালন করবেন দেশের মানুষ সেটাই এখন দেখতে চায়।

 

 

 

আপনার মন্তব্য

Top