মার্জিন ঋণে জর্জরিতদের উদ্ধার করুন

sharebazarnews biniogkaryযারা মার্জিন ঋণে জর্জরিত হয়ে আছেন তাদের উদ্ধারের ব্যবস্থা করুন। যতদিন না তারা এ জাল থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে ততদিন এ বাজার মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারবে না। বাজারকে ঘিরে মানুষ যতদিন অনাস্থায় ভুগবে ততদিন নতুন সূর্যের আশা করাটা বোকামী ছাড়া আর কিছুই নয়। বাজারের প্রতি দেশের মানুষ ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে ভর্তুকীর বিকল্প নেই। তাই প্রধানমন্ত্রীর কাছে আহ্ববান বাজারের স্বার্থে এ বাজারে ১০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকী দেয়া হোক। এমনটাই দাবি করেন বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের চেয়ারম্যান মিজান-উর-রশিদ চৌধুরী। শেয়ারবাজার নিউজের সাথে একান্ত আলাপকালে তিনি এ দাবি করেন।

তিনি বলেন, এর আগে বাজারের স্বার্থে যে ৯ শত কোটি টাকা দেয়া হয়েছে তা ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) এমন কিছু শর্ত আরোপ করেছে যে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা এ টাকার ধারে কাছেও যেতে পারেননি।

তিনি আরো জানান, দেশের টাকা বিদেশে পাচার হওয়ার চেয়ে দেশেই বিনিয়োগ হওয়া ভাল। আমাদের মোট মানি মার্কেটে অ-প্রদর্শিত অর্থের পরিমাণ ৫৪ শতাংশ। এ টাকা দেশে বিনিয়োগের সুযোগ না পেয়ে বিদেশে পাচার করছেন অনেকেই। এ পাচার রোধে দেশে বিনিয়োগের সুযোগ বাড়াতে হবে।

আমাদের শেয়ার বাজারের সাথে প্রত্যক্ষ ভাবে ৩৩ লাখ এবং পরোক্ষ ভাবে ৩ কোটি লোক সম্পৃক্ত। যা আমাদের মোট জন সংখ্যার এক পঞ্চমাংশ। শুধু তাই নয় এ খাতের সাথে দেশের পুরো শিল্প খাত জড়িত। ফলে এ খাতকে সরকার কোন ভাবেই অবমূল্যায়ন করতে পারে না।

বাজারকে তার স্থিতিশীল অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার জন্য যে সব পদক্ষেপ সরকারের নেয়া উচিৎ ছিল তা নেওয়া হয়নি। আর যেসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তার একটিও বিদ্যমান নেই। এ ছাড়া বাজারের অবস্থা পরিবর্তনের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে।

যেখানে দেশের বেকার সমস্যা প্রকট এর মধ্যে কিছু বেকারের রোজগারের মাধ্যম হয়ে উঠেছে আমাদের শেয়ারবাজার। এর জন্য হলেও পুঁজিবাজারকে তার মান ফিরিয়ে দিতে এখনি সরকারের পদক্ষেপ নেয়া উচিৎ। বাজারের তারল্য প্রবাহ বৃদ্ধির স্বার্থে পূর্বের ন্যায় ব্যাংক গুলোর মোট দায়ের ১০ শতাংশ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ দিতে হবে।

মিজান-উর-রশিদ চৌধুরী বলেন, গত কয়েকদিন আগে মাননীয় অর্থমন্ত্রী পুঁজিবাজারে ব্যাংকের এক্সপোজার লিমিট নির্দিষ্ট মাত্রায় নামিয়ে আনার সময়সীমা আরও দুই বছর বাড়ানোর যে আশ্বাস দিয়েছেন তাতে অনেকেই অপেক্ষার প্রহর গুনছে। কেননা যারা বাজারের ভাল চান তাদের সিংহভাগই মনে করেন এই এক্সপোজার লিমিট জনিত সমস্যাটি বাজারের জন্য একটি গলার কাঁটা। আমার দাবি এই আশ্বাস যেন যথা সম্ভব দ্রুত পূরণ করা হয়।

অ-প্রদর্শিত অর্থ এ বাজারে বিনা শর্তে বিনিয়োগের সুযোগ দিতে হবে। মানি লন্ডারিংয়ের দোহাই দিয়ে বাজার সংশ্লিষ্টদের হয়রানি বন্ধ করতে হবে। অ-প্রদর্শিত অর্থ যদি সরকার কোথাও বিনিয়োগের সুযোগ না দেয় তবে এ টাকা কোথায় যাবে। বাধ্য হয়ে মানুষ এ টাকা বিদেশে পাচার করবে এবং করছে। দেশের মোট মানি মার্কেটে অ-প্রদর্শিত অর্থের পরিমান ৫৪ শতাংশ। এ টাকা অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের ভুল সিদ্ধান্তের ফলে কোথাও বিনিয়োগের সুযোগ নেই। ২০১১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত তাদের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে প্রচুর টাকা দেশের বাইরে চলে গেছে। আর এই কারণেই মনে হয় আমাদের গভর্ণরকে এশীয় অঞ্চলের শ্রেষ্ঠ গভর্ণর হিসেবে পুরষ্কিত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্ণর দেশীয় ব্যাংক গুলোকে তাদের আমানতের টাকা বাজারে বিনিয়োগের সুবিধা থেকে বঞ্চিত করেছেন। অন্যদিকে ১৯৫টি শিল্প প্রতিষ্ঠানে ৫ শতাংশ সরল সুদে বিদেশী ব্যাংকগুলোকে বিনিয়োগের সুযোগ করে দিয়েছেন। এর ফলে বলতেই হয় গভর্নর সাহেব দেশীয় পুঁজিকে কুক্ষিগত করে বিদেশী পুঁজির অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছেন। তার এসব কর্মকান্ডে অনেকেই তাকে বিশ্ব পুঁজিবাজারের একজন বড় এজেন্ট মনে করেন।

মিজান-উর-রশিদ চৌধুরী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার আহ্ববান দেশ, জাতি, দেশীয় শিল্প এবং বেকার সমস্যা সমাধানের স্বার্থে এ পুঁজিবাজারের প্রতি আপনার সহানুভূতি একান্ত কাম্য। কারণ পুঁজিবাজার একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। দেশের টাকা বিদেশে পাচার হওয়ার চেয়ে দেশেই বিনিয়োগ হওয়া ভাল। অতএব, এ অপ্রদর্শিত অর্থ দেশের যে কোন খাতে বিনা শর্তে বিনিয়োগের সুযোগ করে দেয়ার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।

শেয়ারবাজারনিউজ/রু

আপনার মন্তব্য

One Comment;

  1. ABDUL MATIN Bhuiyan said:

    I endorse your views. Govt may kindly waive the interest on margin loan victim accounts from January2011 to December 2015 and save the victims and the Capital market.

*

*

Top