ইস্যুমূল্যের ১০ শতাংশ কমে আইপিও পাবেন বিনিয়োগকারীরা

IPO_SharebazarNewsশেয়ারবাজার রিপোর্ট: ফেসভ্যালুর চেয়ে বেশি প্রিমিয়াম নিতে চাইলে কোম্পানিগুলোকে এখন থেকে বুক বিল্ডিং পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে। আর বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা যে মূল্য নির্ধারণ করবে অর্থাৎ ইস্যুমূল্যের ১০ শতাংশ কমে প্রাথমিক গণ প্রস্তাবে (আইপিও) আবেদন করতে পারবেন বিনিয়োগকারীরা। অন্যদিকে যেসব কোম্পানি কোনো প্রকার প্রিমিয়াম নেবে না (ফেসভ্যালু ১০ টাকা) তাদেরকে ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে আবেদন করতে হবে।

এমন আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ (পাবলিক ইস্যু) রুলস ২০০৬ সংশোধন করার উদ্যোগ নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। সোমবার অনুষ্ঠিত কমিশনের ৫৬১তম সভায় আইনটি সংশোধন করে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (পাবলিক ইস্যু) রুলস,২০১৫ এর নামকরণ করে প্রস্তাবিত খসড়া অনুমোদন দেয়া হয়। খসড়াটি জনমত জরিপের জন্য দৈনিক পত্রিকা ও বিএসইসির নিজস্ব ওয়েবসাইটে শিগগিরই প্রকাশ করা হবে।

খসড়ার প্রথমেই বলা হয়েছে, যেসব প্রতিষ্ঠান ফেসভ্যালুতে আইপিও আবেদন করতে চাইবে তাদের জন্য ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতি এবং যেসব প্রতিষ্ঠান প্রিমিয়াম নিয়ে আবেদন করতে চাইবে তাদের জন্য বুক বিল্ডিং পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে।

বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে ১২ ক্যাটাগরির প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি বিডিং কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারবে। এগুলো হলো : মার্চেন্ট ব্যাংক এবং পোর্টফলিও ম্যানেজার, অ্যাসেট ম্যানেজম্যান্ট কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড, স্টক ডিলার, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বীমা কোম্পানি, অল্টারনেটিভ ইনভেস্টম্যান্ট ফান্ড ম্যানেজার,অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড, বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে যেসব বিদেশি বিনিয়োগকারীর বিনিয়োগের পোর্টফলিও রয়েছে,স্বীকৃত পেনশন ফান্ড এবং প্রভিডেন্ট ফান্ড এবং বিএসইসির অনুমোদিত অন্যান্য প্রতিষ্ঠান।

বিডিংয়ে প্রত্যেক ক্যাটাগরির প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা কোটা সংরক্ষণ করা হবে।

বুক বিল্ডিং পদ্ধতির জন্য পাবলিক ইস্যু রুলসের খসড়ায় আরো বলা হয়েছে, প্রত্যেক কোম্পানিকে রোড শো’র আয়োজন করতে হবে। রোড শোতে যে সব প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা অংশগ্রহণ করবে তাদের মতামত এবং পর্যবেক্ষণসহ ইস্যুয়ার কোম্পানি প্রসপেক্টাসের কপি এবং আবেদনপত্র বিএসইসি এবং স্টক এক্সচেঞ্জে দাখিল করতে হবে। তবে প্রসপেক্টাসে ইস্যুয়ারের সব ধরনের তথ্য থাকতে হবে এবং শেয়ারবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের পরিমাণও উল্লেখ থাকতে হবে। তবে কত দরে এবং কি পরিমাণ শেয়ার ইস্যু করা হবে তা উল্লেখ করা যাবে না।

এতে আরও বলা হয়েছে, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা নির্ধারিত কোটার শেয়ার সর্বনিম্ন যে দরে বিডিং শেষ করবে সেটি হবে কোম্পানির ‘কাট অফ প্রাইস’। কাট অব প্রাইসের চেয়ে ১০ শতাংশ (নিকটতম পূর্ণসংখ্যা) কম দরে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অর্থাৎ প্রাথমিক গণ প্রস্তাবের (আইপিও) জন্য ইস্যুমূল্য নির্ধারণ করতে হবে। যেমন কোনো কোম্পানির বিডিংয়ে ইস্যু মূল্য ৫৮ টাকা নির্ধারিত হলো। সেক্ষেত্রে  সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ১০ শতাংশ অর্থাৎ ৫.৮০টাকা কমে ৫২ টাকায় আইপিও আবেদন করবে।

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

৩ Comments

  1. Pingback: পাবলিক ইস্যু রুলস-২০১৫ চূড়ান্ত: শিগগিরই গেজেট | শেয়ারবাজারনিউজ.কম

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top