একসাথে কাজ করলে বীমা শিল্পে দক্ষ জনবল তৈরি সম্ভব: ডা: এবিএম জাফর উল্লাহ

1423587659950প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও বীমা খাতে দক্ষ জনবল তৈরি এবং বীমা সেবা জনসাধারণের কাছে পৌঁছে দিতে পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স শুরু থেকেই নিষ্ঠার সাথে কাজ করে আসছে। কোম্পানিটির চেয়ারম্যান ডা: এবিএম জাফর উল্লাহ এর মতে, সবাই মিলে কাজ করলে বীমা শিল্পে দক্ষ জনবল তৈরি সম্ভব। সম্প্রতি বীমা শিল্পের বিভিন্ন দিক নিয়ে শেয়ারবাজার নিউজ ডটকমের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করেন এ চেয়ারম্যান। পাঠকদের উদ্দেশ্যে নিম্নে তার সঙ্গে আলোচনার চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো।

শেয়ারবাজার নিউজ : বীমা ব্যবসায় আগ্রহী হলেন কিভাবে?

ডা: এবিএম জাফর উল্লাহ : ২০০০ সালে তৎকালীন সরকার ১১টি কোম্পানিকে বীমা ব্যবসার অনুমতি দেয় । তখন আমরা বীমা ব্যবসার অনুমতি পাই। বীমা ব্যবসা প্রসারের পাশাপাশি বীমা সেবায় সর্বসাধারণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই সরকারের মূল উদ্দেশ্য ছিল। আগে বীমা শুধুমাত্র বড় শহরে বড় ব্যবসায়ীদের বা ধনী শ্রেণীর কাছেই জিম্মি ছিল। পরবর্তিতে আসা নতুন কোম্পানিগুলোর কারণে এখন গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষের কাছেও বীমা সেবা পৌঁছে দেয়া সম্ভব হয়েছে। এটা একটা বড় সফলতা।

শেয়ারবাজার নিউজ: দেশে বীমা ব্যবসায় সবচেয়ে সাফল্যর বছর কোনটি?

ডা: এবিএম জাফর উল্লাহ: ২০০০ সালে ব্যবসা শুরু করার পর থেকে অদ্যবধি আমাদের অঙ্গীকার অনুযায়ী আমরা ভালো ব্যবসা করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। তবে বলা যেতে পারে ২০০৫-০৬ সালের শেষের দিকে আমাদের ব্যবসা ভালো হয়েছে। এরপর ২০০৬ সালের পরে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বীমা ব্যবসায় মোটামুটি ধ্বস এসেছিল বলা যায়।

শেয়ারবাজার নিউজ: এর সাথে আর কোনো কারণ কি ছিল?

ডা: এবিএম জাফর উল্লাহ: মূলত রাজনৈতিক অস্থিরতাই এর কারণ। এর জন্যেই আমার বীমা কর্মীরা গ্রামাঞ্চলে বা শহরের বাইরে যেতে বা কাজ করতে পারেনি। অস্থিতিশীল পরিবেশের কারণে সাধারণ মানুষ যারা বীমা করবে তারাও তো অস্থিরতার মধ্যে থাকে। এ অস্থিরতার মধ্যে তারা বীমার ব্যাপারে মনোযোগ দেয়ার তেমন একটা সুযোগও পায়না।

শেয়ারবাজার নিউজ: বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন উদ্যেক্তা, যারা বীমা ব্যবসা করতে চায় তাদের জন্য আপনার পরামর্শ কি?

ডা: এবিএম জাফর উল্লাহ: নতুন করে বীমা ব্যবসা করতে চাইলে তা বীমা শিল্পের জন্য মঙ্গলজনক হবে। সেক্ষেত্রে বীমা ব্যবসার পরিধি সম্প্রসারিত হবে। কিন্তু এটাও মনে রাখা দরকার যে, বীমা ব্যবসায় দক্ষজনবলের ব্যপক অভাব রয়েছে। এক্ষেত্রে সরকার এবং বীমা ব্যবসায়িরা একসাথে কাজ করে তাহলে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা সম্ভব। বর্তমান সরকারের তত্বাবধানে বীমা নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ মাঠ পর্যায়ে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে কাজ করছে। তাই আগামিতে বীমা শিল্পে দক্ষ জনবলের অভাব কাটবে বলে আমরা আশাবাদী।

শেয়ারবাজার নিউজ: বীমা ব্যবসা করতে গিয়ে এ ব্যবসায় কোন প্রতিবন্ধকতা রয়েছে বলে মনে হয়েছে?

ডা: এবিএম জাফর উল্লাহ: প্রতিবন্ধকতার কথা বললে, প্রথমেই বলতে হয় দেশে শিক্ষার স্বল্পতা। আশেপাশের দেশগুলোতে যেখানে শিক্ষার হার বেশি সেখানে বীমা ব্যবাসার গ্রহণযোগ্যতাও বেশি। যেমন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শ্রীলঙ্কায় শিক্ষার হার বেশি ফলে সেখানে বীমার গ্রহণযোগ্যতা ও বীমার ব্যাপারে সাধারণের সচেতনতাও তুলনামূলক বেশি।

শেয়ারবাজারনিউজ ডট কম: আমাদের দেশেও তো শিক্ষার হার বাড়ছে। দেশের স্বাক্ষরতার হার প্রায় ৬৩ শতাংশ। এরপরও ব্যাংক খাতের প্রতি মানুষের যে আগ্রহ বা আস্থা আছে বীমার ভাবমূর্তি সাধারণের কাছে তেমন নয় । এর কারণটা আসলে কি?

ডা: এবিএম জাফর উল্লাহ: দেশে শিক্ষার হার যত বাড়ছে বীমা করার হারও কিন্তু সেভাবেই বাড়ছে। অন্যদিকে ব্যাংক তো সাধারণ মানুষের কাছে অনেকটা বাধ্য-বাধকতার মতো। কারণ নগদ টাকার নিরাপত্তার জন্য ব্যাংকে রাখা হয়। এর পাশাপাশি ব্যাংকে টাকা জমা থাকলে এর বিপরীতে ঋণও নেয়া যায়। বীমাতে এসব সুযোগ না থাকায় ব্যাংকের তুলনায় বীমার পিছিয়ে থাকার কারণ। তবে মূলত অর্থের নিরাপত্তার জন্যই ব্যাংকিং সেবা নেয়ার প্রবণতা বেশি।

শেয়ারবাজারনিউজ ডট কম: বীমা সেবা গ্রহিতাদের মধ্যে এ ধরনের অভিযোগ প্রায়ই পাওয়া যায় যে, তারা মৃত্যুদাবির অর্থ সময়মতো পান না। padma88পেলেও এর জন্য তাদের যথেষ্ট হয়রানির সম্মুখিন হতে হয়। ব্যাপারটিকে আপনি কিভাবে দেখেন?

ডা: এবিএম জাফর উল্লাহ: অভিযোগটি সম্পূর্ন সত্য নয়। কিন্তু মৃত্যুদাবি পরিশোধের বিষয়ে দালিলিক কিছু নিয়ম থাকে এসব পূরণ না করে দাবি পরিশোধ করা যায় না। আর মৃত্যুদাবি পরিশোধ করাটা কোনো কোম্পানির জন্য লোকসানজনক নয়। ‍বরং কোম্পানির প্রচারের জন্য এটি উৎকৃষ্ট একটি মাধ্যম। কারণ একটি পরিবারের কোনো বীমা পলিসি হোল্ডার যদি মৃত্যুবরণ করে আর তার মৃত্যুদাবি যদি আমি সঠিক সময়ের মধ্যে পূরন করতে পারি, এ থেকে ১০ টি বা ২০ টি পরিবার নতুন করে বীমার ব্যাপারে আগ্রহী হবে। যে ভদ্রলোক পলিসিটা করেন তিনি ছাড়া অন্যকেউ এ ব্যাপারে হয়তো জানতেও পারেন না। ওনার মৃত্যুর পর পরিবারের সদস্যরা অনেক কাগজপত্র বা দলিল হারিয়ে ফেলে বা সময়মতো জমাও দিতে পারে না। এসব কারণেই আসলে দাবি পূরণ করতে দেরি হয়। আর যে টাকাটা দাবি হিসেবে দেয়া হয় সে টাকা তো কোম্পানির টাকা নয় এ টাকা পাবলিক প্রপার্টি। এ টাকার জন্য আমাদের কর্তৃপক্ষের কাছে জবাবদিহি করতে হয়। তাই চাইলেও কাগজপত্রের ফারাক থাকলে আমরা এ টাকা দিতে পারি না। এরপরও পদ্মা ইসলামি লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানি এ ব্যাপারে যথেষ্ট আন্তরিক। অধিক বীমা দাবি পূরণ করার কারণে বীমা অধিদপ্তরের কাছ থেকেও আমরা প্রশংসাপত্র পেয়েছি ।

শেয়ারবাজারনিউজ ডট কম: ঠিক কি পরিমাণ মৃত্যুদাবি আপনারা পূরণ করেছেন?

ডা: এবিএম জাফর উল্লাহ: আমাদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোট বীমা পলিসির প্রায় ১.২ শতাংশ মৃত্যুদাবি আমরা পরিশোধ করেছি। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছর আমরা প্রায় ১৪ কোটি টাকার দাবি পরিশোধ করেছি।

শেয়ারবাজারনিউজ ডট কম: বীমা অধিদপ্তর এবং আইডিআরএ’র পাশাপাশি আপনারা অর্থাৎ পদ্মা ইসলামি লাইফ ইনস্যুরেন্সের পক্ষ থেকে কি বীমা কর্মীদের জন্য কোনো ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজনের পরিকল্পনা আছে কি?

ডা: এবিএম জাফর উল্লাহ: আইডিআরএ প্রশিক্ষণ চালু করার আগে থেকেই আমরা আমাদের মাঠকর্মীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছি। সেটা আমরা আমাদের নিজস্ব কৌশলে দেই। অন্যদিকে বীমা নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর যে প্রশিক্ষণ দেয় সেটা সার্বজনিন প্রশিক্ষণ। এ ধরণের প্রশিক্ষণে শুধুমাত্র মাঠপর্যায়ের বীমা কর্মীদের অর্থাৎ এজেন্টদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। কিন্তু আমরা এর চেয়ে উপরের স্তরের কর্মকর্তাদেরও প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। কখনও কখনও কোম্পানির পরিচালকদেরও এ ধরণের প্রশিক্ষণের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

শেয়ারবাজারনিউজ ডট কম: শেয়ার বাজারে লাইফ ফান্ডের যে বিনিয়োগ থাকার কথা তা কি আদৌ হচ্ছে? আর হলেও কি পরিমাণ হচ্ছে বলে আপনি মনে করেন?

ডা: এবিএম জাফর উল্লাহ: শেয়ারবাজারে আমাদের বিনিয়োগ করার ব্যাপারে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা আছে। নির্দেশনা অনুযায়ি বিনিয়োগ করা হচ্ছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়গুলোতে শেয়ার বাজার যেমন পাগলা ঘোড়ার মত আচরণ করছে তাতে করে আমরা সাধারণ মানুষের এ টাকা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের বিষয়ে যথেষ্ট সচেতন এবং সাবধানি। শেয়ারবাজারে এখন আমাদের প্রায় ৫-৬ কোটি টাকার বিনিয়োগ আছে।

শেয়ারবাজারনিউজ ডট কম: বিভিন্ন সময় দেখা যায় বীমা কোম্পানির শাখা অফিসগুলোতে পলিসি করানোর পর একটি সময় ওই শাখা বন্ধ হয়ে যায় বা শাখার কর্মকর্তাদের আর খুঁজে পাওয়া যায় না। অর্থাৎ সাধারন মানুষের কষ্টের টাকা নিয়ে জালিয়াতি করা হচ্ছে। কোম্পানিগুলো এর দায় কতটুকু নিচ্ছে?

ডা: এবিএম জাফর উল্লাহ: নগদ টাকা হাতে আসলে দুর্নীতি করার প্রবণতা বেড়ে যায়। অনেক সময় দেখা যায় শুধুমাত্র মাঠকর্মীরাই না। এমনকি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও একত্রে টাকা আত্মসাৎ করছে। আমাদের এখানে একেবারে নিচু পর্যায় অর্থাৎ মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে টাকা আত্মসাৎ করার প্রবনতা আছে। তবে এসব কর্মকান্ড প্রতিহত করার জন্য আমরা প্রধান শাখা থেকে নিয়ন্ত্রন আরও জোরদার করেছি। এতে করে ২ বা ৩ শতাংশ ক্ষেত্রে হয়তো এখনও দূর্বলতা আছে, বাকিটা আমরা কাটিয়ে উঠেছি। কোনো ব্যক্তি যদি ভুয়া পরিচয় দিয়ে কোম্পানির নামে টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়ে যায়, সেক্ষেত্রে আসলে কোম্পানির কিছু করার থাকে না। এ ব্যাপারে জনগনকে আরও সচেতন হতে হবে। আমরা বিভিন্ন সময় পত্র-পত্রিকায় বা প্রচারনার মাধ্যমে সাধারন জনগনকে জানানোর চেষ্টা করি। পরিষ্কারভাবে এটি প্রকাশ করি আমাদের কোম্পানির নিয়োগপ্রাপ্ত ক্যাশিয়ার ব্যতিত আর কারও সাথে টাকার লেনদেন করবেন না। এমনকি, যদি কোনো শাখা বন্ধ হয়ে যায় তাহলে অনুমোদিত মানি রিসিটসহ নিকটস্থ শাখায় যোগাযোগ করলে বীমার পলিসি নিয়মিত করে দেয়া হয়। কোম্পানির ইস্যুকৃত মানি রিসিট নিয়ে আসলে গ্রাহকের ওই পলিসি যে কোনো অবস্থায় নিয়মিত করে দেয়ার ব্যপারে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ । এমনকি এতে যদি কোম্পানি আর্থিকভাবে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্থও হয়, এরপরও গ্রাহকদের স্বার্থকেই বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকি।

শেয়ারবাজারনিউজ ডট কম: কোম্পানি হিসেবে পদ্মা লাইফ ইনস্যুরেন্সের লক্ষ্য কি?

ডা: এবিএম জাফর উল্লাহ: লক্ষ্য মূলত শুধু ব্যবসা করা নয়। আমরা চেয়েছি আমাদের এ ক্ষুদ্র প্রয়াস এবং স্বল্প বিনিয়োগ দেশের বেকার জনসাধারনের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করুক। আর আমরা এ লক্ষ্যে সফলও হয়েছি বলে মনে করি। মাঠ পর্যায়ে প্রায় ৪০ হাজার বীমাকর্মী কোম্পানির পক্ষে এখন কাজ করছে। কোনো সাধারন গ্রাম্য বিধবা বা খেটে খাওয়া মানুষ এ ব্যবসার কারনে নুন্যতম ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা উপার্জন করলেও আমরা নিজেদের সফল মনে করবো। গ্রামের মেহনতি মানুষের জন্য কিছু করাটাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। আর বীমা পলিসির টাকা দেশের অর্থনৈতিক পরিসঞ্চালনে একটা বিরাট ভূমিকা রাখছে। যেমন কমিশনের টাকায় সে বিভিন্ন পারিবারিক খরচ করে ফলশ্রুতিতে তাদের বায়িং ক্যাপাসিটিও বাড়ে । কোম্পানির যা অর্থ থাকে তা দিয়ে কোম্পানি কাঠামোগত কাজ করে বা অন্য কোনো খাতে ব্যয় করে, এ টাকা তো দেশের অর্থনীতিতে বিশাল ভূমিকা রাখছে। এভাবে এ টাকার মাধ্যেমে দেশের মানি সার্কুলেশন ব্যবস্থায় বিরাট অবদান রাখছে।

শেয়ারবাজারনিউজ ডট কম: বর্তমানে রাজনৈতিক অস্থিরতায় বীমা ব্যবসার ক্ষতি কতটা হচ্ছে?1423587663609

ডা: এবিএম জাফর উল্লাহ : গত প্রায় ৩০ দিনে যে অব্যবস্থাপনা এবং হরতাল অবরোধের নামে যা করা হচ্ছে তাতে করে তো সাধারণ মানুষ রাস্তায় চলাফেরাই করতে পারছে না। সেখানে আমার বীমা কর্মীরা কিভাবে বীমা করাতে যাবে আর সাধারণ মানুষকেই বা কিভাবে বীমা করানোর কথা বলবে? জনগণ রাজনৈতিক বা অন্য কোনো কারণে শান্তিতে না থাকলে তো আমাদের ব্যবসাও ভালো থাকবে না।

শেয়ারবাজারনিউজ ডট কম: সামাজিক দায়বদ্ধতায় আপনারা কি করছেন?

ডা: এবিএম জাফর উল্লাহ : শীতের সময় আমরা প্রতি বছর সাধারণ মেহনতি মানুষের জন্য কম্বল বিতরণ করি। এ বছরও করেছি। এর পাশাপাশি প্রতিবছর বিশ্ব ইজতেমায় মুসুল্লিদের জন্য খাবার পানি ও শুকনো খাবার সরবরাহ করি। এর বাইরেও আমাদের গরীব কর্মচারিদেরকে সিএসআরের টাকা থেকে সাহায্য সহযোগিতা এবং চিকিৎসার জন্য আলাদা করে টাকা দিয়ে থাকি।

শেয়ারবাজারনিউজ ডট কম : সর্বশেষ কথা, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জণ্য কিছু বলুন।

ডা: এবিএম জাফর উল্লাহ : সামাজিক বিনিয়োগের একটা বিশাল ক্ষেত্র হলো বীমাতে বিনিয়োগ করা। অল্প টাকায় এত লাভজনক বিনিয়োগ আর হয় না। কারণ আমরা মাত্র ১৮ কোটি টাকা মূলধনের কোম্পানিতে যে পরিমাণ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়েছে; ১৮০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেও মনে হয় না এমন কর্মসংস্থান তৈরী করা সম্ভব হবে। সবশেষে বলতে চাই বীমা সেবার বিষয়ে সরকারকে আরও আন্তরিক হতে হবে। যেমন আমরা বিকেএমইএ’র সাথে চুক্তি করেছি যাতে করে কোনো শ্রমিকের শুধুমাত্র কারখানায় আগুন লেগে মারা গেলে নয় বরং যে কোনো ধরনের দূর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর কারণে ২ থেকে ৩ লাখ টাকার বীমা দাবি পরিশোধ করা হয়েছে। সরকারের সহযোগীতায় এমন উদ্যোগ আরও নেয়া হলে এ শিল্পের জন্য পথ আরও প্রসারিত হবে।

শেয়ারবাজার নিউজ ডট কম : আপনাকে ধন্যবাদ।

ডা: এবিএম জাফর উল্লাহ : আপনাকেও ধন্যবাদ।

 

আপনার মন্তব্য

Top